Published : 08 May 2026, 02:52 AM
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরেই প্রমাণ দিলেন তিনিও হারতে পারেন। তবে তিনি যে তা মানতে পারছেন না, পদত্যাগ না করে প্রয়োজনে তাকে বরখাস্ত করার হুমকি দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন। অবশেষে মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণ দেখিয়ে ৭ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। এর ফলে, মুখ্যমন্ত্রী পদে আর থাকছেন না তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনে ভরাডুবির পরও মমতা যে পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিলেন, তার তো অজানা নয়, রাজ্যপাল চাইলেই তাকে সরিয়ে দিতে পারবেন। তাহলে কেন এমনটা করলেন? এতদিন মমতাকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অপরাজেয় বলে মনে করা হতো এবং পদত্যাগ না করে তিনি হারেননি, সেটাই বলে যেতে চেয়েছেন।
সত্যিই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে, তবে পরিবর্তন-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) যুক্ত না হলে মমতার নিজের আসন ভবানীপুরে তো বটেই, গোটা পশ্চিমবঙ্গে তার দল তৃণমূল কংগ্রেসের এমন ভরাডুবি ঘটত না।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয় যদি হয় ‘হিন্দুত্ববাদী’ দলটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অপেক্ষার অবসান, তাহলে এর মধ্যে যেন ‘অস্বস্তির কাঁটা’ হয়ে রয়েছে এই এসআইআর। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ভারতের সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ডট ইনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জিতেছে এমন অন্তত ১০৫টি আসনে এসআইআরের সময় বাদ পড়া ভোটারের মোট সংখ্যা দলটির জয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর কয়েক দিন চলে গেলেও ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোতে এখনো বিজেপির ‘বাংলা জয়’ নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। নির্বাচনের আগেই এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি যে বিজেপির জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে, সেটিও স্পষ্টতর হয়ে আসছে সংবাদমাধ্যমগুলোর পরিবেশিত তথ্য-উপাত্তে।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল হেরেছে অনেক বড় ব্যবধানে, অন্যভাবে বলা যায় ভারতের রাজনীতির দুই হেভিওয়েট পুরুষ—নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ চতুর্থবারের চেষ্টায় ‘শীর্ণকায়’ মমতাকে ধরাশায়ী করেছেন। নির্বাচনের আগে তারা দুজনে কলকাতায় এসে গেড়ে বসে ছিলেন এবং মমতাকে হারাবার জন্য যত কিছু করতে পারতেন, তার সবই করেছেনও।
ভোটে এসএইআরের প্রভাব মমতার আসনটি দিয়েই বুঝতে পারা যায়। মমতার আসন ভবানীপুর, যেখানে বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী মমতাকে হারিয়েছেন। ২০১১ সাল থেকে তৃণমূলের দখলে থাকা এই আসনে এসআইআরের শুরুতে ৫১ হাজারেরও বেশি নাম ছেঁটে দেওয়া হয়েছিল। আপিলের পর কিছু ভোটার তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেলেও সেখানে শেষপর্যন্ত এসএইআরের জন্য বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ছিল ৪৭ হাজার। কেটে দেওয়া ভোটারের সিংহভাগ তৃণমূলের সমর্থক, তাদের ৮০ শতাংশ বা ৩৭ হাজার হয়তো মমতাকে ভোট দিতেন। এই আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের অভিন্নহৃদয় সেনাপতি ও বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মূল কাণ্ডারি শুভেন্দু অধিকারী জিতেছেন ১৫ হাজার ১০৫ ভোটের ব্যবধানে। এসএইআরের খড়্গ না থাকলে মমতা হয়তো (৩৭-১৬)=২১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতে পারতেন। আবার পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু না করলে শুভেন্দু হয়তো আরও হাজার দশেক ভোট কম পেতে পারতেন। তাতে এসএইআর থাকলেও মমতা (১০-৫)= পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিততে পারতেন। তাই বলছিলাম এসআইএর আর জনগণের মনে জন্ম নেওয়া পরিবর্তনের আকঙ্ক্ষা—এই দুইয়ের জোড়া ধাক্কা মমতা ও তার দল তৃণমূলের জন্য এবারের বিধানসভা নির্বাচন বিধ্বংসী হলো, তার যেকোনো একটা না থাকলে মমতা হয়তো এখনো পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার মসনদেই থাকতেন।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনের সময় মনে হচ্ছিল, কলকাতা একসময় ভারতবর্ষের রাজধানী ছিল, সেই লুপ্ত গৌরব আবার ফিরে পেয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, নির্বাচন কমিশনের বড় বড় কর্মকর্তা, কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাঘা বাঘা জাঁদরেল অফিসার—সবার অফিস ‘স্থানান্তরিত’ হলো কলকাতায়। দুই লাখ ৪০ হাজার সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স (সিএপিএফ) বাহিনী তাদের সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে ঘুরছিল রাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে গ্রাম-গ্রামান্তরে।
নরেন্দ্র মোদী রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে পকেট থেকে ১০ টাকার নোট বের করে ঝালমুড়ি কিনলেন, গঙ্গায় নৌবিহার করলেন এবং ঐতিহাসিক ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে পত্রিকায় ছবি প্রকাশ করে পশ্চিমবঙ্গে তার অবস্থান জানান দিলেন।

ভারতের রাজনীতিতে একালের চাণক্য বলে পরিচিত অমিত শাহের অবশ্য ঝালমুড়ি চিবানোর বা নৌবিহারে যাওয়ার মতো অত সময় ছিল না। তিনি হোটেল ওয়েস্টিনে বসে ছক কষছিলেন, কোথায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগ করা যায়, কোথায় কীভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কমানো যায় এবং বিজেপির ভোট বাড়ানো যায়। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সব হাতিয়ার জড়ো করা হলো কলকাতায়; উদ্দেশ্য একটাই—বিজেপির গেরুয়া বাহিনীকে এবার জেতাতেই হবে।
ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মমতার পরাজয়ের ১০১টা কারণ বের করেছেন। সেই সব কারণের অনেকগুলোই হয়তো সঠিক। তবে আমি বলব, প্রধান দুটি কারণ হলো—কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাচারিতা ও পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মমতা-অবসাদ। কেন্দ্রীয় সরকারের কলকবজা সবই নির্বাচনে কাজে লাগানো হয়েছে এবং এটাও ঠিক, পশ্চিমবঙ্গের জনগণও পরিবর্তন চেয়েছে। এই দুটির একটাও যদি মিথ্যা হতো, তাহলে মমতা আবারও জিতে যেতেন। যেকোনো একটি কারণ মমতার সংখ্যাগরিষ্ঠতা কিছুটা টলমল করে দিতে পারত, কিন্তু এমনভাবে উপড়ে ফেলতে পারত না। ভোটের সংখ্যাগুলো পর্যালোচনা করলেই বোঝা যাবে মমতার পতনে কোনটা কী অবদান রেখেছে।
