Published : 12 Jun 2026, 11:45 AM
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ একটি শান্তি চুক্তি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
তার বিশ্বাস, এই চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি আবার জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
তবে ইরান বলছে, আলোচনা কিছুটা এগোলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিন মাস ধরে চলা এই সংঘাত বন্ধে চুক্তিটি নিশ্চিত হলে তা হবে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য।
এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম যেমন অনেক বেড়ে গেছে, তেমনি হাজারো মানুষের প্রাণ গেছে।
আলোচনার অগ্রগতি ও দুই পক্ষের অবস্থান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দেশটির সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, চুক্তির খসড়ার একটি বড় অংশ চূড়ান্ত করা হলেও ইরান তাদের নীতিগত অবস্থানের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।
তিনি বলেন, “আমরা এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা বর্তমানে আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পর্যালোচনা করছে।”
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ইরানের সাথে যুদ্ধের একটি চমৎকার সমাধান করে ফেলেছি। চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। এটা শিগগিরই হবে, সম্ভবত ইউরোপে, এ সপ্তহেই হতে পারে।”
ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতাবা খামেনির এই চুক্তিতে অনুমোদন রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি যতদূর জানি, উত্তর হল ‘হ্যাঁ’।”
আলোচনায় অগ্রগতির কারণে ট্রাম্প ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পর চুক্তি নিয়ে তার এই ঘোষণা আসে।
তাতে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে।
চুক্তির শর্ত ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, যে কোনো শান্তি চুক্তিতে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে ইরান যেন কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা কিনতে না পারে।
তবে ইরান শুরু থেকেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।
চুক্তির ক্ষেত্রে তেহরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অবরুদ্ধ করে রাখা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি দেওয়া।
এই চুক্তির বিষয়ে পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য শক্তির প্রতিক্রিয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছেন, ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশ এই চুক্তি অনুমোদন করেছে।
তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, ইসরায়েল এই চুক্তির কোনো পক্ষ নয়।
তবে ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, চুক্তিতে ট্রাম্পের এমন শক্ত অবস্থানের প্রশংসা করেছেন নেতানিয়াহু।
অন্যদিকে, তেহরান লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে।
এদিকে তেলের উচ্চমূল্যের কারণে মার্কিন ভোটারদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প, যার ফলে তার জনপ্রিয়তার রেটিং কমছে।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধ থামানো এখন ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক তাগিদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।