২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকা-১৭ আসনে লাঙ্গল কার?

চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের মনোনয়নে সিকদার আনিছুর রহমান এবং বেগম রওশন এরশাদের মনোনয়নে কাজী মামুনুর রশীদ প্রার্থিতা জমা দিয়েছেন।

ঢাকা-১৭ আসনে লাঙ্গল কার?

জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক বেগম রওশন এরশাদ এবং চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের দ্বৈরথ আবার সামনে আনল ঢাকা-১৭ উপনির্বাচন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Jun 2023, 07:27 PM

Updated : 15 Jun 2023, 07:27 PM

ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে জয় পরাজয়ের প্রশ্নের আগে যে জিজ্ঞাসা সামনে আসছে, তা হল– জাতীয় পার্টির প্রতীক লাঙ্গল কে পাবেন?

এ দলটির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দুই জন। একজনকে মনোনয়নপত্র দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের। আরেকজনকে দিয়েছেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ।

প্রশ্ন হল, জাতীয় পার্টির আসল প্রার্থী কে?

দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর থেকে তার ভাই জি এম কাদের এবং স্ত্রী বেগম রওশন এরশাদকে ঘিরে জাতীয় পার্টিতে যে মেরুকরণ, সেটি আবার সামনে আনল ঢাকা-১৭ উপ নির্বাচন।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য চিত্রনায়ক আকবর হোসেন খান পাঠানের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া এ আসনে ভোট হবে ১৭ জুলাই। নির্বাচনে অংশ নিতে বুধবার জাতীয় পার্টির নামে মনোনয়নপত্র জমা দেন কাজী মামুনুর রশীদ। আর বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিকদার আনিছুর রহমান।

তাহলে লাঙ্গল কাকে বরাদ্দ দেওয়া হবে? এই রোববার প্রার্থিতা যাচাই বাছাইয়ের জন্য অপেক্ষায় থাকতে বলা হয়েছে নির্বাচন কমিশন থেকে।

রওশন কি মনোনয়ন দিতে পারেন, জিজ্ঞাসা চুন্নুর

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের বলেছেন, আনিছুর যে তাদের দলের প্রার্থী, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, দলের চেয়ারম্যানকে পাশ কাটিয়ে রওশনের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষমতা নেই।

মামুন ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য। কয়েক মাস আগে তাকে অব্যাহতি দেন দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের। 

Image

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের কাছ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সিকদার আনিছুর রহমান

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গার নেতৃত্বে বুধবার তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। মামুন রশিদ ছাড়াও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ্, সাবেক প্রতিমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলনসহ কয়েকজন সে সময় উপস্থিত ছিলেন।

মামুনকে রওশনের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, “আমরা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সভাপতিত্বে মনোনয়ন বোর্ডর সভায় মেজর (অব.) সিকদার আনিছুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছি। এখানে অন্য কারও মনোনয়ন দেওয়ার অধিকার নাই। আর কে দিল না দিল, সেটাতে আমাদের কিছু যায় আসে না।”

তিনি বলেন, “রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তিনি কীভাবে মনোনয়ন দেবেন? গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গোলাম মোহাম্মদ কাদের দলের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।”

মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে আনিছুর রহমান বলেন, “দলীয় প্রার্থীর বিষয়ে দলীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। জাপা চেয়ারম্যান এর নেতৃত্বে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে জমা দিয়েছি, আরেকজন যথাযথ প্রক্রিয়ায় দলীয় মনোনয়ন পাননি। দলীয় প্রার্থী হতে হলে দলের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত দলীয় প্রত্যয়নপত্র দিতে হয়।”

রওশনের ক্ষমতা আছে: রাঙ্গা

চুন্নুর এই মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রওশনপন্থী নেতা মসিউর রহমান রাঙ্গা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিরোধীদলীয় নেতা ও দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মনোনয়ন দিতে পারেন বলেই মনোনয়ন দিয়েছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মামুনুর।”

Image

বেগম রওশন এরশাদের মনোনয়নে কাজী মামুনুর রশীদ তার প্রার্থিতা জমা দিয়েছেন।

দলের প্রার্থী তো দুই জন থাকতে পারে না। সংখ্যাটি একজনে আনতে কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সেটা আলোচনা করলে বলা যাবে, এখন বলা যাবে না।”

অপেক্ষায় রাখল নির্বাচন কমিশন

জাতীয় পার্টির দুই পক্ষ দুই ধরনের বক্তব্য রাখার মধ্যে নির্বাচন কমিশন কোনো পক্ষই নেয়নি। দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই নিয়েছে নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব প্রাপ্ত সংস্থাটি।

লাঙ্গল কাকে দেওয়া হবে, এই প্রশ্নে রিটার্নিং অফিসার মুনীর হোসাইন খান সাংবাদিকদের বলেন, “মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করা হবে। রোববার আইন বিধি পর্যালোচনা করে যাচাই-বাচাইয়ের দিন জানানো যাবে।”