রংপুরে ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার, ১৫ বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট
“আমরা কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। হঠাৎ করেই লোকজন চিৎকার করে হামলা চালায়।”
ফেইসবুকে মহানবীকে (সা.) নিয়ে ‘কটূক্তি’ করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা থেকে এক হিন্দু কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের একটি গ্রাম থেকে শনিবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আল এমরান জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলছে, এ ঘটনায় ‘উত্তেজিত জনতা’ শনিবার রাত ও রোববার বিকালে ওই কিশোরের বাড়িসহ ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের’ ১৫টির বেশি বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
গ্রেপ্তার ১৭ বছরের ওই কিশোর একটি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
ওসি আল এমরান বলেন, “ওই কিশোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ম অবমাননাকর লেখা ও ছবি দিয়েছে এমন অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিক তাকে আটক করে থানায় আনা হয়।
“পরে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করে রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই কিশোরকে থানায় নেওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার সন্ধ্যায় পাশের এলাকা থেকে শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে ছেলেটির গ্রামে প্রবেশ করে। তারা কিশোরের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে হামলা চালায়।
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা সরে গেলেও আতঙ্কে শনিবার রাত থেকেই গ্রামের বেশিরভাগ পুরুষ সদস্য এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। পরদিন দুপুরে আবার একদল ‘উত্তেজিত জনতা’ দ্বিতীয় হামলা চালিয়ে আরও কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর করে। পরে সেনা সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
হামলার শিকার এক ব্যক্তি বলেন, “আমরা কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। হঠাৎ করেই লোকজন চিৎকার করে হামলা চালায়।”
গঙ্গাচাড়ার বাসিন্দা স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুর রহিম পায়েল বলেন, “১২টির বেশি হিন্দু বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।”
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলছেন, ১৫টি হিন্দু বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গঙ্গাচড়ার পাশেই নীলফামারী জেলা। সেখান থেকে লোকজন এসে এখানে হামলা চালিয়েছে।
হামলায় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
ইউএনও বলেন, “রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি, যাতে কেউ গুজব ছড়িয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টহল অব্যাহত থাকবে।”
