Published : 27 Apr 2026, 01:37 AM
চুনাপাথর পুড়িয়ে চুন তৈরি সিলেটের ছাতকের ঐতিহ্যে পরিণত হলেও এখন তা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চুন তৈরির বিশেষ মাটির চুলা ‘পাজু’তে কাঠের ব্যবহার এবং যত্রতত্র অনুমোদনহীন এসব চুলা গড়ে তোলা হচ্ছে। বিষয়গুলো জেনেও স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে নিরব বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছাতক পৌরসভা ও সংলগ্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক চুন তৈরির ‘পাজু’ স্থাপন করা হয়েছে। ভারত থেকে চুনাপাথর আমদানি করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় এখানে পুড়িয়ে চুন তৈরি করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যখন চুলাগুলো জ্বালানো হয়, তখন সেগুলো একটানা ২০-২৫ দিন ধরে জ্বলে। তখন আশপাশের এলাকায় ধোঁয়া ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না। কাঠের ব্যবহারের কারণে এখানে অসংখ্য গাছ কাটা পড়ছে। মানুষের সমস্যা হলেও কেউ কিছু বলতেও পারছেন না। কারণ, চুনাপাথর আমদানি ও চুন তৈরির ব্যবসায় যারা জাড়িত আছেন; তারা ‘রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে’ প্রভাবশালী।
এ ব্যাপারে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন, “চুন পোড়ানোর বেশিরভাগ ‘পাজু’ এর কোনো অনুমোদন নেই। তবে গ্যাসের কিছু পাজুর সরকারি অনুমোদন রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বনবিভাগ মিলে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধ তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। সেগুলো অভিযান পরিচালনা করে ভেঙে দেওয়া হবে।”

‘পাজু’ এর রূপান্তরের ধারা
ইতিহাসবিদ ও স্থানীয়রা বলেন, ছাতকে চুনাপাথর পুড়িয়ে চুন তৈরির ইতিহাস বেশ পুরনো। ষোড়শ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ‘ছাত্তিরবাজার’, ‘ছাতারবাজার’ এবং পরে ছাতকবাজার নামে এখানে ব্যবসাকেন্দ্রের গোড়াপত্তন হয়।
১৭৭৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সময় জর্জ ইংলিশ ব্যবসা করার জন্য সপরিবারে এখানে অবস্থান করে চুনাপাথরের ব্যবসার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। সেসময়ে ছাতক চুন শিল্প বিশ্বজুড়ে পরিচিতি ও খ্যাতি পায়। ১৮৬৯ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে এ অঞ্চলে নৌপথে ব্যবসার প্রসার ঘটে।
উনিশ শতকের গোড়ার দিকে কমলালেবু ও চুন ব্যবসার সঙ্গে এখানে সিঙ্গেল-বোল্ডার ও বালু-পাথরের ব্যবসা আরও সমৃদ্ধি লাভ করে। চুনাপাথরের সহজলভ্যতায় ১৯৩৭ সালে ৬০ হাজার টন উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে সুরমা নদীর উত্তর পারে প্রতিষ্ঠিত হয় আসাম-বেঙ্গল সিমেন্ট কারখানা। (১৯৬৫ সালে এটি ছাতক সিমেন্ট কারখানা নামে অভিহিত হয়।) প্রায় ২০ কিলোমিটার রোপ লাইনের (রজ্জুপথ) মাধ্যমে ভারতের আসাম রাজ্যের কুমরায় নিজস্ব খনি থেকে চুনাপাথর নিয়ে আসা হয়।
চুনাপাথরের সহজলভ্যতার কারণে এখানে চুন শিল্পেরও প্রসার ঘটে। এ ব্যবসার সঙ্গে এলাকার অনেক মানুষ জড়িত। শুরুতে ধানের খড় বা ছন দিয়ে পাজুতে আগুন দেওয়া হত। পরে চুলায় গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এটি একটু ব্যয়বহুল।
ব্যবসায়ীরা সাম্প্রতিক সময়ে বেশি লাভের আশায় নিয়ম-নীতি না মেনেই পৌর শহর, রাস্তার পাশ ও ধান খেতের আশপাশে গড়ে তুলেছেন মাটির তৈরি একাধিক পাজু।
ছাতক লাইমস্টোন ইম্পোটার্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স গ্রুপের সভাপতি সেলিম চৌধুরী বলেন, “এক সময় ছাতকে ছনের পাজু ছিল; যেগুলোতে গাছের কাঠ ব্যবহার করা হত না। ছন পুড়িয়ে চুন তৈরি করা হত। পরে গ্যাসের পাজু চালু হয়। তবে দুই বছর ধরে গাছের পাজু চালু হয়েছে। ছাতকের তাতিকোনা এলাকায় প্রথম কয়েকটি গাছের পাজু চালু হয়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে।

