Published : 29 Apr 2026, 05:23 PM
জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় নিজের নির্ধারিত আসনে না গিয়ে পেছনের সারিতে বসে সংসদীয় রীতি মেনে চলার নজির দেখালেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার সময় এ দৃশ্য দেখা যায়।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন সংসদ নেতা। আইনমন্ত্রীর সামনে দিয়ে, অর্থাৎ স্পিকার ও বক্তার মাঝখান দিয়ে না গিয়ে তিনি পেছনের একটি আসনে বসেন।
পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরে বলেন, সংসদে ‘শৃঙ্খলা ও শালীনতা’ বজায় রাখার ক্ষেত্রে সংসদ নেতার এই আচরণ অন্য সদস্যদের জন্যও উদাহরণ হওয়া উচিত।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, “মাননীয় সদস্যবৃন্দ, আমরা মহান জাতীয় সংসদে সর্বদা একটা শৃঙ্খলা চাই। আজকে মাননীয় সংসদ নেতা যে ডিসেন্সি এবং শৃঙ্খলার নিদর্শন দেখিয়েছেন, আমরা অন্যান্য সম্মানিত সদস্য, মাননীয় সদস্য যারা আছি, তারা আমরা একটু অবজারভ করব।”
তিনি বলেন, “আজকে মাননীয় সদস্য বক্তব্য রাখছিলেন। মাননীয় আইনমন্ত্রী, উনার সামনের আসন ছিল মাননীয় সংসদ নেতার, যেহেতু ফ্লোর ক্রসিং হয়ে যাবে, উনি তৃতীয়তে বসলেন। এইটা আমি একটা এক্সাম্পল দিচ্ছি টুয়ার্ডস অল দা আদারস অনারেবল মেম্বার। লেট আস লার্ন।”
সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধিতে সদস্যদের আচরণ নিয়ে নির্দিষ্ট বিধান আছে। বিধি ২৬৭ এর উপবিধি (৪) অনুযায়ী, কোনো সদস্য কথা বলার সময় চেয়ারের সঙ্গে তার মাঝখান দিয়ে অন্য কোনো সদস্য যেতে পারবেন না। এ বিধানটি মূলত বক্তব্যরত সদস্য ও চেয়ারের প্রতি সংসদের সম্মান ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য রাখা হয়েছে।
একই অধ্যায়ে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যদের অধিবেশনকক্ষে চলাফেরা, বসা, ওঠা এবং বক্তব্যের সময় এমন আচরণ করতে হবে যাতে কার্যক্রম ব্যাহত না হয় এবং চেয়ারের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে।
কার্যপ্রণালী বিধির ২৭৭ ধারায় বলা আছে, স্পিকার দাঁড়ালে বা বক্তব্য দিলে সদস্যদের বসে তা শোনা উচিত। সংসদীয় রীতিতে চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনকে শৃঙ্খলা রক্ষার মৌলিক উপাদান হিসেবে ধরা হয়।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের বক্তব্যেও সেই দিকটি উঠে আসে। তিনি কার্যত অন্য সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, সংসদ নেতা যেভাবে নিয়ম মেনে আসনে গেছেন, তা সবার জন্য শেখার বিষয়।
তিনি এ প্রসঙ্গে ‘ফ্লোর ক্রসিং’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করলেও বাংলাদেশের সংসদীয় ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটে এর আলাদা অর্থ আছে।
বাংলাদেশে ‘ফ্লোর ক্রসিং’ বলতে সাধারণত বোঝানো হয় কোনো সংসদ সদস্য তার দল বা যে দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া বা অবস্থান নেওয়া। বিষয়টি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সম্পর্কিত।
সংবিধানের ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সদস্য যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি যদি দল থেকে পদত্যাগ করেন বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে তার আসন শূন্য হবে।
সেই অর্থে, অধিবেশন কক্ষে বক্তা ও স্পিকারের মাঝখান দিয়ে যাওয়া ‘ফ্লোর ক্রসিং’ নয়; এটি সংসদীয় রীতি বা শৃঙ্খলাবিষয়ক আচরণের প্রশ্ন।