Published : 19 Oct 2025, 07:33 PM
বর্ষা শেষে শরতের হাওয়া বইতে শুরু করলে আগুনের খবরও ফিরে ফিরে আসে। অতীতে গ্রামবাংলায় খোলা পরিবেশ, বর্ষার পর শুকনো গাছপালা, আর অগ্নিনির্বাপণের দুর্বল ব্যবস্থা মিলে আগুন লাগা ছিল প্রায় নৈমিত্তিক বিষয়। এখন অর্থনীতি ও প্রযুক্তিতে অনেক অগ্রগতি ঘটেছে, তবু শহরের ঘনবসতিপূর্ণ, তারের জট আর গলির ভেতর বন্দি জীবন যেন আগুনকে আরও ভয়ানক করে তুলেছে। আগের তুলনায় আমাদের অবকাঠামো আধুনিক হলেও, দাহ্য পণ্য মজুদ, অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ সংযোগ আর নিরাপত্তার ব্যাপারে অবহেলা নতুন বিপর্যয়ের জন্ম দিচ্ছে। একের পর এক অগ্নিকাণ্ড শুধু ভবন নয়, আমাদের নাগরিক নিরাপত্তাবোধকেও ছারখার করে দিচ্ছে। একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা আমাদের স্তব্ধ করে দিয়ে যাচ্ছে ফি-বছর।
গত সাত দিনে দেশে গড়ে প্রতিদিনই কোনো না কোনো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশিরভাগই ভয়াবহ। প্রাণের ক্ষতি মোকাবেলায় কিছুটা উত্তরণ ঘটলেও অগ্নিকাণ্ড ঘটবার প্রাদুর্ভাবটি মোকাবেলা করতে এখনও আমরা যেন পুরোপুরি ব্যর্থ। প্রতিবারই আগুন মানুষকে হারিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম ইপিজেডের অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিয়ে সচল একটা রপ্তানিমুখী কারখানার সাততলার ওপরে সূত্রপাত হওয়া আগুন আমরা নেভাতে পারিনি। পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে গোটা কারখানাটি।
১৮ অক্টোবর সোয়া দুইটায় আগুন লেগেছিল ঢাকায় দেশের বৃহত্তম, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে। বিমানবন্দরের আট নম্বর গেটের উত্তর পাশে কুরিয়ার ওয়্যারহাউজের পেছনে স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইন্সের ওয়ার্কশপ থেকে আগুনের সূত্রপাত, প্রত্যক্ষদর্শীরা এমনটিই বলছেন। অভ্যন্তরীণ অর্থাৎ দেশের ভেতর বিবিধ কার্গো ক্যারি করার এয়ারলাইন এটি। এদের জন্য নির্ধারিত চত্বরে সূত্রপাত হওয়া আগুনটি দেড় ঘণ্টায় পাশের কুরিয়ার ওয়্যারহাউজে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তা ছড়ায় পাশের ডেঞ্জারাস গুডস ওয়্যারহাউজে। সেখান থেকে পাশের বন্ডেড গুডস ওয়্যারহাউজে। তারপর সবার উত্তরে কমার্শিয়াল অ্যান্ড ট্যাক্সেবল গুডস ওয়্যারহাউজে। সাত ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত নয়টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে, বলা যায় পুড়ে ক্ষ্যান্ত হওয়ার পর। এই লম্বা সময়ের আগুনে গোটা ইমপোর্ট ওয়্যারহাউজে আদৌ কোনো মালামাল সুরক্ষিত আছে—এমনটা ভাববার সুযোগ নেই।
৩৫টি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। শুরুতে অংশ নেয় সিভিল এভিয়েশনের নিজস্ব দুটি ফায়ার স্টেশনের টিম। তাদের পরপরই বিমানবন্দরের বিভিন্ন এভিয়েশনের অগ্নি নির্বাপণী ইউনিট এবং সরঞ্জামও আগুন নেভাতে সচেষ্ট হয়। এমনকি সেনা ও বিমানবাহিনীও তাদের সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসে। তারপরও আগুন যেন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সদর্পে পুড়িয়ে গেছে সবকিছু।
