Published : 13 Apr 2026, 01:32 PM
মাজার ও বাউলদের ব্যাপারে একটি গোষ্ঠীর রাগ-ক্ষোভ এতটাই তীব্র যে, তারা মনে করে সমস্ত মাজার গুঁড়িয়ে দেওয়া উচিত। আর বাউল-ফকিরদের চুল ও বেশভুষার প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, এরা ইসলামকে বিকৃত করছে। অতএব এদের হত্যা করা জায়েজ।
এই দৃষ্টিভঙ্গি যারা লালন করেন, তারা যে ইসলাম বোঝেন না বা ধর্মকর্ম চর্চা করেন না, তা হয়তো নয়। কিন্তু এখানে মোটা দাগে সমস্যা কয়েকটি।
১. মানুষের বিশ্বাস ও ধর্ম পালনের বৈচিত্র্যে এরা বিশ্বাস করেন না।
২. ভিন্নমতের বা ইসলামের মৌলিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কাজ করলেই যে তাকে হত্যা করা যায় না, বরং তার সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা বা বাহাসের সুযোগ আছে, এই পথে তারা যেতে চান না।
৩. ধর্মের নানা শাখা-উপশাখা থাকতে পারে। এটা মোটামুটি সব ধর্মেই। বরং ইসলামে এই শাখা-প্রশাখার সংখ্যা অনেক বেশি। কে সঠিক পথে আছে আর কে বেঠিক; কে বেহেশতে যাবে আর কে যাবে না—এই সিদ্ধান্ত উপনীত হওয়ার অধিকার কারোর নেই। কিন্তু শরিয়ত ও বেদায়াতের এই তর্ক যতটা না একাডেমিক তার চেয়ে বেশি ক্ষমতা চর্চার মধ্যে ঢুকে যায়। সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকেরা নিজেদের যুক্তির চেয়ে শক্তি প্রদর্শনে বেশি উৎসাহী। মিছিল নিয়ে একজন পীরের মাজারে কিংবা বাউলদের আখড়ায় হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। তারা বোঝাতে চান যে তারা সংখ্যাগুরু। তাদের কথার বাইরে কিছু হবে না।
৪. মাজার ও বাউলকেন্দ্রিক সংস্কৃতি চর্চাকে সব সময় ধর্ম তথা ইসলামের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলাটাও একটা বড় সমস্যা। লালনের একটি গানের লাইন এরকম: ‘যে মুর্শিদ সেই তো রাসুল, তাহাতে নাই কোনো ভুল, খোদাও সে হয়।’ এই লাইনটিকে কেউ যদি ইসলামের বেসিক থিওরি দিয়ে মূল্যায়ন করতে চায়, তাহলে সে দেখবে এটা ইসলামবিরোধী কথা। কিন্তু লালন এই কথাটি ঠিক কোন চিন্তা ও দর্শনের আলোকে লিখেছেন, সেটা কি আমরা জানি? লালন গবেষকদেরও সবাই কি লালনের সব বাক্যের অর্থ বোঝেন বা বোঝা সম্ভব?
