Published : 05 Jun 2026, 09:50 PM
জাতীয় বাজেট সামনে রেখে দেশের অর্থনীতিকে ১২টি খাতে ভাগ করে ৭১টি প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
‘বাংলাদেশ ২.০: সংস্কার, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি' প্রতিপাদ্যে এই ছায়া বাজেট দেয় জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে আসা দলটি।
শুক্রবার বিকালে ঢাকার বাংলা মোটরে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব তুলে ধরে এনসিপির ছায়া বাজেট কমিটি। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এ ব্যাপারে জানানো হয়।
এনসিপির নেতারা ‘রাজস্ব ও সামষ্টিক অর্থনীতি’, ‘রাজস্ব কাঠামো ও করজাল সম্প্রসারণ’, ‘কর ন্যায়বিচার ও সংস্কার’, ‘শিক্ষা ও কর্মসংস্থান’, ‘স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা’, ‘কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা’, ‘পরিষ্কার জ্বালানি ও পরিবেশ’, ‘নারী, যুব ও অন্তর্ভুক্তি’, ‘সরকারি কর্মচারী ও শাসন সংস্কার’, ‘ব্যাংকিং, মূলধন বাজার ও অর্থায়ন’, ‘প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা’ এবং ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ খাতে প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া একটি সংকটাপন্ন অর্থনীতি হাতে পেয়েছে, যেখানে খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশের বেশি।
“প্রতিবছর ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি জ্বালানি আমদানি করতে হয়, যা দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি। অপব্যবহারের ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বহন করতে হয়।”
অর্থনীতি নিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেন হাসনাত। আর এসব পদক্ষেপ থেকে সরে আসার অভিযোগ তুলে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন এই এনসিপি নেতা।
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের সময়ে পরিসংখ্যানকে বিকৃত করে জনগণের কাছে অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র লুকানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল।
“মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি প্রচলন করেছিল, ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করেছিল এবং অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ চালু করেছিল। ব্যাংকগুলোয় জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ ২০২৫ করা হয়েছিল, যা বিএনপি সরকার ডিস্টর্ট করেছে।”
এনসিপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আরো বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অবকাঠামোগত উন্নয়নের তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়নকে প্রধান নিয়ামক ধরে চেষ্টা করা হয়।
“অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতি প্রশস্ত করার একটি স্বরূপ জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছে, বিএনপি সরকার তা থেকে দূরে সরে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর যেভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাতে যারা অর্থনীতি নিয়ে খোঁজ রাখেন, তাদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
‘বাংলাদেশ ২.০: সংস্কার, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি' প্রতিপাদ্যের ব্যাখ্যায় এনসিপির মিডিয়া টিমের সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাংলাদেশ ২.০ মানে হচ্ছে নতুন বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের স্বৈরশাসনের পর ‘ফ্যাসিস্ট’ শাসনের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার অর্থনৈতিক মুক্তি পুনরুদ্ধারের যে সংগ্রাম, সেটাকেই আসলে নতুন বিশ্বে চিহ্নিত করার জন্যে ২.০ বলা হয়।
“এরই পরিপ্রেক্ষিতে অন্যদের মতো বাংলাদেশেও এনসিপি বা নতুন প্রজন্মের যে তরুণ প্রজন্ম, তারা ‘বাংলাদেশ ২.০’ মানে বোঝে পরিবর্তনের বাংলাদেশ, নতুন বাংলাদেশ।”
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপ-প্রধান আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, দলের যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং জাতীয় শ্রমিক শক্তির যুগ্ম আহবায়ক সজিব ওয়াহিদ উপস্থিত ছিলেন।