দিনটি ছিল শনিবার। শুক্র ও শনি, সাপ্তাহিক ছুটির এই দু-দিন কাস্টমসের কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকে। শনিবারে কিছু সময়ের জন্য কাস্টমস কর্মকাণ্ড সচল হলেও তা দুপুর দুটায় বন্ধ হয়ে যায়। তবে এক্সটার্নাল অ্যাক্টিভিটি বন্ধ থাকলেও বিমানবন্দরে ইন্টার্নাল অ্যাক্টিভিটি ২৪ ঘণ্টা চলমান থাকে, অগ্নিকাণ্ডের দিনেও যা সচল ছিল। আগুন ছড়িয়ে পড়লে স্বাভাবিকভাবে যাবতীয় বিমান ওঠানামা বন্ধ হয়ে যায়। তাই সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রথম চেষ্টা ছিল বিমানবন্দর দ্রুত সচল করা। প্রাথমিকভাবে সন্ধ্যা ছয়টায় সচল করার লক্ষ্যে ঘোষণা দিলেও অবশেষে বিমান চলাচল বন্ধ হওয়ার ছয় ঘণ্টা পর রাত নয়টায় তা সম্ভব হয়। সচল হওয়ার পর রাত নয়টা ছয় মিনিটে প্রথম বিমানটি বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। এরই মধ্যে অনেকগুলো ফ্লাইট চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে, ঢাকায় নামতে না পেরে। একটি ফ্লাইট কলকাতা বিমানবন্দরেও জরুরি অবতরণ করে।
একের পর এক বড়সড় অগ্নিকাণ্ডকে ঘিরে নাশকতার প্রশ্ন সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল। সামাজিক ও মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলেন অনেকে। ঘটনা ও দুর্ঘটনার জেরে হাজারও প্রশ্ন মানুষের মনে আসবেই—এটা স্বাভাবিক। তাছাড়া একের পর এক দুর্ঘটনায় আগুনের কাছে আমাদের সকল প্রযুক্তি ও চেষ্টার হেরে যাওয়া দেখতে দেখতে মানুষের মনে প্রশ্নের এবং সন্দেহের উদ্রেক স্বাভাবিক মাত্রা ছাড়াবে, এটা অস্বাভাবিক নয়। সাত ঘণ্টা পর বিমান চলাচল স্বাভাবিক হওয়া এবং এর পেছনে সাফল্য-ব্যর্থতা ঘিরে লাগাতার অগুনতি বিশ্লেষণ আর ব্যবচ্ছেদ হওয়া স্বাভাবিক, আর তা চলতেও থাকবে মানুষের মনোযোগ অন্য কোনো দিকে ব্যস্ত না হয়ে পড়া পর্যন্ত।
কিন্তু বারে বারে আগুনের কাছে হেরে যাওয়ার স্বাভাবিক প্রশ্ন ও করণীয়ের পাশাপাশি দেশের মূল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডে এমন ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির পেছনে কী কী ভুল, সক্ষমতার অভাব, সমন্বয় সংকট বা ঘাটতি, অবহেলা ও অসঙ্গতি ছিল তা খতিয়ে দেখা ভীষণ জরুরি। এই অগ্নিকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ক্ষতি মালামাল পুড়ে যাওয়া এবং অবকাঠামোগত ক্ষতি। কিন্তু এর পরোক্ষ ক্ষতি অপরিমেয়। আমদানিকারক যাদের মালামাল পুড়েছে বা নষ্ট হয়েছে, তাদেরকে যদি মালামালের ক্ষয়ক্ষতির সমানুপাতে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও আরও বহুবিধ ক্ষয়ক্ষতি রয়ে যাবে—উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, রপ্তানি ব্যাহত বা বাতিল হওয়া থেকে শুরু করে এর হিসাব অনেক দূর বিস্তৃত। ফরোয়ার্ড লিঙ্কেজ এবং ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজে আরও অনেক স্টেকহোল্ডার এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সর্বোপরি এই অগ্নিনির্বাপণ ব্যর্থতা এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিতে এই বিমানবন্দরের এবং এর পরিচালনায় জড়িত সংস্থাসমূহের পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এই আগুনে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও প্রবাসীদের একাধিক মরদেহ কফিনসহ ভস্মীভূত হয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি যাদেরকে স্বজনের মৃতদেহটি অক্ষত পাওয়া থেকে বঞ্চিত করল, তাদের এ ক্ষতি তো নিঃসন্দেহে অপূরণীয়।
মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শতভাগ নম্বর অর্জন করে প্রত্যয়ন পায়। যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট (ডিএফটি) এ মূল্যায়নটি করেছে। এই মূল্যায়নে অগ্নিনির্বাপণ তথা নিরাপত্তার বিষয়টি অতি অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত। তার মানে প্রত্যয়ন পাওয়ার মতো ব্যবস্থা উপস্থিত ছিল। ঘটনাস্থলের ৫০ থেকে ১০০ মিটার দূরত্বে সিভিল এভিয়েশনের দুটি অগ্নিনির্বাপণী ইউনিটও আছে।
দুর্ঘটনা ঘটার আধা ঘণ্টার ভেতর (বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী এবং মতান্তরে যদিও সময়ের তারতম্য আছে এবং তা অন্তত ১৫ মিনিট) ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট উপস্থিত হতে শুরু করে এবং একে একে আরও ইউনিট যোগ দিতে থাকে। তথাপি প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও মতামত অনুযায়ী অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলে তা নির্বাপণে শুরুতে কিছু না কিছু অবহেলা ছিল। নিরাপত্তার প্রশ্নে এমনকি ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিটকে আট নম্বর গেটে বেশ কিছু সময় অপেক্ষমাণ থাকতে হয়েছে। ভেতরে (কুরিয়ার ওয়্যারহাউজেও) বিস্ফোরক দ্রব্য ও আগ্নেয়াস্ত্র আছে এমন যুক্তিতে বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট লোকজনকে অগ্নিনির্বাপণে এগিয়ে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
প্রথমদিকে বেশ কিছু সময় ফায়ার সার্ভিস বাইরে থেকে দেওয়ালে ও ছাদে পানি দিয়েছে অকার্যকরভাবে, কেননা তারা নিরাপত্তার প্রশ্নে অনুমতির অভাবে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। অথচ আগুনের সূত্রপাত এবং নেভানোর কার্যকর অবস্থান ছিল কমপ্লেক্সের ভেতরের দিকে। উল্লেখ্য অতীতেও এমন অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল যা যথাসময়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারায় আগুন এভাবে ছড়িয়ে গিয়ে এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারেনি। কিন্তু এবার পারল। অথচ অতীতের চেয়ে আমাদের প্রযুক্তিগত এবং অগ্নিনির্বাপণের সক্ষমতা নিঃসন্দেহে বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার কথা।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে অনুচ্চারিত প্রতিবন্ধকতাগুলো তাহলে কী ছিল যা আমাদের সক্ষমতাকে পকেটবন্দি করে রেখেছে। যার ফলশ্রুতিতে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটল। প্রথমত, বিমানবন্দরটি চলে একটি জটিল বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে। জায়গার মালিক সিভিল এভিয়েশন, কর্তৃপক্ষ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, এখানে কাজ করে দেশি-বিদেশি অসংখ্য এয়ারলাইন্স, অগণিত ক্লিয়ারিং ও ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট, গ্রাউণ্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং আমদানিকৃত মালামালের অধিকারিক কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
সমন্বয়ের অভাব এই বিমানবন্দরের কয়েক দশকের পুরোনো সমস্যা। জবাবদিহিতার ঘাটতি এবং ট্রেড ইউনিয়নের চাপ এটিকে বিশ্বের সর্বাধিক মানবসম্পদ-নির্ভর বিমানবন্দর (বিমান-মানুষ অনুপাতে) করে তুলেছে। ফলে, উচ্চ অপারেটিং খরচ সত্ত্বেও মালামাল মিসহ্যান্ডলিং নৈমিত্তিক ছিল—যদিও গত দশকে অনেকটা সামলে এসেছে। তার আগে চুরির ভয় ছিল সবচেয়ে মারাত্মক, যা কর্তৃপক্ষ সামলে এনেছে। তবু অবকাঠামোগত ঘাটতিতে খোলা আকাশের নিচে মালামাল পড়ে থাকা এখানে স্বাভাবিক। এই ত্রিমুখী কর্তৃপক্ষ-কেন্দ্রিক সংকট দ্রুত ব্যবস্থার প্রধান অন্তরায়, কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের মতো বিষয়ে এর প্রভাব মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