একজন ইসলামিক বক্তার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল জীবনানন্দ দাশের ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে এই বাংলায়’ কবিতার লাইনের ব্যাখ্যা নিয়ে। ওই বক্তা কবিতাটির এমন উদ্ভট ব্যাখ্যা করেছেন যে, সেটা শুনলে প্রথমে আপনার হাসি পাবে। দ্বিতীয়ত, ওই বক্তার ওপরে চরম মেজাজ খারাপ হবে। কারণ অসাধারণ দেশপ্রেমের একটি কবিতাকে তিনি হিন্দুদের পুনর্জন্মের সঙ্গে তুলনা করে একটা মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে মূলত জীবনানন্দ দাশকে অসম্মানিত করতে চেয়েছেন। এই কবিতাটিই কেনো মুসলমান কবি লিখলে তিনি নিশ্চয়ই এই ব্যাখ্যা দিতেন না। কাজী নজরুলের ‘খোদার আসন আরশ ছেদিয়া উঠিয়াছি চির বিস্ময় আমি বিশ্ব বিধাত্রীর’—এই লাইনটি কোনো ইসলামিক স্কলার ইসলামবিরোধী বলে ব্যাখ্যা করেন না। অবশ্য এই সময়ে কাজী নজরুল এরকম একটি কবিতা লিখলে তার পরিণতি কী হতো, তা বলা কঠিন।
ইসলামিক বক্তাদের ওয়াজ শোনার জন্য যে লাখ লাখ মানুষ যায়, তারা হুজুরদের ব্যাখ্যা বিশ্বাস করেন। হুজুর বলেছেন, অতএব এটা সত্য। ফলে তিনি ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন হুজুর, এটা জীবনানন্দের জীবদ্দশায় দিলে হয়তো একদল তৌহিদী জনতা বরিশাল শহরের বগুড়া রোডে জীবনানন্দের বাড়িতে গিয়ে আক্রমণ চালাত এবং পিটিয়ে মেরে ফেলত কবিকে।

কুষ্টিয়ায় যে পীরকে পিটিয়ে হত্যা করা হলো, সেখানে ঘটনা একইরকম। ওই পীর নাকি কোরানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। প্রশ্ন হলো, কোরানের ব্যাখ্যাটি ভুল কি সঠিক, সেটা কে ঠিক করবে? যারা তাকে পিটিয়ে হত্যা করল, তারা সবাই কোরানের সঠিক ব্যাখ্যা জানে? তাদের সবাই সঠিকভাবে কোরান পড়তে পারে? তাদের সবাই ইসলামের চিন্তা ও দর্শন সম্পর্কে পণ্ডিত?
দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, ধরা যাক কেউ একজন তার কম জানাশোনার কারণে কোরানের কোনো একটি আয়াতের ভুল বা মনগড়া ব্যাখ্যা করলেন। সেজন্য তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে হবে? সবাই যে কোরানের সঠিক ব্যাখ্যা জানবে বিষয়টা তো এমন নয়। যারা লাখ লাখ মানুষের সামনে ওয়াজ করেন, ইসলামের কথা বলেন, বেহেশত-দোজখের কথা বলেন—তাদের সবাই কি কোরানের সঠিক ব্যাখ্যা জানেন? এইসব বক্তার মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধেই নারী বিদ্বেষ, অমুসলিমদের প্রতি ঘৃণা ছড়ানো, এমনকি দুয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতি নির্লজ্জ পক্ষপাতেরও অভিযোগ আছে। এগুলো অপরাধ নয়? এইসব অপরাধের কারণে কি তাদেরকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে হবে?
মূল সমস্যা হলো অসহিষ্ণুতা এবং নিজের বিশ্বাসকেই সঠিক মনে করা। যারা নিজের বিশ্বাসকে সঠিক এবং অন্যের বিশ্বাস বেঠিক মনে করে লাঠি বা ধারালো অস্ত্র নিয়ে আরেকজনকে পিটিয়ে মেরে ফেলে, মাজারে আগুন দেয়, কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে ফেলে—তাদের বিরাট অংশই ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামের চর্চা করেন না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও ঠিকমতো পড়েন না বা সঠিকভাবে সুরা-কেরাত জানেন না বলে নামাজটাও শুদ্ধ হয় না। মিথ্যা কথা বলে। সুযোগ পেলেই মানুষ ঠকায়। রাস্তায় নারীদের লক্ষ্য করে অসম্মানজনক কথা বলে। কিন্তু এই মানুষগুলোই তৌহিদী জনতার ব্যানার নিয়ে ইসলাম রক্ষার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে।