২০২৬ সালে বিজেপি এই নির্বাচনকে পরিণত করেছিল অনেকটা সর্বাত্মক যুদ্ধে। এই যুদ্ধে বিজেপির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো এসআইআর। এই সুন্দর নামটার আড়ালে রয়েছে বিজেপি-বিরোধী ভোটারদেরকে ছাঁটাই করার কৌশল।
এসআইআর কাজে লাগিয়ে নির্বাচন কমিশন প্রথমে ৯০ লাখ ভোটারকে বাদ দিয়েছিল ভোটার তালিকা থেকে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কিছু ভোটারকে রিভিউ বা পুনর্বিবেচনা করে আবার যোগ করা হলো তালিকায়। এই রিভিউ কার্যকর হওয়ার আগেই ভোট হয়ে গেল। ফলে শেষ পর্যন্ত ৫১ লাখ ভোটার নির্বাচনে রায় দেওয়ার সুযোগ বঞ্চিত হলো। পুরো ব্যাপারটাই ছিল হযবরল। তবে যে উদ্দেশ্যে এসআইআর করা হয়েছিল, বিজেপির জন্য তা ফলপ্রসূ হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ৫১ লাখ ভোটার কমল, কিন্তু ভোটদান বৃদ্ধি পেল ৩০ লাখ! যেসব নাম কাটা পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে, তারা ভোট দিতে পারেনি। বলা হয়েছে, তার সিংহভাগই তৃণমূলের ভোটার, আরও খোলাসা করে বললে বলা যায় মুসলিম ভোটার। যে ৩০ লাখ ভোট বেড়েছে, বলা হয়েছে তারা পরিবর্তন চান, তাই দলবেঁধে ভোট দিতে এসেছেন। তাতে ভোটদানের হার অনেক বেড়েছে।
এভাবে এসআইআরের কারণে অনেক তৃণমূল প্রার্থী হেরেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন-উত্তর এক ভাষণে বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন ১০০ আসন লুট করেছে।’ তার ইঙ্গিত স্পষ্টতই এসআইআরের দিকে। স্ক্রল ডট ইনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী এই ‘লুট’ করা আসন আরও পাঁচটি বেশি, সংবাদমাধ্যমটি বলছে ১০৫ আসনের কথা।
তবে অস্বীকার করার উপায় নেই যে, পরিবর্তনের একটা বড় হাওয়াও কাজ করেছে এই নির্বাচনে। পরিবর্তনের হাওয়ার সঙ্গে এসআইআর মিলে ঝড় হয়ে গেল। নির্বাচনের আগেই ভারতের ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন সম্বন্ধে এক নিবন্ধে লিখেছিল, “দিদি বনাম বিজেপি/ নির্বাচন কমিশন/ প্রশাসনের চেয়েও বড় কথা—এটি আসলে ‘দিদি বনাম দিদি’: নীরবতার আড়ালেও শোনা যাচ্ছে ‘একটু পরিবর্তনের’ গুঞ্জন। একেবারে মাঠ পর্যায়ে ভোটারদের কথা শুনলে—আপনি এক ভিন্ন নির্বাচনের সুরও শুনতে পাবেন: এখানে ‘দিদি’ কোনো ভুক্তভোগী নন, বরং তিনিই হলেন ‘ব্যবস্থা’ বা সিস্টেমের অংশ।”
যা ছিল পরিবর্তনের নীরব সুর, ভোটের বাক্সে সেটা সরব হয়ে উঠেছে এবং নিঃসন্দেহে মমতার পরাজয়ে সেটাও এক বড় ফ্যাক্টর ছিল। আরও যেসব ফ্যাক্টর এই পরিবর্তনে কাজ করেছে তা হলো—মুসলমান ভোটারেরা আগের মতো একচেটিয়াভাবে তৃণমূলকে ভোট দেয়নি, মুসলিমদের গড়া দুটি নতুন রাজনৈতিক দল ভোট কেটেছে তৃণমূলের। এর মধ্যে রয়েছে ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) এবং মুর্শিদাবাদের প্রাক্তন তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীরের গঠিত আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)। নতুন এই দুই দলের মধ্যে নওশাদ একটি আসনে এবং হুমায়ুন দুটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। দল দুটির অন্য কেউ বিজয়ী না হলেও তৃণমূলের পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছেন। এবারের বিধান সভা ভোটে প্রধান চার দলের বাইরে ‘অন্যান্য’ বা নির্দলীয় প্রার্থীরা যে ছয় শতাংশের মতো ভোট পেয়েছেন, তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই দুটি দলের দিকে গেছে বলে পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে। বামপন্থার দিকেও মুখ ফিরিয়েছে মুসলিম ভোটাররা। এবারের নির্বাচনে সিপিআইএমের শূন্যের গেরো কাটানো একমাত্র আসনটিও এসেছে মুসলিম প্রধান অঞ্চল ডোমকল থেকে এবং বিজয়ী বিধায়কের নাম মোস্তাফিজুর রহমান রানা।