Published : 14 Dec 2025, 01:09 AM
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান কারিশমা মঞ্জুর।
আগামী বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়নের জন্য নিউ হ্যাম্পশায়ার স্টেট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।
শুক্রবার নিউ ইয়র্ক সফরে এসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কারিশমা।
নির্বাচনি অঙ্গীকার সম্পর্কে কারিশমা বলেন, “প্রশাসন ও রাজনীতিতে দুর্নীতি কমানো, করপোরেট চাঁদার প্রভাব সীমিত করা এবং মৌলিক নাগরিক চাহিদা নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য।” পাশাপাশি অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা, ন্যায্য মজুরি এবং স্বাস্থ্যসেবার বিস্তারে কাজ করার কথাও জানান তিনি।
বর্তমান সিনেটর জিন শাহিন পুনর্নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ায় আসনটি শূন্য হচ্ছে। ওই আসনে ডেমোক্র্যাটিক দলের মনোনয়ন পেতে কারিশমার সঙ্গে আরও দুজন প্রার্থী রয়েছেন। গত অগাস্টে প্রার্থিতা ঘোষণার পর তিনি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পরিচিতি পেয়েছেন।
কারিশমা মঞ্জুর পেশাগতভাবে একজন বিজ্ঞানী। তিনি মলিকিউলার বায়োলজি ও বায়োকেমিস্ট্রিতে পিএইচডি ডিগ্রিধারী এবং দীর্ঘদিন ধরে নিউরোলজিক্যাল রোগ, বিশেষ করে মৃগীরোগ ও বিষণ্নতায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত। তিনি আলঝেইমার রোগের চিকিৎসাতেও কাজ করেছেন।
অভিবাসন নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিদ্যমান আইন মেনে একটি সমন্বিত ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে।” সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলেন কারিশমা। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর কিছু কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার এবং দীর্ঘমেয়াদি ডিটেনশন আইনের শাসনের পরিপন্থি।”
মতবিনিময় সভায় তিনি প্রবাসী কমিউনিটির ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানদের সামাজিক ও পেশাগত অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে কারিশমা জানান, সব কমিউনিটির প্রতি তার অঙ্গীকার সমান। জাতিগত পরিচয়, জন্মস্থান বা বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নির্বাচনি অর্থায়ন প্রসঙ্গে কারিশমা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড় অঙ্কের অনুদান অনেক ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন।”
কারিশমা মঞ্জুর বর্তমানে নিউ হ্যাম্পশায়ারের এক্সিটার সিটিতে পরিবারসহ বসবাস করছেন। তিনি ‘ওপেন ডেমোক্র্যাসি’, ‘নিউ হ্যাম্পশায়ার পিস অ্যাকশন’ এবং ‘র্যাঙ্কড চয়েস ভোটিং’ আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী বাছাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সে লক্ষ্যে তিনি প্রবাসী ও দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির সমর্থন আদায়ে বিভিন্ন স্থানে মতবিনিময় সভা করছেন।