Published : 09 Mar 2026, 10:08 AM
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানের রাজপথে আমরা যে দৃশ্য দেখছি, তা ইতিহাসের এক নিষ্ঠুর পুনরাবৃত্তি ছাড়া কিছুই নয়। একদিকে রাষ্ট্রীয় শোকের আবহে অনুগতদের বিলাপ, অন্যদিকে গোপনে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ! আজকের এই দ্বিধাগ্রস্ত ইরান শুধু ভূ-রাজনীতির সৃষ্টি নয়, এর শিকড় গেঁথে আছে ১৯৭৯ সালের সেই রক্তঝরা দিনগুলোতে। ইরানের সেই মহাবিপ্লব, যা স্বৈরাচারী শাহের রাজত্ব উচ্ছেদ করেছিল, কেন শেষ পর্যন্ত তার নিজের প্রগতিশীল সন্তানদেরই গিলে খেল?

যে বামপন্থিরা (তুদেহ পার্টি, ফেদাইন খালক) রাজপথে রক্ত দিয়ে বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করেছিল, তারাই কয়েক বছরের ব্যবধানে খোমেনি সরকারের জল্লাদের দড়িতে প্রাণ হারাল? আজকের ইরানের এই যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ১৯৭৯ সালের সেই বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস জানা আমাদের জন্য শুধু জরুরিই নয়, বাস্তবতা হচ্ছে এটা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তির জন্য এক চরম সতর্কবার্তা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশেও আমরা এমনটাই দেখেছি, তবে মন্দের ভালো যে চরম ইসলামপন্থিরা ইরানের মতো এখানে ক্ষমতা দখল করতে পারেনি। ইরানের সেই বিপ্লব কিন্তু আজও এক বিয়োগান্তক উপাখ্যান হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যা আমাদের শিখিয়ে দেয় যে অশুভ শক্তির সঙ্গে করা ‘কৌশলগত জোট’ শেষ পর্যন্ত আদর্শিক আত্মহত্যারই নামান্তর।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবটি কেবল ইসলামপন্থিদের কোনো একক অর্জন ছিল না। ছিল শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বামপন্থি, উদারপন্থি ও ধর্মীয় শক্তিগুলোর এক অভাবনীয় কিন্তু ভঙ্গুর মোর্চা। তুদেহ পার্টি এবং ফেদাইন খালকের মতো সংগঠনগুলো কারখানায় শ্রমিক ধর্মঘট, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলন এবং রাজপথে গেরিলা হামলার মাধ্যমে শাহের শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। বিশেষ করে তেল শ্রমিকদের ধর্মঘট ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়ে শাহের পতনকে অনিবার্য করে তুলেছিল।

সেই সময়ের বামপন্থি তাত্ত্বিকরা এক বিশাল রাজনৈতিক অপরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তারা মনে করেছিলেন, আয়াতুল্লাহ খোমেনি শুধু একটি অন্তর্বর্তীকালীন ধর্মীয় প্রতীক এবং রাজতন্ত্রের পতন হলে পরবর্তী ধাপে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে। খোমেনির ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী’ বুলি শুনে অনেক তুখোড় বামপন্থি নেতা তাকে বীর হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন। তাদের এই সমর্থন ছাড়া শাহের পতন হয়তো আরও দীর্ঘস্থায়ী হতো, কিন্তু বামপন্থিদের এই ‘কৌশলগত জোট’ শেষ পর্যন্ত তাদের গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়ায়।
বিপ্লবের পরপরই ক্ষমতার প্রকৃত চেহারা স্পষ্ট হতে শুরু করে। খোমেনি এবং তার অনুসারীরা খুব দ্রুত বামপন্থিদের কোণঠাসা করতে শুরু করেন। যে বামপন্থিরা ইরানের শাহ শাসনামলের কুখ্যাত গোপন গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা কুখ্যাত সাভাক (SAVAK) বাহিনীর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন, তাদের জন্য খোমেনির রেভোল্যুশনারি গার্ডস আরও ভয়ংকর হয়ে দেখা দেয়। ১৯৮১ সাল নাগাদ খোমেনি ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লবের’ নামে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেন এবং কয়েক হাজার বামপন্থি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তুদেহ পার্টির মতো যারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সরকারকে সমর্থন দিয়ে টিকে থাকতে চেয়েছিল, তাদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি। ১৯৮৩ সালে তুদেহ পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুদ্দিন কিয়ানৌরিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং টেলিভিশনে জোরপূর্বক তার আদর্শিক পরাজয়ের স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়। এই বিশ্বাসঘাতকতা ছিল সুপরিকল্পিত এবং এর মধ্য দিয়ে ইরানের প্রগতিশীল রাজনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়।