অথচ ইসলামের অন্যতম মৌলিক চেতনা হচ্ছে পরমতসহিষ্ণুতা। মহানবী (স.) সারা জীবন এই সহিষ্ণুতার চর্চা করেছেন। অমুসলিমদের ব্যাপারে তার সংবেদনশীলতা সর্বজনবিদিত। সুতরাং ইসলাম রক্ষার নামে যারা অন্যকে পিটিয়ে মেরে ফেলে; আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ধ্বংসাত্মক কাজ করে; তাদের জানাবোঝা ও চিন্তার মধ্যেই বিরাট ত্রুটি রয়ে গেছে। দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হলো, তাদেরকে বিভ্রান্ত করা এবং উত্তেজিত করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখেন কিছু ইসলামিক বক্তা। যারা একটি দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন।
যে তর্কের মীমাংসা হয় না সেটি হলো, কোনো পীরের বা অন্য যেকোনো মানুষের বিরুদ্ধে যে কোরান অবমাননার অভিযোগ আনা হয়, সেখানে কি সবাই তার পুরো বক্তব্যটা শুনেছে? এখন সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে যে কারো বক্তব্যের ভিডিও বা অডিও কেটে একটি খণ্ডিত অংশ প্রচার করে দিয়েই বলা হতে পারে যে, তিনি ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। অথচ তার পুরো বক্তব্যটি শোনা দরকার। দ্বিতীয়ত, তিনি সত্যিই কি এটা বলেছেন, নাকি আগে-পরের কিছু কথা জোড়া দিয়ে একটা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য তৈরি করা হয়েছে—সেটিও প্রমাণসাপেক্ষ। কিন্তু তারপরও তর্কের খাতিরে যদি এটা ধরে নেওয়া হয় যে, তিনি সত্যিই যে ব্যাখ্যাটা দিয়েছেন সেটি ভুল বা বিভ্রান্তিকর, তারপরও কি তাকে মেরে ফেলা জায়েজ হবে?
ধর্মীয় বিষয়ে কেউ তার গানে বা বক্তৃতায় কোনো উদাহরণ দিলেই সেটিকে কোরান ও হাদিসের নিক্তিতে মাপাটাও একটা বড় সমস্যা। একজন ইসলামিক স্কলার যেভাবে ব্যাখ্যা করবেন, একজন বাউল কিংবা একজন লালন অনুসারী সাধু বা তাত্ত্বিক বিষয়টাকে সেভাবে নাও দেখতে পারেন। কিন্তু আমারটাই সঠিক আর আপনারটা ভুল—এই বিচার করাটাই সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং যিনি ভুল করেছেন বলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বিশ্বাস করে, তাকে হত্যা করা বা তার ওপর আক্রমণ করার বৈধতা উৎপাদন করে।
সব সময় এইসব ঘটনার পেছনে যে ধর্মীয় বিশ্বাসই ভূমিকা রাখে তা নয়, বরং অনেক সময় ধর্মের ছোটখাটো বিষয়কে পুঁজি করে অন্য কোনো ব্যক্তিগত বা সামাজিক বিরোধ এমনকি অনেক সময় বড় কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্লটও তৈরি করা হয়। তৃণমূল পর্যায়ে যারা এসব কাজ বাস্তবায়ন করেন, তারা অনেক সময় এটা বোঝেন না বা জানেন না যে তারা দীর্ঘমেয়াদী কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন।
অনেক সময় এইসব ঘটনার দ্বারা বহির্বিশ্বে এই মেসেজ দেওয়া হয় যে, বাংলাদেশে কোনো ধর্মীয় স্বাধীনতা নেই; এখানে ভিন্ন মতের কোনো স্থান নেই বা বাংলাদেশ একটি উগ্রবাদী বা জঙ্গিবাদী দেশ—এরকম মেসেজও দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এখানে প্রচুর উগ্রবাদী ও জঙ্গিবাদী মানুষ আছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তাদের অশিক্ষা আর কুশিক্ষার কারণে যে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে; বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারত যে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছে—এই কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে, সেই বিবেচনাবোধটি এদের মধ্যে নেই। সুতরাং, বুঝে বা না বুঝে কে যে কার স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে সেটা বলা মুশকিল।
