Published : 22 Apr 2026, 08:18 PM
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে এক শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার রাড়ীকান্দি দারুসুন্নাত দাখিল মাদ্রাসা পরিদর্শনে যান মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহমুদা কুলসুম মনি।
তদন্তে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে ইউএনও মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মো. মামুন মিয়াকে সাময়িক বহিষ্কারের নির্দেশ দেন বলে জানান ওই মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক মো. ইসমাইল হোসেন।
বহিষ্কার হওয়া শিক্ষক মো. মামুন মিয়া রাড়ীকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
ইসমাইল হোসেন বলেন, কয়েকদিন আগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর ওই শিক্ষককে সতর্ক করা হয়। পরবর্তীতে ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনেন এবং অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রেজুলেশনের মাধ্যমে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ, মামুন মিয়া দুই থেকে তিন বছর আগে মাদ্রাসায় যোগদানের পর থেকেই তাদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। অনেক সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক নির্যাতনও করতেন। তার ভয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতেন শিক্ষার্থীরা।
বিষয়টি একাধিকবার অন্য শিক্ষকদের কাছে জানালেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি ইউএনওকে জানান শিক্ষার্থীরা।
মাদ্রাসার একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশের জন্য মাদ্রাসায় পাঠান তারা। কিন্তু শিক্ষকরাই যদি এ ধরনের অনৈতিক কাজে জড়িত থাকেন, তাহলে সন্তানের নিরাপত্তা কোথায়?
বহিষ্কার হওয়া শিক্ষক মামুন মিয়া বলেন, মাদ্রাসার পাশে একটি মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মাদ্রাসা বিরতির সময় তিনি ইমামতি শেষে ফিরে এসে দেখেন কিছু শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে অনৈতিক কাজে লিপ্ত রয়েছে। তখন তিনি তাদের বাধা দেন।
এ ঘটনার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে ইউএনওর কাছে অভিযোগ দিয়েছে বলে দাবি মামুন মিয়ার।
তিনি বলেন, “আমি এ ঘটনার সঙ্গে মোটেও জড়িত নই। তবে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক রয়েছে, সেই সুবাদে তার ফোনে এসএমএস করেছিলাম।”
ইউএনও মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ওই শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।