যত্রতত্র ‘পাজু’
ছাতক থেকে সিলেট পথে নিয়মিত অটোরিকশা চালান হোসেন আলী। তার ভাষ্য, গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছাতক যাওয়ার সড়কের পাশে আগে কোনো চুন তৈরির চুলা ছিল না।
“মাস দুয়েক আগে দেখি রাস্তার পাশে পাজু তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই সড়কের হাসনাবাদ থেকে ছাতক শহরে প্রবেশমুখ নতুন ব্রিজের আগে অন্তত ৫০টি পাজু গড়ে তোলা হয়েছে।
“এছাড়া পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানেও রয়েছে চুনাপাথর পোড়ানোর পাজু। এখানে যখন আগুন দিয়ে চুনাপাথর পোড়ানো হয় তখন চারপাশে ধোঁয়া থাকে। সবগুলোতে একসঙ্গে চুনাপাথর পোড়ানো শুরু হলে ধোঁয়াতে চারপাশ ভরে ওঠে। এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা প্রভাবশালী। তাই কেউ তাদের বাধা-নিষেধ দিতে যায় না।”
একই কথা বলেন ছাতকের কালারুকা গ্রামের আজমল মিয়া। গ্রামের রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কথা হচ্ছিল তার সঙ্গে। তিনি বলছিলেন, “কালারুকা গ্রামের অনেকে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গ্রামে নতুন করে পাজু তৈরি করা হচ্ছে। যারা চুনাপাথর আমদানি করেন তারাই পাজু তৈরি করে চুন বানিয়ে বিক্রি করেন। কেউ কেউ নিজের জায়গাতে, কেউবা অন্যের জায়গা ভাড়া নিয়ে পাজু বানাচ্ছেন।”
তার তথ্য মতে, কালারুকা গ্রামসহ নতুন ব্রিজ এলাকায় অনেক পাজু গড়ে ওঠেছে। গ্রামের ভেতরে থাকা খালি জায়গাতে বিশেষ এ চুলা বানিয়ে চুন তৈরি করা হচ্ছে।
তবে এসব বিশেষ চুল্লীর বা পাজুর কোনো অনুমোদন না থাকার তথ্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক।

তিনি বলেন, “গাছের কাঠ দিয়ে চুন তৈরির জন্য পাঁচটি পাজুর মালিক অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আমরা তাদের বলে দিয়েছি, গাছ পুড়িয়ে চুন তৈরি করার পাজুর অনুমতি নেই; কারণ এটি পরিবেশবান্ধব না। গ্যাসের পাজু হলে বিবেচনা করা হবে।”
ছাতকে কতটি কাঠ পুড়িয়ে চুন তৈরির ‘পাজু’ আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাছের ২৫টি পাজুর মালিককে বন্ধ করার জন্য নোটিস করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে গাছের পাজু বিনষ্ট করা হবে।
“আমরা উপরে চিঠি লিখেছি।”
গোবিন্দগঞ্জ বাজার থেকে ছাতক উপজেলা সদরে সম্প্রতি যাওয়ার সময় সড়কে হাসনাবাদ গ্রামের পাশে ধান ক্ষেতেও ‘পাজু’ তৈরি করতে দেখা গেছে। ধান ক্ষেতের মাঝে পাজু তৈরির জন্য মাটি দিয়ে উঁচু করা হয়েছে।
ছাতক শহরে ঢোকার আগে সুরমা নদীর উপর ব্রিজ। এর আগেই ‘পাগল হাসান চত্বর’। ওই এলাকায় গিয়ে দেখা মিলেছে একাধিক পাজুর। ব্রিজে যাওয়ার রাস্তার দুপাশ, রাস্তা সংলগ্ন খেলার মাঠের ধান ক্ষেতের পাশে গড়ে তোলা হয়েছে বিশেষ এ চুলা।
এগুলোর কোনোটায় চলছে চুনাপাথর পোড়ানো, কোনোটায় মাটি দিয়ে নির্মাণ কাজ। পাশে রাখা আছে চুনাপাথর ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের কাঠ।
পাগল হাসান চত্বর থেকে ছাতক পৌর শহরে যাওয়ার রাস্তার দুপাশে আরও ‘পাজু’র দেখা মিলেছে। এ ছাড়া পৌর শহরের পেপার মিল এলাকার বাসিন্দাদের ঘরবাড়ির সামনেও গড়ে তোলা হয়েছে পাজু। পাগল হাসান চত্বর থেকে পৌর শহর এলাকায় অন্তত ৫০টি এমন চুলা রয়েছে।