ইরান-ইরাক যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হওয়ার আগেই (২৮ জুলাই ১৯৮৮) আয়াতুল্লাহ খোমেনি এক কুখ্যাত ফতোয়া জারি করেন: ‘যারা মোনাফেকিনের প্রতি অটল, তাদের ফাঁসি দাও—কোনো দয়া নয়।’ এর উদ্দেশ্য ছিল কারাগারের রাজনৈতিক বন্দিদের নির্মূল। তৈরি করা হয় ‘মৃত্যু কমিশন’ বা ডেথ কমিশন, যেখানে হুজতুলেসলাম নাইয়েরি শরিয়া জজ, মোর্তেজা এশরাকি প্রসিকিউটর ও ইব্রাহিম রাইসি ডেপুটি প্রসিকিউটর ছিলেন।

বন্দিদের কোনো আইনজীবী নিয়োগ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছিল না। তাদের কেবল জিজ্ঞেস করা হতো-আপনি কি ইসলামে বিশ্বাস করেন? আপনি কি মুজাহিদীন নেতা রাজভীকে বা সমাজতন্ত্রকে ঘৃণা করেন? এই সংক্ষিপ্ত এবং প্রহসনের বিচারে কয়েক মিনিটের মধ্যে নির্ধারণ করা হতো কার প্রাণ থাকবে আর কার যাবে। এই নিধনযজ্ঞে আনুমানিক ২,৮০০ থেকে ৫,০০০ জন রাজনৈতিক বন্দিকে হত্যা করা হয়। কেউ কেউ অবশ্য সংখ্যাটাকে ৩০ হাজারও হতে পারে বলে অনুমান করেন। জেলখানায় নির্বিচার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের বিশাল অংশ ছিল বামপন্থি সংগঠনের সদস্য ও সমর্থক। তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে তেহরানের অখ্যাত ‘খভারাঁ’ গণকবরে নামহীনভাবে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
এই হত্যাকাণ্ড ইতিহাসের অন্যতম মানবতাবিরোধী অপরাধ যা কিনা জাতিসংঘ মানবতাবিরোধী গণহত্যা বলে আখ্যায়িত করেছে। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি ভিন্নমত দমনে শাসকদের একপ্রকার দায়মুক্তি বা ‘অবাধ লাইসেন্স’ দিয়েছে। ১৯৮৮ সালের সেই নিধনযজ্ঞের ফলে ইরানি বামপন্থিদের একটি সম্পূর্ণ প্রজন্ম রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে হারিয়ে যায়, নির্দিষ্ট বিশ্বাসে বিশ্বাসীদের হত্যা আন্তর্জাতিক আইনে জেনোসাইড বলে গণ্য হতে পারে। এই শূন্যতাই ইরানের বর্তমান সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। যে প্রগতিশীল চেতনা একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক ইরান গড়তে পারত, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের প্রগতিশীল কণ্ঠরোধের সমান্তরালে ইরানের এই নিধনযজ্ঞ এক চরম বার্তা। রাষ্ট্রযন্ত্র যখন নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর তাঁবেদারি করে, মানবাধিকার তখন অর্থহীন কাগুজে বাঘ ছাড়া আর কিছুই নয়।
এই বিশ্বাসঘাতকতার করুণ ইতিহাস শুধু রাষ্ট্রীয় ফাইলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এই ট্রমা আঘাত করেছে তাদের সন্তান ও পরিবারকেও। তুদেহ বা ফেদাইন খালকের মতো বামপন্থি নেতাদের সন্তানরা পরবর্তীকালে অসংখ্য স্মৃতিকথা লিখেছেন। তাদের বইগুলোতে উঠে এসেছে ১৯৮৮ সালের নিধনযজ্ঞের ভয়াবহ বর্ণনা। একজন বন্দির কন্যা সাহার দেলিজানি লিখেছেন, “আশির দশকের সেই নৃশংসতা কেবল অতীত নয়; এটি আজও আমার সত্তাকে তাড়া করে বেড়ায়।” (চিলড্রেন অফ দ্য জ্যাকারান্ডা ট্রি, ২০১৩)।