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে জনগণের অসন্তোষ তো ছিলই। সঙ্গে অন্য রাজ্যগুলোর তুলনায় পশ্চিমবাংলায় উন্নয়নের শ্লথ গতিও আলোচনায় এসেছে। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে মমতা যুগের অবসান হলো বলে ধারণা করা যায়। কিন্তু তার দল তৃণমূল কংগ্রেসের কী হবে? অমিত শাহের ‘অপারেশন লোটাস’—যা ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন চাপ ও লোভ-লালসা দেখিয়ে বিরোধী দলগুলোকে ভাঙার কাজে—তৃণমূলের বিরুদ্ধে সেটা কবে শুরু হবে, অনেকেই তা ভাবছেন? শুরু হলে তৃণমূল ওই পদ্মঝড় সামলাবে কীভাবে? এই তো দুই সপ্তাহ আগে রাঘব চাড্ডার নেতৃত্বে কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন আম আদমি পার্টির সাতজন রাজ্যসভা সদস্য বিজেপিতে যোগদান করেছেন। এরা সবাই পাঞ্জাবের। অনেকেই এটাকে দেখছেন দিল্লিতে কেজরিওয়ালকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এবার পাঞ্জাবেও আম আদমিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র হিসেবে।

অনেক প্রশ্ন সামনে—কে হাল ধরবেন তৃণমূলের? ভবানীপুরে বিজয়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রাজনৈতিক সন্ন্যাস’ শুরু হয়ে গেছে। সত্যি মমতা রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেলে তার ভ্রাতুষ্পুত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি এখন তৃণমূলের দুই নম্বর নেতা, হতে পারেন তৃণমূলের ভরসা। অবশ্য এই ভাইপোকে নিয়ে যথেষ্ট গঞ্জনা সইতে হয়েছে তার। তরুণ অভিষেক তৃণমূলকে নেতৃত্ব দেবেন নাকি কলকাতার মেয়র ফিরহাদ (ববি) হাকিম? হতে পারে বিধান সভায় ফিরহাদকে বিরোধীদলীয় নেতা করা হতে পারে। এটা ভাবা ভুল হবে যে মমতা রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাবেন। ধারণা করা যায় তিনি আগের মতোই লড়াকু বেশে ফিরে আসবেন, দলকে পুনর্গঠিত করবেন। তবে কী করেন, সেটা এখনও দেখার বিষয়।
পদত্যাগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বীকৃতি তার জন্য ভবিষ্যতে কোনো উপকার বয়ে আনবে কিনা, সেটাও দেখার বিষয়। তবে স্বীকার করতে হবে গণতন্ত্র ও নির্বাচন কোনো নিখুঁত বিজ্ঞান নয়। আর ক্ষমতায় গেলে, ক্ষমতা থেকে নামতেই হবে—এর কোনো বিকল্প নেই।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশে কী প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে, আমি নিজেও লিখেছি; আর নতুন কিছু যোগ করতে চাই না। শুধু আশা করব, নতুন মুখ্যমন্ত্রী, যে শুভেন্দু অধিকারী বা অন্য কেউ নিশ্চয়ই আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে অনুকরণ করবেন না। ভিন্ন দেশে হলেও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আমরা একই ভাষায় কথা বলি, একই সংস্কৃতি পালন করি এবং একই সুরে গান করি। আমরা আশা করব বিজেপির নতুন মুখ্যমন্ত্রী যিনিই নির্বাচিত হন না কেন, তিনি বাংলাদেশের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেবেন।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জেতা অর্ধেক আসনেই জয়ের ফারাকের চেয়ে ভোটার ছাঁটাই বেশি: স্ক্রল
সালেহ উদ্দিন আহমদ শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক