Published : 06 Jun 2026, 04:50 PM
অবকাঠামোনির্ভর না হয়ে মানুষ ও প্রকৃতি কেন্দ্রিক উন্নয়ন নীতির আলোকে গরিবের ওপর কর না চাপিয়ে ধনীদের কাছ থেকে আদায়ের ব্যবস্থা চায় বিএনপির মিত্র দল গণসংহতি আন্দোলন।
সরকারে অংশ নেওয়া দলটির নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, “আমরা যদি ঋণগ্রস্ত অর্থনীতি না চাই, আমরা যদি এখানে একটা জনবান্ধব অর্থনীতি চাই, তাহলে একটা প্রগতিশীল করনীতি ছাড়া এটা কখনোই সম্ভব না। গরিবের ওপরে চাপিয়ে না দিয়ে ধনীদের কাছ থেকে কর আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।”
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে গণসংহতি আন্দোলন আয়োজিত ‘জনবান্ধব বাজেট: ভাবনা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
নানামুখী সংকটে থাকা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে ১১ জুন বাজেট দিতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার, এ সরকারের গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জোনায়েদ সাকি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।
দলটির নির্বাহী সমন্বয়কারী রুবেল বলেন, “আমাদের পুরনো মডেলটা ছিল অবকাঠামোনির্ভর। বড় বড় প্রজেক্ট হবে, সবাইকে প্রদর্শন করা যাবে, আর সেই দেখানোর ভেতর দিয়ে বড় বড় চুরি করা যাবে। এই প্রকল্প থেকে সরে এসে মানুষ এবং প্রকৃতি কেন্দ্রিক একটা নতুন ধরনের উন্নয়ন নীতি নিতে হবে।”
দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার যদি জনগণের জন্য কাজ করতে চায়, তাহলে সরকারের কর আদায় বাড়াতে হবে।
বিদেশ নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে, এমন মত দিয়ে গণসংহতির এই নেতা বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতির একটা বিরাট অংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক। ভ্যাটের আদায় আর সরকারের প্রাপ্তির ভেতরেও একটা বিরাট ফারাক আছে। ডিজিটালাইজেশন এবং ফুল অটোমেশনের মাধ্যমে সরকারের ট্যাক্স আদায় বৃদ্ধি করতে হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, “বাজেট হলো রাষ্ট্রের উন্নয়ন দর্শন। বাজেটে যে বরাদ্দ থাকে, সেটা কোথায় কমবে বা বাড়বে তার চেয়ে জরুরি বিষয় হল, টাকাটা কার কাছে যাবে।
“বিদ্যুৎ উৎপাদনে বছর বছর যে ভর্তুকি দেওয়া হয়, সেটার পুরোটাই যায় উৎপাদকদের পকেটে। অথচ ভর্তুকির টাকাটা যায় জনগণের পকেট থেকে।”
জ্বালানি সংকট সমাধানে তিনি প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য পাইপলাইন নির্মাণ করে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার কথা বলেন।
মোশাহিদা সুলতানার মতে, এলএনজির মতো ব্যয়বহুল জ্বালানি আমদানির জন্য যে পরিমাণ টাকা আমাদের খরচ হয়, সেটা দিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করার মতো পরিকল্পনা নিলে সেটাই বরং জনবান্ধব হতো।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষক শামীম আলম বলেন, “সরকারের করণীয় হল কৃষিভিত্তিক অধিদপ্তরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এর ফলে কৃষিখাতের ছোট ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। কৃষিজ আয়, হিমাগার নির্মাণ, কৃষিপণ্য ও কাঁচামাল আমদানির ওপর করছাড়ের মাধ্যমে সরকার বাজেটে কৃষকদের দুর্দশা লাঘবে উদ্যোগী হবে।”
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু কালো টাকা সাদা করা বা ঋণখেলাপীদের আরও সুযোগ দেওয়ার বদলে বাজেটে জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।