১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দশম গ্রেডের দাবিতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি

আন্দোলনের কারণে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

বিডিনিউজ২৪

রাজবাড়ী প্রতি‌নি‌ধি. কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Dec 2025, 06:10 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:14 PM

দশম গ্রেডে বেতনের দাবিতে রাজবাড়ী‌ ও কুড়িগ্রামে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টরা কর্মবিরতি পালন করেছেন।

কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ফার্মেসি ও ল্যাবরেটরির সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে সেবাগ্রহীতাদের।

বুধবার সকাল ৮টা থেকে দুপু‌র ১২টা পর্যন্ত রাজবাড়ীতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। দাবি আদায় না হলে ৪ ডিসেম্বর থেকে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালনের মাধ্যমে হাসপাতাল ‘শাটডাউন’ ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

রাজবাড়ী টেকনোলজিস্ট প‌রিষদের সভাপ‌তি মো. আক্কাস আলী ব‌লেন, “আমার চাক‌রি প্রায় শে‌ষের দি‌কে। চাক‌রির শুরু থে‌কেই ১০ম গ্রেডের দা‌বি জা‌নি‌য়ে আস‌ছি। কাগজপত্র সব রে‌ডি ক‌রে পাঠা‌লে জনপ্রশাসন মন্ত্রণাল‌য়ে গি‌য়ে আট‌কে যায়।

“ওখা‌নে স‌চিব বদ‌লি হ‌লে আবার নতুন স‌চিব‌কে বুঝা‌তে হয়। এই বোঝা‌তে বোঝা‌তে আমা‌দের চাক‌রি জীবন শেষ হ‌য়ে যা‌চ্ছে কিন্তু দশম গ্রেড বাস্তবায়ন হ‌চ্ছে না।”

কর্মবিরতির মধ্যে সকালে হাসপাতালে সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়েন রোগীরা। সদর উপ‌জেলার মৌকু‌ড়ি চর থে‌কে আসা আব্দুস সালাম ব‌লেন, “সকাল ৭টায় হাসপাতা‌লে আয়‌ছি। ডাক্তার দ‌্যাখাইছি। এহন দাঁড়া আছি ওষু‌ধের জন্নি। ওষুধ তো দি‌চ্ছে না। ক‌চ্ছে ১২টার পর দেবে।”

পা‌শেই দাঁড়ি‌য়ে ছি‌লেন আরেক সেবাগ্রহীতা ম‌মেনা বেগম। তি‌নি ব‌লেন, “আমি সূর্যনগড় থে‌কে আইছি। আমরা গ‌রিব মানুষ টাকা নাই ব‌লে হাসপাতা‌লের ওষুধ খাই। সকা‌লেরতে ওষুধ দি‌চ্ছে না। আর কতক্ষুণ দাঁড়া থাক‌পো, পা তো ব‌্যতা হ‌য়ে গে‌লে।”

এদিকে সকালে নিজ নিজ কর্মস্থলে কর্মবিরতি দিয়ে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

কর্মবিরতির ফলে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। বিশেষ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ থাকায় অনেকেই বিপাকে পড়েন। পাশাপাশি ফ্রি ওষুধ নিতে আসা রোগীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হয়।

অবস্থান কর্মসূচিতে জ্যেষ্ঠ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হাফিজুর রহমান, আরিফুল ইসলাম আরিফ, এরশাদ আলী, রোকনুজ্জামান সরকার রোকন, পরিবার পরিকল্পনার ফার্মাসিস্ট রাসেল অভি, ফার্মাসিস্ট আসাদুজ্জামান শামীম এবং মমিনুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সমশিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, নার্স ও কৃষিবিদদের মত তাদের ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়নি। তাদের অভিযোগ, বারবার কাগজ যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক জটিলতার কারণে ন্যায্য দাবিটি বছরের পর বছর আটকে আছে।

দ্রুত ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, অর্ধদিবস কর্মবিরতি চলছে; দাবি অগ্রগতি না হলে লাগাতার ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করা হবে।

উলিপুর থেকে শিশু সন্তানের চিকিৎসা নিতে আসা আব্দুস সাত্তার বলেন, “সকালে এসে ডাক্তারের সাক্ষাৎ পেয়েছি। ডাক্তার আমার শিশুর রক্ত ও সর্দিসহ কয়েকটি পরীক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু পরীক্ষা করাতে এসে দেখি কর্মবিরতি চলছে। 

“আমি গরিব মানুষ, বাইরে পরীক্ষা করাতে গেলে অনেক খরচ পড়ে। তাদের দাবি যদি ন্যায্য হয়ে থাকে, সরকার মেনে নিক। তারা কাজে ফিরলে আমাদের মত গরিব রোগীদের ভোগান্তিও কমবে।”