Published : 12 Sep 2025, 06:01 PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-রাকসু নির্বাচনকে ঘিরে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি ও ভিডিওর গোপনীয়তা রক্ষায় সুরক্ষা নীতি প্রণয়নসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে নারী প্রার্থীরা।
শুক্রবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন তারা। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদের’ ভিপি প্রার্থী তাসিন খান।
দাবিগুলো হল- অনলাইন আচরণবিধি ও তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া স্পষ্ট করে অফিসিয়াল সুরক্ষা নীতি প্রণয়ন, ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত আলো, সিসিটিভি ও নিরাপত্তা টহল জোরদার করে নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, সাইবার সেফটি ও জেন্ডার রেসপন্স সেল গঠন, বট বা ফেক আইডি নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অফিসিয়াল ও স্বীকৃত গ্রুপ/পেজে সদস্য যাচাই, ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি ও ভিডিওর গোপনীয়তা রক্ষায় নীতি প্রণয়ন, ডিজিটাল লিটারেসি ও সেফটি প্রশিক্ষণ চালু এবং প্রতিটি বিভাগ, হল ও প্রশাসনিক ইউনিটের জন্য ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া পেজ বা গ্রুপ চালু।
ভিপি প্রার্থী তাসিন খান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন পরিবেশ ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া পেইজে বিভ্রান্তিকর তথ্য, গুজব, চরিত্রহনন, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং নারী শিক্ষার্থীদের ছবি-ভিডিও অনুমতি ছাড়া ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
“এসব নিয়ে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ভোটার তালিকায় শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর প্রকাশ করে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়িয়েছে।”
তিনি বলেন, “এর আগে জুলাই-৩৬ হলের ঘটনায় দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন শিক্ষার্থী নারী শিক্ষার্থীকে অবমাননাকর মন্তব্য করেছে। সে বড় একটি ছাত্র সংগঠনের সদস্য।
“তার সংগঠন ব্যবস্থা নিলেও আমরা চাই, এমন পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসুক। প্রশাসনের এই বিষয়টি নিয়ে দ্রুত কাজ করা উচিত।”
সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সংসদ, হল সংসদ ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি পদের ১১ জন নারী প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর জুলাই-৩৬ হলে দেরিতে প্রবেশ করা নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে শাখা ছাত্রদল নেতার করা আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সাইবাল সেলের সদস্য অধ্যাপক মাহবুবর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগও জানান নারী শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগপত্রে ওই নেতার ছাত্রত্ব বাতিলসহ সাইবার বুলিং প্রতিরোধে লিগ্যাল সেল গঠন ও কার্যকর করা এবং ফেসবুকে অশালীন মন্তব্যকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছিলেন তারা।