১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নারীর কর্মঘণ্টা কমানোর প্রতিশ্রুতি: যে ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াত নেতা

অনুষ্ঠানে ইউনিসেফের ১০ দফা ইশতেহারে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ ১২টি দল সই করে।

নারীর কর্মঘণ্টা কমানোর প্রতিশ্রুতি: যে ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াত নেতা
ঢাকার চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সোমবার ইউনিসেফের ১০ দফা ইশতেহারে সই করে ১২টি রাজনৈতিক দল।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Dec 2025, 08:24 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:14 PM

নারীদের প্রতি সম্মান দেখাতেই তাদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। 

তার ভাষ্য, জামায়াত আমির শফিকুর রহমান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাতে মূলত তিনি নারীদের সম্মানিত করতে চেয়েছেন। 

সোমবার ঢাকার চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে সেখানে ইউনিসেফ আয়োজিত ‘শিশু অধিকার ইশতেহার’ সইয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন এ জামায়াত নেতা। 

অনুষ্ঠানে ইউনিসেফের ১০ দফা ইশতেহারে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ ১২টি দলের প্রতিনিধিরা সই করেন। 

গেল ২৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান প্রতিশ্রুতি দেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে পাঁচ ঘণ্টায় নামানো হবে। 

তার এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় নানামুখী আলোচনা শুরু হয়। অনেকে তার ওই বক্তব্যের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। 

কেউ কেউ মনে করেন, এটা হবে নারীদের পর্যায়ক্রমে ‘গৃহবন্দি’ করার প্রথম ধাপ। নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিলে পুরুষদের প্রতি ইনসাফ করা হবে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন কেউ কেউ।

সোমবার ইউনিসেফের অনুষ্ঠানে এসে দলের আমিরের সেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

সাংবাদিকরা জানতে চান, জামায়াত আমিরের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে ইউনিসেফের ইশতেহারের কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় আছে কিনা।

জবাবে মাসুদ বলেন, “এই ইশতেহারে শুধুই শিশুদের নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এখানে নারীদের বিষয়টি প্রাসঙ্গিক নয়।”

তবে ‘পাঁচ ঘণ্টার’ সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “আমাদের আমিরে জামায়াত বলেছেন যে, আমাদের মায়েদের তো আসলে নির্দিষ্ট কিছু কাজ করতে হয়, যেটা পুরুষদের করতে হয় না। “এই যে শিশুদের কথা বলছেন, এই শিশুদের পরিচর্যার পুরো দুই বছর এবং জন্মের আগের যে ১০ মাস, পুরো সময়টা কিন্তু তাকে (মাকে) সামলাতে হয়। এটা কিন্তু একজন বাবার জন্য বা একজন পুরুষের জন্য প্রযোজ্য নয়। সুতরাং স্পেসিফিক যে সেবাটা তাকে দিতে হয়, সেটার জন্য নারীর একটা অপরচুনিটিও থাকা উচিত এবং সেটা রাষ্ট্রকে বহন করতে হবে। তিনি পাঁচ ঘণ্টা কাজ করবেন, কিন্তু আট ঘণ্টার পারিশ্রমিক পাবেন। সে সম্মান-মর্যাদাটা রাষ্ট্র তাকে দেবে।”