সম্প্রতি প্রত্যয়ন পেলেও স্মোক ডিটেক্টর, ফায়ার ডিটেক্টর, অটো ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম কি যথাযথ মানে ও পরিমাণে ছিল? যা ছিল, তা কি কার্যকর ছিল বা কাজে এসেছিল? নির্বাপণের জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্প্রিঙ্কলার ও পর্যাপ্ত ডিপ টিউবওয়েল কি ছিল? প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এসে তাদের বাহনে মজুদ পানি স্প্রে করার পর পানির জন্য বসে ছিল। পানির জোগান দিতে এমন স্থাপনায় একাধিক নিজস্ব ডিপ টিউবওয়েল অপরিহার্য। নামকাওয়াস্তে টারমাকে প্লেনে আগুন নেভানোর ড্রিল করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ত করে পূর্ণাঙ্গ ফায়ার ড্রিল আরও জোরালোভাবে হওয়া প্রয়োজন। অগ্নিকাণ্ডে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সকল সক্ষমতা অবকাঠামোয় জোগানের পাশাপাশি সকলকে প্রশিক্ষিত করে অনভিপ্রেত ঘটনা মোকাবেলায় সক্ষম করতে হবে—এতে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। ওয়্যারহাউজের প্রতিটি অংশের পণ্য অনুসারে নির্দিষ্ট নির্বাপণ ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করলে এমন ভয়াবহতা এড়ানো যেত। কেননা প্রত্যয়নের চেয়ে বহুগুণ গুরুত্বপূর্ণ সত্যিকারের প্রস্তুতি। কেউ কেউ অবশ্য এ অগ্নিকাণ্ডের পেছনে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব দেখতে পাচ্ছেন। তারা বলছেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে বিমানবন্দর পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর করাও এই দুর্ঘটনার পেছনের একটি কারণ হতে পারে।
চিলের পেছনে ছোটার চেয়ে কানের সুরক্ষা নিশ্ছিদ্র করাই সর্বোত্তম প্রতিকার। সক্ষমতা, সতর্কতা ও সকল স্টেকহোল্ডারকে প্রশিক্ষিত করে সর্বাঙ্গীণ মোকাবেলা সামর্থ্য অর্জনের জন্য বছরে অন্তত দুবার পূর্ণ ফায়ার ড্রিল করতে হবে—যাতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষেরই চর্চার অভ্যাস থাকে এবং দুর্ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে। তাহলে দুর্ঘটনা হোক বা ষড়যন্ত্র, সব সামাল দেওয়া যাবে। নতুবা একে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর সংস্কৃতিতে নিমজ্জিত হয়ে তদন্ত প্রতিবেদনের জটিল কসরতে এরকম দুর্ঘটনা মোকাবেলার কিচ্ছুটি কোনোকালে হবে না।
এবারের অগ্নিকাণ্ড তদন্তে গঠিত কমিটিগুলোর প্রতিবেদনে কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থার সকল নির্দেশনা, প্রস্তাবনা ও পরামর্শ আসবে বলে আশা করতে চাই আমরা। কেননা শিক্ষা নেওয়ার উপায় শুধু ভুল চিহ্নিত করা নয়, তা প্রতিরোধ ও নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াও। শুধু ইমপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স নয়, গোটা বিমানবন্দরের চুলচেরা নিরীক্ষা প্রতিবেদন আসুক, যাতে স্থাপনা-সেবা বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি অগ্নি ও বিপর্যয়-বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত হন।