১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশের পোস্টাল ব্যালটে প্রার্থীর নাম চায় বিএনপি

ভোটার স্লিপের জন্য আচরণবিধি পরিবর্তন, প্রবাসের পোস্টাল ব্যালট নিয়ে ইসির ব্যাখ্যা চায় এবং আচরণবিধির যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ দলটির।

বিশেষ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Jan 2026, 05:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:34 PM

প্রবাসে পোস্টাল ব্যালটের ‘উন্মুক্ত ব্যবহারে’ উদ্বেগ জানিয়েছে বিএনপি। 

সেই সঙ্গে দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে মার্কার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম রাখার প্রস্তাব তুলেছে দলটি।

ভোটার স্লিপে ভোটার নম্বরের পাশাপাশি প্রার্থীর ছবি, মার্কা ও প্রতীক ব্যবহারে আচরণবিধির পরিবর্তনও চায় তারা।

বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেছে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া সালাহউদ্দিন পরে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এবং আচরণবিধির কিছু বিষয়ে কথা হয়েছে। 

“আইনি ব্যাখ্যার কিছু পয়েন্টে আর আচরণবিধির কিছু পয়েন্টসহ দুয়েকটা বিষয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। এগুলো তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং এগুলো বিবেচনা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছে।”

বৈঠকে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ইসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়া উপস্থিত ছিলেন।

১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পোস্টাল ব্যালট ইতোমধ্যে নিবন্ধিত প্রবাসীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। 

সাধারণত সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার আসনভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকে। কিন্তু সংসদ নির্বাচনের প্রবাসীদের ব্যালট পেপারে  শুধু প্রতীক রয়েছে।

এবার দেশে ও প্রবাসে পোস্টাল ভোটের জন্য ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মেধ্যে প্রবাসী রয়েছে ৭ লাখ ৭২ হাজারের বেশি ভোটার। আর দেশের ভেতরে সরকারি চাকরিজীবি, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও আইনি হেফাজতে থাকা ৭ লাখ ৬১ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন।

প্রবাসে শুধু প্রতীক দিয়ে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হলেও দেশের ভেতরে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর নাম ও প্রতীক দিয়ে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি।

ব্রিফিংয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “পোস্টাল ব্যালট দেশের অভ্যন্তরে সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত হবে। সেজন্য আমরা বলেছি, যেসব নির্বাচনি এলাকায় যে কয়জন প্রার্থী থাকে, তাদেরই তো মার্কা দিয়ে, নাম দিয়ে ব্যালট হয়। সেই একই ব্যালট যেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

“এ ব্যাপারে আমরা স্পষ্ট প্রস্তাব দিয়েছি। আশা করি সেটা তারা গ্রহণ করবেন। যেহেতু এটা যৌক্তিক।”

সব মার্কা দিয়ে তো পোস্টাল ব্যালেট সব আসনে পাঠানোর প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তিনি।

‘একটি দলের পক্ষে কাজ হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “পোস্টাল ব্যালেট যেগুলো প্রবাসীদের জন্য পাঠানো হয়েছে। আমরা আগের মতো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছি যে, এখানে ঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি। যারা এই পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন ও পাঠানোর কাজে ছিলেন, বা এগুলোর বিষয়ে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন, তাদেরকে ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

“এখন যে সমস্ত পোস্টাল ব্যালট বিভিন্নভাবে সোশাল মিডিয়াতে ভিডিও আকার আসছে, একেকটা বাসায় দু-তিনশ করে ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও জব্দ করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও এখনই ভোটিং শুরু হয়ে গেছে, যেটা ২২ জানুয়ারি (প্রতীক বরাদ্দের পরের দিন) হওয়ার কথা এবং কোথাও কোথাও বলছে, একজনের নম্বর দিয়ে আরেকজন পোস্টাল গ্রহণ করছে। এইভাবে অনেক কিছুতে অনিয়ম হয়েছে।”

ইতোমধ্যে বাহরাইনে ১৬০টি ব্যালট পেপারের খাম এবং কাতারে একজনের বাসায় বেশ কিছু ব্যালটের খাম বিতরণের ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় এসেছে।

এ বিএনপি নেতা বলেন, “প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ভোটদানের ‘এক্সারসাইজ’ হওয়ায় এখানে কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। তবে যে ভুলভ্রান্তিটা হচ্ছে এখানে, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”

কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে হয়ে কিছু কিছু কাজ এখানে হয়েছে এবং সেটা প্রকাশিত হয়েছে, সেটা প্রমাণিত হচ্ছে। এখন আমরা বলেছি, এ বিষয়ে আপনাদেরকে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে।”

তিনি বলেন, “প্রবাসীদের কাছে যে সমস্ত ব্যালট পাঠানো হয়েছে, কীভাবে পাঠানো হয়েছে, তারা কীভাবে ভোট দেবেন ওখানে, কীভাবে স্ক্যান করবেন, আর এক জায়গায় যদি দুই থেকে তিনশ ব্যালট পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে কী ব্যাখ্যা দেবেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী ব্যবস্থা নেবে, এসব বিষয়ে ইসি ব্যাখ্যা দেবে।”

ভোটার স্লিপে পরিবর্তন চায় বিএনপি

দল বা প্রার্থীর পক্ষ থেকে স্থানীয় ভোটারের স্লিপে প্রতীক ও প্রার্থীর নাম ব্যবহার করতে চায় বিএনপি। ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে এ ধরনের প্রস্তাবের কথা বলছে তারা। 

আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটার স্লিপে ভোটারের নাম, ভোটার নম্বর ও কেন্দ্রের নাম থাকতে পারবে; কোনো দলের নাম দেওয়া যাবে না, মার্কা দেওয়া যাবে না এবং প্রার্থীর ছবি দেওয়া যাবে না।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আচরণবিধির একটা বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যে, ভোটার স্লিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা চাই অধিকাংশ ভোটার ভোটে অংশগ্রহণ করুক। সেক্ষেত্রে ভোটার নম্বর, প্রার্থীর নাম, প্রতীক ইত্যাদি ভোটার স্লিপের মাধ্যমে পেলে সহজ হয়।। আমরা বলেছি, এগুলো কিছু পুনর্বিবেচনা করা দরকার।

“আচরণবিধি যেহেতু, ইলেকশন কমিশন নিজেরাই এটা পরিবর্তন করতে পারবে। সুতরাং এ বিষয়টা বিবেচনায় নেওয়া। কারণ প্রত্যেক প্রার্থী ভোটার স্লিপ দিবে।”

আচরণবিধি প্রতিপালনে ইসির অবস্থানের সমালোচনা করেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, “আমরা এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বিভিন্নভাবে যে সমস্ত বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছে এবং সেটা ভিডিও পাওয়া যায়, তাতে করে আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে। কিন্তু এ ব্যাপারেও আমি দেখছি যে নির্বাচন কমিশন নির্বিকার। আমরা আশা করব, তারা এগুলো দেখবে।”

বাহরাইনে পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও করা হয়েছে 'আনন্দে': ইসি সচিব

সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দল