‘টান দিয়ে নিয়ে গেছে’ সিদ্দিকী নাজমুলের মোবাইল
২০২১ সালের ৩০ মে বিজয় সরণি এলাকায় একই কায়দায় ফোন হারান গাড়িতে বসা পরিকল্পনা মন্ত্রী। ২০২২ সালের ৩১ অগাস্ট ছো মেরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের ফোন নিয়ে যায় দুর্বৃত্ত।
ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম তার ‘মোবাইল ফোন খুইয়েছেন।’
ঢাকায় গাড়ি চড়ে যাওয়ার সময় জানলা দিয়ে টান মেরে এক ছিনতাইকারী ফোনটি নিয়ে গেছে বলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জানিয়েছেন তিনি।
তবে পুলিশ এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পায়নি বলে জানিয়েছেন একজন কর্মকর্তা।
শুক্রবার ভোর ৩টার দিকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তার ফেসবুক পেইজে ফোন ছিনতাইয়ের বিষয়টি জানান।
তিনি লেখেন, “মোবাইলটা উত্তরা থেকে গাড়ির জানালা দিয়ে টান দিয়ে নিয়ে গেছে আমার।”
নিজের ব্যক্তিগত নম্বর বা সেটি দিয়ে খোলা ‘হোয়াটস অ্যাপ’ নম্বর থেকে ম্যাসেজ বা কল পেলে আপাতত সাড়া না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
নাজমুল লিখেছেন, “আমার… নম্বরের কল কিংবা হোয়াটস অ্যাপ থেকে আপাতত মেসেজ কিংবা কল পেলে রেসপন্স কইরেননা প্লিজ।”
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম সিদ্দিকী নাজমুল আলমের সঙ্গে কথা বলতে পারেনি। যে ফোনটি খোয়া গেছে, তার ফোন নম্বর বন্ধ। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিকল্প ফোন নম্বরেও নাজমুলকে পাওয়া যাচ্ছে না।
নাজমুলের ফোন খোয়া যাওয়ার বিষয়ে কিছু জানেন না উত্তরা বিভাগের বিমানবন্দন জোনের পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার তৌহিদুল ইসলাম। সাবেক ছাত্রলীগ নেতার ফেইসবুক পোস্টের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, “এখনও পুলিশ কিছু জানে না। তবে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছি।”
নাজমুল ফেইসবুকে যে পোস্ট দিয়েছেন, তার নিচে বেশ কয়েকজন একইভাবে তাদের ফোন ছিনিয়ে নেওয়া বা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার কথা জানিয়েছেন।
আল আমিন কবির নামে একজন লিখেছে, “একই জায়গা থেকে আমার ফোনও গেছে।”
মোসলেহ উদ্দিন নামে একজন লিখেছেন, তার মোবাইল ফোনও এভাবে টান দিয়েছিল। কিন্তু শক্ত করে ধরা ছিল বলে নিতে পারেনি।
আর রাশেল সরকার নাম একজন লিখেছেন, “এখন বুঝেন দেশের বর্তমান অবস্থা কী চলতেছে! আমরা যারা সাধারণ পাবলিক আছি, আমাদের জীবনের নিরাপত্তা এক সেকেন্ডের জন্যও নাই এই শহরে।”
এম এ আহমেদ আজাদ নামে একজন লিখেছেন, “এবার চোরার দল বুঝতে পারবে কোথায় হাত দিয়েছে….।”
২০২১ সালের ৩০ মে রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকায় গাড়িতে বসে ইন্টারনেটে ব্রাউজিং করার সময় পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের ফোনটি গাড়ির জানলার বাইরে ‘ছোঁ’ মেরে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তোলপাড়ের মধ্যে ১৯ জুলাই সেটি ফোনটি উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় পাঁচ জনকে।
২০২২ সালের ৩১ অগাস্ট রাত ১১টার দিকে একই কায়দায় রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে ছিনতাই হয় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের মোবাইল ফোন। সেটি ৭ সেপ্টেম্বর উদ্ধারের কথা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ।
তারা জানায় ছিনতাইয়ের পর ফোনটি চার থেকে পাঁচ হাতে চলে যায়। দেড় লাখ টাকার ফোনটি প্রথমে মাত্র ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এরপর ২০ হাজার ও সর্বশেষ বিক্রি হয় ২২ হাজারে।
‘কে এই নাজমুল’
২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন সিদ্দিকী নাজমুল আলম। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের দায়িত্ব পালনকালে তিনি ‘অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের’ মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালেই তিনি বেশ কয়েকটি দেশে নিয়মিত ভ্রমণ করতেন। ওইসব দেশে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িয়ে যান বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এছাড়া প্রেম-বিয়ে, বিরোধী দলকে নিয়ে আক্রমণাত্মক বক্তব্যের জন্য তিনি ছিলেন ছাত্ররাজনীতির আলোচিত চরিত্র।
এক পর্যায়ে তার ওপর বিরাগভাজন হয় আওয়ামী লীগ এবং ২০১৯ সালে তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। ওই ‘অসন্তোষ’কে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ দাবি করে ‘নেত্রীর ভুল ভাঙাতে না পেরে’ আক্ষেপের কথাও বলেছেন তিনি।
২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাজ্যে ‘ওপেন হার্ট সার্জারি’ করার আগে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে ‘আল্লাহর ওয়াস্তে ক্ষমা করে দিতে’ সবাইকে অনুরোধ করেন তিনি।
দীর্ঘ সেই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ নাজমুল লিখেন আবেগঘন বক্তব্য। তার আক্ষেপ ‘প্রিয় নেত্রীর ভুল ভাঙাতে না পারার।’
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সেদিন লেখেন, “যদি মরে যাই একটাই কষ্ট থাকবে নিজের দলের মানুষের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মিডিয়া ট্রায়াল হয়েছে বারবার আমার নামে। আর আফসোস, হয়তোবা বড় কোনো ভাই আমার নামে অনেক মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমার নেত্রীর কান ভারী করে রেখেছে, সেই ভুলগুলো হয়ত ভাঙিয়ে যেতে পারলাম না।
“আপা, আপনিই আমার মমতাময়ী জননী স্নেহময়ী ভগিনী। আপনাকে অনেক ভালোবাসি, ক্ষমা করে দিয়েন আমাকে। সবাই ভালো থাকবেন, আপনাদের আর যন্ত্রণা দিব না।”
সেই সার্জারির কয়েক মাস পরে দেশে ফেরেন নাজমুল। তবে রাজনীতিতে অবস্থান ফিরে পাননি।
আরও পড়ুন:
