Published : 15 Jan 2026, 07:51 PM
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ও প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট নিয়ে অভিযোগের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ফের বলেছে, ভোটের মাঠে ‘সমতা রক্ষা হচ্ছে না’।
দলটির অভিযোগ, একদিকে যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা ‘নেওয়া হচ্ছে না’। আর যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন না, তাদের ‘হয়রানির জন্য জরিমানার নোটিস দেওয়াসহ নানা কার্যক্রম’ চালানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই অভিযোগ করেছে।
বৈঠকের পরে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে তাদের অভিযোগের কাগজের স্তুপ পড়ে আছে। কিন্তু কোনো ‘ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না’। দলীয় প্রধানদের প্রটোকল, নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ‘সমতা রক্ষা করা হচ্ছে না’।
তিনি বলেন, “সুষ্ঠ নির্বাচনের মৌলিক কতগুলো দাবি ছিল। তার একটি হচ্ছে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা যদি নিশ্চিত করা না যায় তাহলে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ হবে না। …২২ জানুয়ারির আগে এখন প্রচার-প্রচারণা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বেশকিছু এলাকায় প্রার্থীরা, বিশেষ কিছু দলের প্রার্থী অবাধে চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ সামনে রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন বাছাই শেষে আপিল নিষ্পত্তির ধাপে রয়েছে নির্বাচন কমিশন-ইসি। একই দিন একসঙ্গে সংস্কার প্রশ্নে গণভোট হবে।
এবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তাদের ভোটগ্রহণের জন্য বিদেশে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে।
এদিন দুপুরে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে প্রবাসে পোস্টাল ব্যালটের ‘উন্মুক্ত ব্যবহারে’ উদ্বেগ জানিয়েছে বিএনপি। সেই সঙ্গে দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে মার্কার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম রাখার প্রস্তাব তুলেছে দলটি।
ভোটার স্লিপে ভোটার নম্বরের পাশাপাশি প্রার্থীর ছবি, মার্কা ও প্রতীক ব্যবহারে আচরণবিধির পরিবর্তনও চায় তারা।
এর পরেই জামায়াতের প্রতিনিধি দল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে যায়।
জামায়াত নেতা আযাদ দাবি করেছেন, তাদের দলের প্রার্থীরা এখন নির্বাচনি প্রচার করছেন না, দলীয় সভা সমাবেশ করছেন, এটা নির্বাচনে বাধা নয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “সেই জায়গায় আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। স্বতোঃপ্রণোদিত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনি কর্মকর্তারা হয়রানি করছেন-এই অভিযোগটা আছে। আর আমরা অভিযোগ দায়ের করেছি, কাগজের স্তুপ পড়ে আছে; কোনো ‘অ্যাকশন’ নাই। তাহলে এখানে নির্বাচনি সমতা রক্ষা করা হচ্ছে না।”
কোনো দলের নাম না নিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেছেন, একদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে, তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনেরা কোনো ব্যবস্থা নেই।
“আর যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন না, হয়রানি করার জন্য আবার তাদেরকে জরিমানা নোটিস নানা কার্যক্রম চালানো হয়েছে।”
“কমিশনকে আমরা এটা বলেছি এটা বন্ধ করতে হবে। সমতার জায়গায় দলীয় প্রধান হিসেবে বাংলাদেশের যে দুটি বড় দল প্রতিদ্বন্দিতায় জোট গঠন করেছে বা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে সে জায়গায় সমতা নিশ্চিত হওয়া উচিত ছিল, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল নিরাপত্তাজনিত বিষয় যদি থাকে তাহলে এখানে সমতা আসতে হবে।”
এর আগেও এ বিষয়ে ইসির নজরে আনা হলে তা কার্যকরে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।
জামায়াতের এই সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “সমতা রক্ষা করতে হবে, এটা আমরা বলেছি। কমিশন আশ্বস্ত করেছেন। গতবারও আমরা একই কথা বলেছি। আশ্বস্ত করেছেন, কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। ”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রবাসে পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাহরাইনে বা বিদেশে জামায়াতে ইসলামীর কোনো শাখা নেই। যেখানে দলের কমিটি নেই, সেখানে রাজনৈতিক নেতা হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তাই ‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর’ কোনো সুযোগ নেই।”
এক সপ্তাহ আগে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইসির সঙ্গে বৈঠক করে।
এ সময় নির্বাচন সামনে রেখে যাদের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার, তাদের অনেকেই ‘দলীয় পরিচয়ে’ পদায়ন পাওয়ায় প্রার্থিতা বাছাইয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা ‘বৈষম্যের’ শিকার হন বলে দাবি করেন তিনি।
‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি ও ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ ডিসি বা এসপি যারা আছেন, তাদের অপসারণের দাবি জানায় দলটি।
জামায়াতের প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, জসিম উদ্দিন সরকার। ও ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন।
এদিন বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে।
পরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ভোটদানের ‘এক্সারসাইজ’ হওয়ায় এখানে কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। তবে যে ভুলভ্রান্তিটা হচ্ছে এখানে, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”
কোনো রাজনৈতিক দলের নাম না নিয়ে তিনি বলেন, “একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে হয়ে কিছু কিছু কাজ এখানে হয়েছে এবং সেটা প্রকাশিত হয়েছে, সেটা প্রমাণিত হচ্ছে। এখন আমরা বলেছি, এ বিষয়ে আপনাদেরকে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে।”
ইতোমধ্যে বাহরাইনে ১৬০টি ব্যালট পেপারের খাম এবং কাতারে একজনের বাসায় বেশ কিছু ব্যালটের খাম বিতরণের ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় এসেছে।
আগের খবর:
বাহরাইনে পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও করা হয়েছে 'আনন্দে': ইসি সচিব