ওসির কক্ষে সাংবাদিকের ‘হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি’ ইউপি চেয়ারম্যানের 

ওসির সামনেই ইউপি চেয়ারম্যান তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন বলে অভিযোগ ওই সাংবাদিকের। 

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Feb 2024, 04:18 PM
Updated : 16 Feb 2024, 04:18 PM

ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানায় ওসির কক্ষে সাংবাদিকের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। ওসির সামনেই ইউপি চেয়ারম্যান ওই সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালাগালও করেন।  

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারাকান্দা থানা কার্যালয়ের ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি, হুমকি পাওয়া জাগোনিউজ২৪ডটকমের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ও স্থানীয় দৈনিক ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মঞ্জুরুল ইসলামের। 

তার অভিযোগ, তখন নিরব ভূমিকা পালন করেছেন ওসি মো. ওয়াজেদ মিয়া।  

হুমকি দেওয়া মো. খাদেমুল আলম শিশির তারাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। 

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, উপজেলার পলাশকান্দার কান্দাপাড়া গ্রামে বৃদ্ধ জালাল উদ্দিন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। 

আশপাশের সবার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও পারিবারিক বিরোধের কারণে জালালের বাড়িতে সংযোগ দিতে বাধা দেয়া স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। 

বিষয়টি নিয়ে শিশির চেয়ারম্যান বেশ কয়েকবার সালিশও করেন; কিন্তু মিমাংসা হয়নি। পরে আরেক সালিশে শর্ত দেওয়া হয়, জালাল উদ্দিনের বৃদ্ধা স্ত্রীকে প্রকাশ্যে সবার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। 

কিন্তু ওই নারীর দাবি, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। তাই ক্ষমাও চাইবেন না।  

মঞ্জরুল ইসলামের দাবি, এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরির জন্য তথ্য সংগ্রহে গেলে তাকে হুমকি দেন শিশির। এরপর তিনি ওই এলাকা থেকে তারাকান্দা থানায় আসেন। 

পরে মোবাইল ফোনে মঞ্জুরুলকে থানায় ডেকে নেন ইউপি চেয়ারম্যান শিশির। 

তারাকান্দা থানার ওসি ওয়াজেদ আলী বলেন, “থানার বাইরে দুজনের মধ্যে উচ্চবাচ্য হয়েছে। পরে থানায় এসেও তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী থানায় আসেন। তারাও উচ্চবাচ্য করেছেন।”  

ওসি আরও বলেন, “আমি দীর্ঘদিন শহরে কাজ করেছি। এখন তারাকান্দা থানায় আসছি। চেষ্টা করি, সবার সাথে মিলেমিশে থাকার। তাই ঘটনার শেষে দুজনকে মিলিয়ে দিয়েছি। এরপরও সাংবাদিক মঞ্জুরুল ইসলাম যদি শিশিরের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দেন, অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”  

ঘটনার বিষয়ে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান খাদেমুল আলম শিশিরের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহমেদ ভুঁঞা বলেন, “ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে অভিযোগ দিলে অবশ্যই কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”