সরকারের দায়িত্ব কী? সরকারের দায়িত্ব এই মেসেজটা দেওয়া যে, এই দেশে সব ধর্ম, মত ও বিশ্বাসের মানুষ থাকবে এবং যে যার ধর্মের চর্চা করার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভোগ করবে। কেউ যদি মাজারে গিয়ে শান্তি পায় যাবে। যে মাজার পছন্দ করে না সে যাবে না। কিন্তু কোনো পীর বা তাত্ত্বিক যদি সত্যিই মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ান, তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলাও কেনো সমাধান নয়। বরং প্রচলিত আইনে তার বিচার হতে পারে। একইভাবে কেউ যদি ওয়াজ শুনতে যায় যাবে। কিন্তু ওয়াজের নামে কেউ যদি সমাজে নারী বিদ্বেষ এবং অমুসলিমদের প্রতি ঘৃণা ছড়ান; মাজার ও বাউল সংস্কৃতির বিরুদ্ধে মানুষকে উসকে দিয়ে তৌহিদী জনতা বানিয়ে দেন—তার বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রকে কঠোর হতে হবে। অর্থাৎ একটি সহনশীল এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাপূর্ণ সমাজ গঠনে রাষ্ট্রের যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকা দরকার—সেই জায়গায় এখনও অনেক কাজ বাকি আছে। শুরুটা করা দরকার এখনই।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘তৌহিদী জনতার’ উন্মত্ততার দৃশ্য দেখে দেশের মানুষের মনে এই প্রতীতি জন্মেছিল যে, একটি নির্বাচিত সরকার এলে বোধ হয় এইসব কর্মকাণ্ডের ইতি ঘটবে। বিশেষ করে কথিত তৌহিদী জনতার উৎপাত বন্ধ হবে। কিন্তু বন্ধ হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে এরকম একটি অভিযোগ ছিল যে, যারা মব সন্ত্রাস সৃষ্টি করে নানারকম ধ্বংসাত্মক কাজ করেছে, সরকারের একটি অংশই তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। সরকারের প্রশ্রয় অথবা নির্লিপ্ততায় বিভিন্ন উগ্রবাদী ও জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী শক্তিশালী হয়েছে। কিন্তু এখন একটি নির্বাচিত সরকারের আমলেও যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকে, তাহলে সরকারকে প্রথমেই এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, সরকার এদেরকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না বা সরকার ধর্মের নামে কোনো ধরনের উগ্রবাদকে সমর্থন করে না। জনমনে সরকার যদি এই বিশ্বাস স্থাপনে ব্যর্থ হয়, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের মতো তাদের বিরুদ্ধেও উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ উঠতে সময় লাগবে না।
স্মরণ করা যেতে পারে, জাতীয় নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন, তারা সকল ধর্মের, সকল মতের, বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী ও সংশয়বাদীদের জন্য একটা রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চান। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, মব কালচার শেষ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মব শেষ হয়নি। রাজধানীর শাহবাগে সমকামিতার অভিযোগ তুলে দল বেঁধে লোকজনকে পিটানো হয়েছে; মাজারে হামলা চালিয়ে একজন পীরকে হত্যা করা হয়েছে। উপরন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে আরও যা যা ঘটেছে, তাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্য অন্তঃসারশূন্য প্রমাণিত হয়।
সরকার যদি মনে করে যে, ধর্মীয় উগ্রবাদীদের সঙ্গে ব্যালান্স করে চলবে; ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে তাদেরকে সমঝে চলতে হবে—এরকম ভয়ের মধ্যে থাকলে সরকার দেশ থেকে মব সন্ত্রাস এবং তৌহিদী জনতার নামে উন্মত্ততা থামাতে পারবে না। সুতরাং সরকারকেই এটা প্রমাণ করতে হবে যে, তারা যা বলে, তা করে। না হয় দেশটা এমন একটি গোষ্ঠীর হাতে চলে যাবে, যাদের হাত থেকে খোদ বিএনপিও বাঁচবে না।