‘হাজার মণ চুন তৈরিতে ১৮০০ মণ কাঠ’
সুরমা ব্রিজ এলাকার একটি পাজুতে গিয়ে সম্প্রতি দেখা যায়, শ্রমিকরা কেউ মাটি কাটছেন, কেউবা বিশেষ চুলা বানানোর গর্ত তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এটির দক্ষিণ পাশে রাখা বিভিন্ন রকম গাছের কাণ্ড ও ডালপালা। পশ্চিম পাশে রাখা হয়েছে চুনাপাথর; যেগুলো পুড়িয়ে চুন তৈরি করা হবে।
কথা হয় চুন তৈরির জন্য বিশেষ এসব চুল্লী তৈরির প্রধান কারিগর মো. কালামের সঙ্গে। তার ভাষ্য, আট থেকে ১০ জন শ্রমিক টানা ১০-১৫ দিন পরিশ্রম করে একটি পাজু তৈরি করেন। মাটি আগে তৈরি করে রাখলে সময় কম লাগে। চুলা তৈরি হয়ে গেলে প্রথমে ভেতরে চুনাপাথর রাখা হয়, তারপর সেই পাজুর উপরে দেওয়া হয় মাটির প্রলেপ।
একটি পাজুর নিচের অংশে ১৫ থেকে ২০ ফুট গর্ত করা হয়। পেছনে রাখা হয় আগুন দেওয়ার জন্য ফাঁকা জায়গা। সেখানে পাথর ঢুকিয়ে আগুন দেওয়া হয়। টানা ১৫ থেকে ২০ দিন চুনাপাথর পুড়িয়ে চুন তৈরি করা হয়।
কারিগর কালাম বলেন, এই পাজুতে ৭৫ টন চুনাপাথর একবার পুড়িয়ে এক হাজার মণ চুন তৈরি করা হবে। এজন্য লাকড়ি (কাঠ) লাগবে ১৫০০ মণ। প্রতি মণ লাকড়ি কিনতে হয় ২০০ টাকায়। প্রতি মণ চুন বিক্রি কোনো সময় ৮০০ টাকা, কোনো সময় ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা দামেও বিক্রি হয়।
তিনি বলেন, একটি পাজু তৈরি করতে এক লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকায় চুক্তি হয়। বর্ষার কথা ভেবে অনেক মালিক আবার পাজুর উপর টিনের চালা দেন। তখন খরচ বেড়ে যায়। চুন করে দিতেও চুক্তিতে কাজ করেন শ্রমিকরা। কোনোটিতে দৈনিক ভিত্তিতে শ্রমিকরা কাজ করেন। প্রতিটিতেই একজন জ্যেষ্ঠ শ্রমিক থাকেন।
হাসনাবাদ গ্রাম পেরিয়ে কালারুকা গ্রামে প্রবেশ করতেই কয়েকটি বড় বড় পাজুর দেখা মিলে। এগুলোতে চুনাপাথর পোড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। আবার নতুন করে চুলা তৈরির কাজ করতে দেখা গেছে শ্রমিকদের। কেউ কেউ বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন।
এসব পাজুর আশপাশে গ্রামের বাসিন্দাদের ঘরবাড়িও রয়েছে। এ সময় বয়স্ক শ্রমিক আজির উদ্দির এগিয়ে এসে জানতে চান চুন কিনতে চাচ্ছি কিনা?
আলাপকালে তিনি বলেন, তাদের এখানে একসঙ্গে দুটি পাজু’ রয়েছে। তারা একটিতে ২২ দিন আগুন দিয়ে ১৪০০ মণ চুন তৈরি করেন। এই চুন বানাতে গাছ লাগে ১৮০০ মণ।