মোনিরেহ বারাদারান–১৯৮০-এর দশকে ইরানের এভিন কারাগারে বন্দি থাকা একজন বামপন্থি– হত্যাযজ্ঞ থেকে বেঁচে যাওয়া উত্তরজীবী (survivor)। মোনিরেহ বারাদারানকে অবশ্য ১৯৯০ পর্যন্ত প্রায় ৯ বছর তেহরানের বিভিন্ন কারাগারে কাটান। ১৯৯১ সালে তিনি জার্মানিতে প্রবাসী হিসেবে গিয়ে বসবাস করেন এবং পরবর্তীকালে লেখালেখি ও মানবাধিকার কাজের সঙ্গে যুক্ত হন। তার লেখা ‘হাকিকত-এ সাদেহ’ বইটিতে তিনি নিজের কারাজীবন এবং তার পরিবারের সদস্যদের (যেমন তার ভাই ও ভগ্নিপতি) ওপর চালানো নির্যাতনের কথা তুলে ধরেছেন “আমাদের বাবা-মায়েরা বিপ্লব করেছিলেন স্বাধীনতার জন্য, কিন্তু তারা বিনিময়ে পেয়েছিলেন নামহীন গণকবর।” এই বইগুলো কি শুধু ব্যক্তিগত শোকের দলিল?, বাস্তবতা হচ্ছে এইগুলো খোমেনি শাসনের সেই আদর্শিক বিশ্বাসঘাতকতার জীবন্ত সাক্ষ্য। এটি এমন এক ট্রমা যা ইরানের সমাজকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ক্ষতবিক্ষত করছে।

বামপন্থিদের ওপর যে দমননীতি চালানো হয়েছিল, তার সঙ্গে ইরানি নারীদের অধিকার হরণের এক অদ্ভুত মিল রয়েছে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে নারীরা সমান অধিকারের আশায় শামিল হয়েছিলেন, অথচ খোমেনি ক্ষমতায় এসেই বাধ্যতামূলক হিজাব আইন জারি করেন। মজার ব্যাপার হলো, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার নেশায় তখন অনেক বামপন্থি সংগঠন নারীর অধিকারকে ‘বুর্জোয়া বিলাসিতা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। তাদের ধারণা ছিল আগে পশ্চিমাবিরোধী রাষ্ট্র গঠন করা জরুরি, নারীর অধিকার পরে দেখা যাবে। এই ভুল হিসেব নিকেশ আজ মাশা আমিনির উত্তরসূরিদের লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আশরাফ দেহঘানির মতো নারী বামপন্থি যোদ্ধাদেরও চরম নিষ্ঠুরতা সইতে হয়েছিল। শাসকরা বামপন্থি রাজনীতি এবং নারীর স্বাধীনতাকে একইভাবে ভয় পায়, কারণ উভয়ই তাদের ধর্মতান্ত্রিক অভিভাবকত্বের কাঠামোর জন্য এক বড় হুমকি।
আজকের ইরান যখন আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে এক ভয়াবহ যুদ্ধের মুখোমুখি, তখন একটি বড় ‘যদি’ সামনে চলে আসে। যদি সেই বামপন্থিদের ১৯৮০০এর দশকে নির্মমভাবে নির্মূল করা না হতো, তবে কি আজ ইরান ভূ-রাজনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে থাকত না? কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, বামপন্থিরা ইরানের শিল্পকারখানা ও শ্রমিক সংগঠনের ওপর ব্যাপক প্রভাব রাখত। একটি প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ ইরান হয়তো জাতীয় ঐক্য তৈরিতে আরও সফল হতো। বর্তমান থিওক্র্যাটিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কেবল ভীতি আর দমনের ওপর টিকে আছে, যা জাতীয় ঐক্যকে ভেতর থেকে ফোকলা করে দিয়েছে। ইরানের অনেক সাধারণ মানুষ আজ যতটা না বহিঃশত্রুকে ভয় পায়, তার চেয়ে বেশি ভয় পায় নিজেদের নিরাপত্তা বাহিনীকে। তাদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা মার্কিন-ইসরায়ের জোট। উসকাচ্ছে কুর্দি বিদ্রোহীদের। আমাদের মনে রাখা দরকার মাশা আমিনি একজন কুর্দি হিজাব না পরায় যাকে হত্যা করা হয়েছিল। তাই জনগণের মৌলিক অধিকারহীন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী প্রতিরোধ কতদিন টিকে থাকবে নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

