Published : 15 Jun 2026, 02:21 PM
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হলে দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।
প্রস্তাবিত বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, “অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য বাজেটে বর্ণিত আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য এ মুহূর্তে জরুরি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। আওয়ামী লীগের মত বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে তাদের সমর্থক বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
“এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার বহাল না করলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অর্থাৎ তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যেন নিরাপত্তা যদি নিশ্চিত না করা হয়, সেক্ষেত্রে এই জনগোষ্ঠীর অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।”
সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রতিক্রিয়া তুলে ধরছিলেন জিএম কাদের।
তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, দেশ একটি সংকটকাল অতিক্রম করছে। সংকটের মাত্রা এবং গভীরতা এখন পর্যন্ত ধারণা করা যাচ্ছে না; তবে সেটা যে বিশাল—এ বিষয়ে সংশয় থাকা উচিত নয়। সে প্রেক্ষিতে জাতীয় ঐক্য অর্থাৎ প্রতিহিংসা, বিদ্বেষ ভুলে দল-মত নির্বিশেষে সকল নাগরিকদের একতাবদ্ধ করতে হবে।
“দেশবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এ সংকট থেকে আমাদের স্বস্তি এবং মুক্তি দিতে পারে। এটা সম্ভব হলেই সম্ভবত বাজেটকে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ হিসেবে গণ্য করা যায়।”
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে নতুন বছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এ বাজেট সবাইকে খুশি করার মতো মন্তব্য করে জিএম কাদের বলেছেন, কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আয় নিয়ে সংশয় রয়েছে।
তিনি বলেন, “সকল শ্রেণির মানুষের জন্য—মোটামুটি যে যা চেয়েছে তা দেওয়ার অঙ্গীকার বাজেটভুক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী। সে হিসেবে বাজেটটি নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনতুষ্টিমূলক বা সবাইকে খুশি করার বাজেট বলা যায়।

“কাঠামোগতভাবে বাজেটটি আমার কাছে গতানুগতিক পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। অর্থাৎ আগের বছরগুলোর ন্যায় সব কলামে বা আইটেমে কিছুটা বাড়তি করে চিরাচরিত প্রথায় প্রস্তুত মনে হয়েছে।”
জি এম কাদের বলেন, “কিন্তু এসব কিছু বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দেওয়ার জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে যে আয়ের ক্ষেত্র দেখানো হয়েছে, সেটা খুবই অনিশ্চিত। বাজেট বাস্তবায়নের জন্য রাজস্ব আয়ের যে ক্ষেত্র দেখানো হয়েছে, সেটা খুবই অনিশ্চিত।
“চলতি অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২৫-২৬ এ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে আয় হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা। সে হিসেবে একইভাবে আয় হলে বছর শেষে আয় হতে পারে প্রায় ৩ লাখ ৯২ হাজর ৩১৪ কোটি টাকা বা এর চেয়ে অল্প বেশি-কম।”
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।