০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

কুড়িগ্রামে ‘মাদকাসক্ত’ ছেলের প্রাণনাশের হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মা

মাদকের ঘটনায় পাঁচ মাস জেল খেটে একদিন আগে মুক্তি পেয়েছেন রাজু।

কুড়িগ্রামে ‘মাদকাসক্ত’ ছেলের প্রাণনাশের হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মা

নাসিমা বেওয়া।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 02 Nov 2026, 08:46 PM

Updated : 02 Nov 2026, 08:49 PM

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় মাদক মামলায় পাঁচ মাস জেল খেটে বেরিয়ে এসে মাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলে বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এক নারী।

সোমবার ওই নারীকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দিয়েছেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ।

ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের কামাতআঙ্গারীয়া গ্রামের (দফাদার পাড়া) প্রয়াত হবিবর রহমানের স্ত্রী নাসিমা বেওয়া (৪৭)। তিন বছর আগে স্বামী মারা যাবার পর ছেলে রাজু মিয়া (২২), তার স্ত্রী, নাতি মিনহাজ (৭) ও ছোট ছেলে লিমনকে (১৮) নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করতেন তিনি।

বড় ছেলে রাজু মিয়া মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বছর খানেক আগে সন্তান ও স্বামী রেখে ঢাকায় চলে যান স্ত্রী। এরপর থেকে রাজু আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

প্রতিবেশীরা জানান, মাদকের টাকার জন্য মায়ের ওপর নানা অত্যাচার, নির্যাতন ও ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে দেন রাজু। এ অবস্থায় চলতি বছরের ২ জুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে রাজুকে ১০০ টাকা জরিমানা ও পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক।

স্বজনরা জানান, রাজু জেলে যাবার পর তার ছোট ভাই লিমন ভয়ে ঢাকায় চলে যান। এর মধ্যে পাঁচ মাস জেল খেটে রোববার মুক্তি পেয়েই মোবাইলে মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন রাজু। কোনো উপায় না পেয়ে মা নাসিমা নাতিকে নিয়ে ওইদিনই বাপের বাড়ি পাইকের চড়া চলে যান।

বাড়িতে ফিরে রাজু ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালান এবং মাকে খুঁজতে থাকেন। এ ঘটনা নিয়ে রাতেই নাসিমা থানায় গেলে পুলিশ ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

পুলিশের পরামর্শে এদিন দুপুরে ইউএনওর দপ্তরে গিয়ে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রাণ বাঁচানোর দাবি জানান নাসিমা।

প্রাণ বাঁচানোর অকুতি জানিয়ে নাসিমা বলেন, “আমি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। থানায় গেছি, তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে যেতে বলেছে। ওনার কাছে আসলাম উনি আবার থানায় যেতে বলল। রাজু দেখা পেলে আমাকে মেরে ফেলবে।”

সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল লতিফ বলেন, “নাসিমার বাড়িতে ভাঙচুরের খবর পেয়ে রাতেই আমি ঘটনাস্থলে যাই। কিন্তু রাজু কোনো কথাই শুনতে চায় না।

“সে তার মাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে এবং ঘরের তালা ও বেড়া ভেঙে ফেলেছে। মাঝে মাঝে সে আত্মহত্যার হুমকিও দিচ্ছে। প্রাণ ভয়ে তার মা নাতিকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।”

ইউএনও অমৃত দেব নাথ বলেন, “অভিযোগকারী মহিলা আমার কাছে এসেছিল, তাকে থানায় জিডি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, “উনি (নাসিমা) এসেছিলেন কিনা আমি কোর্টে থাকার কারণে জানি না। উনি আসলে জিডি গ্রহণ করা হবে।”