Published : 21 Jun 2026, 10:45 PM
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার জিবাল আহমদ ১০ বছর ধরে কাতারে কাজ করতেন। ছয় মাস আগে দেশে এসেছিলেন তিনি। দেশে এসে পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ফিরে যান।
সামনে শীতের সময় আবার ছুটিতে আসার কথা ছিল তার। কিন্তু তার আগেই কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেছে জিবালের প্রাণ। তার সঙ্গে নিহত হয়েছেন আরও চার বাংলাদেশি।
ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের বাসিন্দা জিবালের চাচা আব্দুল খালিক বলছিলেন, “ওখন আমার বাতিজা আসবে, তবে লাশ হয়ে।”
জিবাল ওই গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে। বাড়িতে মা, স্ত্রী, দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। জিবালের ছোট ভাই সৌদিতে থাকেন।
পরিবার জানিয়েছে, রোববার সকালে কাতারের আল-শাহানিয়া শহরে কাজে যাওয়ার পথে এক গাড়িতে থাকা পাঁচ বাংলাদেশি নিহত হন।
নিহত প্রবাসীরা হলেন- সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের মাঝতালুক গ্রামের সলিম উল্লাহর ছেলে মোস্তাক আহমদ (৩০), মৃত আহসান উল্লাহর ছেলে জুবায়ের আহমদ (৩০), আগতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩০), আমরপুর গ্রামের আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল আহমদ (৩৬) এবং দক্ষিণবাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ি নয়াগ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদির আহমদ (২৪)।

নিহত ব্যক্তিদের স্বজনরা জানান, ওই পাঁচজন একটি প্রাইভেট গাড়ি করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। এ সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা প্রাণ হারান। নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ কাতারের স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
সরকারি খরচে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনাসহ সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য নিহতদের স্বজনরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
আব্দুল খালিক বলেন, “আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খবর খবর পেয়েছি, আমার ভাতিজা জিবাল সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। তার কিছু সময় পর আবার খবর আসে সে মারা গেছে।”
তিনি বলেন, “জিবালের বাচ্চারা প্রাইমারি স্কুল ও মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে। বাচ্চাদের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। তার উপর পরিবারের সবার দায়িত্ব ছিল। বাপ নেই সংসারটা সেই চালাত। গত ছুটিতে এসে ছোট বোনের বিয়েও দিয়ে যায়। এখন এই পরিবার কিভাবে চলবে মালিক জানেন, একমাত্র আল্লাহ জানেন।”
গাছবাড়ি নয়াগ্রামের নিহত কাদির আহমদের বাবা বাহার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, চার বছর আগে তার ছেলে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরাতে কাতারে পাড়ি দিয়েছিলেন। আগামী মাসে কাদিরের দেশে ফেরার কথা ছিল। যারা মারা গেছেন তারা দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তারা কাতারের একটি কৃষি খামারে কাজ করতেন।
ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল লতিফ বলেন, “কাতারে মারা যাওয়া কারও পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়, বেহাল অবস্থা। বিদেশ থেকে লাশ আনাসহ নিহতের পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। কারও কারও পরিবারের ধার-দেনাও রয়েছে।”
নিহত জসিম উদ্দিনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, তিন বছর আগে তার স্বামী জীবিকার তাগিদে কাতার যান। পরিবার তার আয়-রোজগারের উপর নির্ভরশীল ছিল।
তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ায় দুই শিশু সন্তান নিয়ে এখন কিভাবে সংসার চালাব বুঝতে পারছি না।”
কানাইঘাট থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা জেনেছি, কাতারের আল শাহানিয়ার সামাল এলাকায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আমরা তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। ওইখানে সকল প্রক্রিয়া শেষে লাশ দেশে আসামাত্র পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না কবে লাশ দেশে ফিরতে পারে।”