Published : 31 Aug 2025, 02:38 PM
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন ও সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।
বৈঠক শেষে তিনি বলেছেন, “প্রশাসনে বিভিন্ন স্তরে দোসর বসে আছে। দোসররা এখানে কী ধরনের অবস্থান করছে, কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ট করতে কিনা- এগুলো তাদেরকে প্রশ্ন করেছি।”
রোববার সকালে নির্বাচন ভবনে আসেন বিএনপির সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত পর্যালোচনা কমিটির সদস্য সচিব রিজভী নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল। তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ।
ইসি ইতোমধ্যে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) চূড়ান্ত করেছে, যা দুয়েকদিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা রয়েছে। আর সীমানা নির্ধারণ নিয়ে শুনানি শেষ হয়েছে, যার গেজেট হওয়ার কথা ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে।
আরপিও বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ও সীমানা বিষয়ে মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন বিএনপির প্রতিনিধি দল।
বৈঠক থেকে বেরিয়ে রুহুল কবীর রিজভী বলেন, “আরপিও সংশোধন ও সীমানা নির্ধারণের সার্বিক বিষয়গুলো জেনেছি। প্রবাসীদের ভোটাধিকারের বিষয়ে দলের অঙ্গীকার থাকায় সে বিষয়েও আমরা জানতে চেয়েছি।
“পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমের অগ্রগতি জেনেছি। সার্বিকভাবে প্রস্তুতি কেমন তা জানতে চেয়েছি। স্পেসিফিক আসন নয়, সামগ্রিকভাবে প্রস্তুতি কতটুক জানতে এসেছি। উনারা যতটুকু সম্ভব জেনেছি।”
প্রশাসনে থাকা আওয়ামী লীগের ‘দোসররা’ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকায় সুষ্ঠু ভোট নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
তিনি বলেন, “(ইসি) প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে, এটাও তো একটা প্রশাসন; যদিও ইনডিপেন্ডেন্ট বডি, স্বাধীন সত্তা। কিন্তু বিভিন্ন স্তরে স্তরে দোসররা বসে আছে। দোসররা নানাভাবে একটা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে বিঘ্নিত হয়, না করা যায়- সেটা নানা ধরনের কলাকৌশল ও সুদূর প্রসারী ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত রয়েছে, সর্বক্ষেত্রে।
“সিভিল প্রশাসনেও অনেক ঘটনা দেখছি। সেটাই আমাদের জানতে চাওয়ার ছিল। দোসররা এখানে কী ধরনের অবস্থান করছে, তারা কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ট করছে কি না-এগুলো তাদেরকে প্রশ্ন করেছি।”
জবাবে ইসি কী বলেছে, তা খোলাসা করেননি রহুল কবীর রিজভী।
আগামী রোজার আগে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে সরকার।
রিজবী বলেন, “আমরা জানতে চেয়েছিলাম নির্বাচন যে হবে- এক্ষেত্রে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়টায় আমাদের এখনও সংশয় রয়েছে; এটা আসলে কতটকু হওয়া সম্ভব, কতটুকু করা যায়।
“এ নির্বাচনের কমিশনের সেই সক্ষমতা রয়েছে কি না, আমরা প্রশ্ন করেছি তাদের কাছে। তারা পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির কথা বলেছে।”
বিএনপির জ্যেষ্ঠ মহাসচিব রিজভী বলেন, “কমিশন সবকিছু বিবেচনা করে, দেখেশুনে স্বচ্ছতার সাথে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, কোনো কালিমা যাতে লিপ্ত না হয়- সে ব্যাপারটা সুচারুভাবে দেখছেন।
“অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে প্রস্তুতি দরকার, সে প্রস্তুতি ইসি গ্রহণ করছে। কমিশনের যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস রয়েছে।”
বর্তমান ইসির অধীনে ভোটে আস্থা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, এ ইসির সাথে যতবার কথা বলেছি, দেখা করেছি, যে আপডেট দেখেছি- সবকিছু মিলিয়ে আমরা আশা রাখি, বর্তমান ইসি অবাধ, সুষ্ঠু, ইনক্লুসিভ, সবার অংশগ্রহণমূলক ভোট করতে সক্ষম হবেন। তাদের আন্তরিকতার অভাব নেই।”
কর্মকর্তারা কোথায় যান, তথ্য পাচার করেন, জানি: হুঁশিয়ারি ইসি আনোয়ারুলের