‘৮০ হাজার টন’ চুনাপাথরের কারবার
ছাতক লাইমস্টোন ইম্পোটার্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স গ্রুপের সভাপতি সেলিম চৌধুরী বলেন, ছাতকে আমদানি করা চুনাপাথর এক সময় নৌপথে ইউরোপও যেত। বর্তমানে দেশেই বেশি ব্যবহার হয়। ছাতক থেকে চুনাপাথর নৌপথে বিভিন্ন জায়গাতে যাচ্ছে। বেশির ভাগ চুনাপাথর ঢাকাতে যায়।
তার নিজের একটি গ্যাসের পাজু চালু থাকার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ছাতকে বর্তমানে তিনটি গ্যাসের পাজু চালু আছে। গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়াসহ নানা কারণে ১৫টি বন্ধ রয়েছে। এগুলো নিয়ম মেনেই বানানো হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে।
কাঠের পাজুর বিষয়ে তিনি বলেন, “সুরমা নদীর দুপাড় মিলে ৫০টির মত গাছের পাজু রয়েছে। জানা মতে, গাছের পাজুর কোনো অনুমতি নেই। তবে তারা কীভাবে চালাচ্ছেন সেটি জানা নেই।”
সেলিম চৌধুরী বলেন, “বর্তমানে প্রতি টন চুনাপাথর ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩০০০ হাজার টাকায় আমদানি করা হচ্ছে। ১৪০০ মণ চুন তৈরিতে প্রায় ১৫০ টন চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়েছে। এক মণ চুন সময় ভেদে ১০০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়। কখনও আরও কম দামেও বিক্রি হয়।”
ছাতক লাইমস্টোন ইম্পোটার্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক অরুণ দাস বলেন, “ছাতকে প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার টন চুনাপাথর আমদানি করা হয়। গ্যাস আর কাঠ মিলে ৫০-৬০টি পাজুতে চুনাপাথর থেকে চুন তৈরি করা হয়। প্রতিবছর একটি পাজুতে তিন থেকে চারবার চুন করা যায়।”

পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা- ধরা এর কেন্দ্রীয় সংগঠক ও সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, দেশে মূলত নারায়নগঞ্জে গ্যাসের সাহায্যে বিশেষায়িত চুল্লির মাধ্যমে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে চুনাপাথর পুড়িয়ে চুন তৈরি করতে বেশ কিছু কারখানা গড়ে ওঠেছে। মারাত্মক পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝঁকি থাকায় এগুলো বন্ধ করে দেওয়ার দাবি ওঠছে।
তিনি বলেন, “কিন্তু ছাতকে স্থানীয় প্রযুক্তিতে পাজু নামক চুলা তৈরি করে ফসল জমি, খেলার মাঠ ও আবাসিক এলাকায় চুনাপাথর পুড়িয়ে চুন তৈরি হচ্ছে। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে চুনাপাথর পোড়ানো। অনেকটা ইটভাটার মতো; এগুলো না শিল্প, না কাররখানা। এদের না আছে অনুমোদন; না আছে কোনো তদারকি।
“চুনাপাথর পোড়ানোর সময় নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া এবং চুনের গুঁড়ো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। জমা হচ্ছে ফসলি জমিতে। এদের নেই কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও। মোট কথা ‘পাজু’ নামক চুলাতে কাঠ দিয়ে চুনাপাথর পুড়িয়ে চুন তৈরির বহুমাত্রিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ঝুঁকি রয়েছে। যারা এসব কাজে জড়িত তারাই মূলত: সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। আর দুর্ঘটনার আশঙ্কা তো রয়েছেই। বিষাক্ত গ্যাস ও ধুলোবালির কারণে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ, হাঁপানিসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেওয়াই বাস্তবতা।”

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, “মেঘালয় থেকে আমদানি করা চুনাপাথর ভাঙা ও পাউডারজাত করার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ইনডোর প্ল্যান্টে হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খোলা স্থানে করা হচ্ছে। শুষ্ক ও গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে বাতাসের অতিরিক্ত রুক্ষতা এবং ধুলাবালি পরিবেশে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
“ডাউকি সীমান্ত থেকে কারখানা পর্যন্ত পরিবহন প্রক্রিয়া এবং খোলা স্থানে চুনাপাথর ভাঙার ফলে আশপাশের গাছের পাতার ওপর ময়লার স্তর গড়ে ওঠে। এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য গুরুতর ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।”
এ সমস্যার সমাধানের বিষয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, সম্ভব হলে সরাসরি ফিনিশড পাথর আমদানি করা উচিত, যাতে পরিবেশগত প্রভাব কমানো যায়। এ ছাড়া ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানো এবং অন্যান্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।