নীলফামারীতে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে লাঠির আঘাতে প্রাণ গেল মায়ের
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় জমির দখল ও ফসল কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে ছেলের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ডিমলা থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম।
বুধবার সকালে নিহতের ছেলে মামলা করেন দুপুরে গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
নিহত মিনার বেগম মিনা (৩৫) ওই এলাকার জামিনুর রহমানের স্ত্রী।
গ্রেপ্তাররা হলেন- উত্তর সোনাখুলি গুচ্ছগ্রাম এলাকার আয়াতুল্লাহ মুন্সির ছেলে সামছুল হক (৬৫), আয়নাল হকের ছেলে সবুজ (২৮), আয়নালের স্ত্রী মোছা. ছবিরন (৫০) এবং মেয়ে রাহেনা বেগম (২৫)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় এক বছর আগে মিনার বেগমের ছেলে মিলনের সঙ্গে আয়নাল হকের মেয়ে মোছা. হামিদা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়েতে যৌতুক হিসেবে জামাই মিলনকে একটি জমি দেন আয়নাল হক।
তবে কিছুদিন পর ওই জমির দখল ও চাষাবাদ নিয়ে মিলনের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশি বৈঠকও হয়।
সবশেষ সোমবার সালিশে উভয়পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয় যে, বিরোধীয় জমির বর্তমান ধান কেটে নেবেন মিলন। ধান কাটা শেষে পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।
মঙ্গলবার বিকালে গবাদি পশুর খাদ্য কাটার জন্য মিলনের ছোট ভাই মস্তো মিয়া (১৪) ওই জমিতে যায়। এ সময় আয়নাল হক ও তার ছেলে সবুজসহ কয়েকজন মিলে মস্তোর ওপর চড়াও হন এবং মারধর করেন। মস্তোর চিৎকারে তার মা মিনা বেগম ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
এ সময় হামলাকারীরা মিনা বেগমের ওপরও চড়াও হয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এক পর্যায়ে হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে লুটিয়ে পড়েন মিনা বেগম। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ছামিদুল ইসলাম ও গোলাম মোস্তফা বলেন, মিনা বেগমের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও মিলনের শ্বশুর বাড়ির লোকজন ওই জমির ধান কাটা শুরু করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় জনতা চারজনকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ চারজনকে থানায় নিয়ে যায়।
ওসি আশরাফুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে যৌতুকের জমি ও ফসল কাটাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে সত্যতা পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, আটকদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
