Published : 06 Jul 2026, 01:51 PM
একে তো উচ্চতার সমস্যা ও স্বাগতিক দর্শকের প্রবল চাপ, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে একজন কম নিয়ে লম্বা সময় খেলার চ্যালেঞ্জ; সব মিলিয়ে মেক্সিকোর বিপক্ষে কম পরীক্ষা দিতে হয়নি ইংল্যান্ডকে। সব প্রতিকূলতা সামলে শেষ পর্যন্ত জিততে পারায় ভীষণ খুশি টমাস টুখেল। বিশেষ করে, দলের দৃঢ় মানসিকতায় গর্বের শেষ নেই তার।
ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড।
ম্যাচের প্রথম ৩৫ মিনিটে মেক্সিকোর দাপট বেশি থাকলেও পরের দুই মিনিটের মধ্যে দুটি গোল করে জুড বেলিংহ্যাম এগিয়ে দেন ইংলিশদের। একটু পরই হুলিয়ান কিনোনেসের গোলে ব্যবধান কমায় মেক্সিকো।
৫৪তম মিনিটে ডিফেন্ডার জ্যারেল কুয়ান্সা সরাসরি লাল কার্ড দেখলে চাপে পড়ে যায় ইংলিশরা। ওই ঘটনার ৬ মিনিট পর স্পট কিক থেকে হ্যারি কেইনের গোলে অবশ্য ব্যবধান ৩-১ করে ফেলে তারা।
কিন্তু প্রতিপক্ষের একজন কম থাকার সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে ওঠে মেক্সিকো। ইংল্যান্ডের রক্ষণে একের পর এক হানা দিতে থাকে তারা। তাতে দ্রুত সাফল্যও মেলে। কেইনের গোলের ৯ মিনিট পর পেনাল্টি থেকে রাউল হিমেনেসের গোলে ব্যবধান আবার কমায় স্বাগতিকরা।
নির্ধারিত সময় ও যোগ করা সময় মিলিয়ে শেষ ৪৮ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলে ইংল্যান্ড। শেষ সময়ে প্রবল চাপের মুখেও দারুণ মানসিক শক্তির ছাপ রাখে তারা। আর দলের এমন দৃঢ়তায় মুগ্ধ টুখেল।
“আমি স্রেফ দলের মানসিকতা ও মনোভাব নিয়ে গর্বিত। শেষ বত্রিশ, শেষ ষোলো টুর্নামেন্টের এমন একটা ধাপ যেখানে জয়ের পথ খুঁজে নিতে হবে। অদম্য মানসিকতা ও মনের জোর দিতে আমরা সেটা করেছি।
“আমাদের সামনে ছুঁড়ে দেওয়া প্রতিটি বাধা পার করেছি। আমি দলের মানসিকতা ও ইচ্ছাশক্তি নিয়ে খুবই গর্বিত।”
৪০ বছর পর আসতেকায় খেলেছে ইংল্যান্ড। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে এই মাঠেই দিয়েগো মারাদানোর ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘শতাব্দীর সেরা’ গোল দুটিতে কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় ইংলিশরা। ওই আসরে পরে চ্যাম্পিয়ন হয় মারাদোনার আর্জেন্টিনা।
লম্বা সময় পর আসতেকায় ফিরে একটা বাড়তি মানসিক চাপ তো ছিলই ইংল্যান্ডের। সঙ্গে যোগ হয়েছে ৮৭ হাজার দর্শকে ঠাসা গ্যালারির উন্মাদনা। আর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২০০ মিটার উঁচুতে খেলার চ্যালেঞ্জ তো ছিলই।
শেষ ষোলোর এই ম্যাচটিকে মনে করা হচ্ছিল এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। সেই লড়াই উৎরে যাওয়ার উচ্ছ্বাস ঝরল টুখেলের কণ্ঠে।
“ম্যাচের আগের প্রস্তুতি দেখে মনে হচ্ছিল না এটা শেষ ষোলোর লড়াই। মনে হচ্ছে, আমরা কোনো ফাইনাল বা বড় কিছু জিতেছি।
“খেলা শেষের ঠিক আগের মুহূর্তে রেফারি যখন বাঁশি মুখে নিলেন এবং তখন উপলব্ধি করছিলাম যে আমরা পেরিয়ে গেছি। এই উচ্চতায়, স্বাগতিকদের বিপক্ষে, শক্তিশালী মেক্সিকান দলের বিপক্ষে ৪০-৫০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলে জেতা, এটা সত্যিই আনন্দে এক মুহূর্ত। শেষ পর্যন্ত এটি ছিল সত্যিকারের বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স এবং বীরত্বপূর্ণ জয়।”