খোমেনির উত্তরাধিকারী খামেনির মৃত্যু ইরানের জন্য এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে এসেছে। উত্তর-খোমেনি যুগের ইরান কি পারবে সেই ১৯৮৮-এর পাপ মোচন করতে? প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর যে রক্ত তেহরানের রাজপথে ঝরেছে, তার বিচার কি কখনো হবে? ইরানের রাজপথে যে তরুণরা আজ মুক্তির গান গাইছে, তাদের কণ্ঠের পেছনে মিশে আছে সেই তুদেহ আর ফেদাইন কর্মীদের অসমাপ্ত স্বপ্ন। ইতিহাসের এক অদ্ভুত বিড়ম্বনা হলো, বিপ্লবীরা যা তৈরি করে, বিপ্লবোত্তর স্বৈরাচারীরা তা ভোগ করে। ইরানের বামপন্থিরা বিপ্লব করেছিল শাহের হাত থেকে মুক্তির জন্য, কিন্তু তারা এক অন্ধকার থেকে আরেক অন্ধকারে ঝাঁপ দিয়েছিল।

খামেনি-পরবর্তী মোজতোবার ক্ষমতা আরোহন ১৯৮৯ সালের সেই নিয়মভঙ্গেরই এক আধুনিক পুনরাবৃত্তি। ১৯৮৯ সালে প্রথাগত ‘আয়াতুল্লাহ’ পদমর্যাদা ছাড়াই নিয়ম শিথিল করে আলি খামেনিকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল। আজও সেই ধারা বজায় রেখে আজ্ঞাবহ বিশেষজ্ঞ পরিষদ কেবল শাসকের অনুগতদেরই ক্ষমতার শীর্ষে আসার সুযোগ দিচ্ছে।
মোজতোবার ক্ষমতা লাভ আসলে জনগণের ইচ্ছার বদলে অভিজাতদের স্বার্থ রক্ষার এক সুপরিকল্পিত বা ‘ইঞ্জিনিয়ারড’ প্রক্রিয়া। এখানে সাংবিধানিক নিয়মের চেয়ে ক্ষমতার ধারাবাহিকতাই মুখ্য হয়ে উঠেছে। ১৯৮৯ সালে যেমন জ্যেষ্ঠতা এড়িয়ে খামেনিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল ‘বেলায়াত-ই ফকিহ’ ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে, মোজতোবার ক্ষেত্রেও একই রীতি দেখা গেছে। মানবাধিকারের নিরিখে এই প্রক্রিয়া প্রমাণ করে যে, ইরানের নিরাপত্তা কাঠামো আজও সেই কঠোর পন্থার ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে। এটি যেকোনো ভিন্নমতাবলম্বীকে রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে গণ্য করে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেবল শাসকের আজ্ঞাবহ করে রাখে।
১৯৭৯-এর বামপন্থিদের ট্র্যাজেডি শুধু কি ইরানের কোনো অভ্যন্তরীণ বিষয়, নাকি এটি বিশ্ব রাজনীতির জন্য এক চিরন্তন শিক্ষা? ক্ষমতা যখন ধর্মের মোড়কে একনায়কতন্ত্রের রূপ নেয়, তখন তার প্রথম লক্ষ্যবস্তু হয় মুক্তবুদ্ধির প্রগতিশীল মানুষ। নারীরাও। মাশা আমিনির ঘটনার পর প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী নারীদের দম করা হয়েছে কঠিন শাস্তি দিয়ে। তখন বলা হতো ইরানে নারীরা শুধু নির্যাতনের বেলায় ‘সমান’।
প্রগতিশীলদের প্রত্যাবর্তন, নাকি নতুন কোনো নিগড়—কোন পথে যাবে ইরান? এটিই এখন বড় জিজ্ঞাসা। তবে সেই রক্তস্নাত ইতিহাসের প্রতিটি পাতা আমাদের বলে যায়, প্রগতিশীল রাজনীতিকে টিকে থাকতে হলে নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখেই লড়াই করতে হবে। ইরানের রাজপথে খোমেনি বিরোধী যে সংগ্রাম চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে, তা যেন কোনো নতুন বিশ্বাসঘাতকতার শিকার না হয়, সেটিই এখন বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা।