Published : 07 Jul 2026, 08:07 PM
আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর পানি নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান স্বাক্ষরিত বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি বিষয়ক পূর্বাভাসে নিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। সেখানে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়।
এদিন সকাল ৯টার পর থেকে উজানে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। নীলফামারীর ডালিয়া ও লালমনিরহাটের দোয়ানী সীমানায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখে নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানান প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিস্তার পানি ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নদীর পানি ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়।
এদিন সকাল ৬টা ও ৯টায় তিস্তার লেবেল ছিল ৫১ দশমিক ৮৫ সেন্টিমিটার; যা বেলা ১২টায় ৫১ দশমিক ৮৬ এবং বেলা ৩টায় ৫১ দশমিক ৮৭ সেন্টিমিটার। সবশেষ সন্ধ্যা ৬টায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৫২ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার; যা বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।
তবে তিস্তার ভাটিতে রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার (২৮ দশমিক ৬৮) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৯ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার।
উজানে বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে উজানে ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার দো-মোহনী ও কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে তিস্তায় হলুদ সংকেত জারি করা হয় বলে ভারতীয় সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন ওয়েবসাইডে প্রকাশ করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী তিন দিন দ্রুত বাড়তে পারে। এর মধ্যে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
একই সময় ধরলা ও দুধকুমার নদী লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার কিছু স্থানে সতর্ক সীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া তিস্তায় কমলা সংকেত জারি করা হয়েছে।
চলতি বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদী প্রথম বিপৎসীমা অতিক্রম করে ২৩ জুন। সেই সময় বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এরপর পানি নেমে যায়। দ্বিতীয় দফায় ২৮ জুন বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহিত হয়; যার ১২ ঘণ্টা পর পানি কমে বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে।