Published : 17 Feb 2026, 01:56 AM
রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদল বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য উৎসবের মুহূর্ত হয়ে এলেও, নতুন সরকারের সামনে অর্থনীতি প্রথম অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভোটের ফলাফল সংখ্যায় নিরঙ্কুশ হয়েছে, কিন্তু ব্যাংকের হিসাবের খাতায় তো আর রাজনৈতিক স্লোগান জমা রাখা যায় না। বেকার তরুণের কাছে ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি মধুর শোনালেও ভোটের পর তারা চাইবে কাজের বাস্তব সংস্থান।অথচ দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে এক জটিল সন্ধিক্ষণে—ব্যাংকিং খাতের আস্থাহীনতা, বাজারের অস্থিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট এবং বাড়তে থাকা বেকারত্ব একই সঙ্গে চাপ সৃষ্টি করছে।
এই বাস্তবতা কেবল পরিসংখ্যানের ভাষায় বোঝা যায় না; তা ধরা পড়ে কারখানার বন্ধ দরজায়। রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটা ছোট্ট গার্মেন্টস কারখানা। সকাল সাতটায় খোলার কথা ছিল, এই সেদিন, শ্রমিকরা এসে দেখে গেইট তালাবন্ধ। তাদের চোখে প্রশ্ন, মুখে উদ্বেগ। কারখানার মালিক অবশ্য আগের দিনই বলে গেছেন, ব্যাংক থেকে ঋণ না পেলে মেশিন চালু রাখা সম্ভব নয়। এই দৃশ্য শুধু দুয়েকটি কারখানার নয়। সারাদেশে হাজারো ছোট-বড় কারখানা এখন অনিশ্চয়তার মুখে। কাঁচাবাজারের নিস্তেজ ভিড়ে, মধ্যবিত্তের নীরব হিসাব-নিকাশে আশঙ্কা। নির্বাচন ক্ষমতা দেয়, কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট সমাধানের জন্য দরকার কাঠামোগত সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সততা এবং সাহসী সিদ্ধান্ত। ফলে প্রশ্নটি কেবল নতুন প্রধানমন্ত্রী কী করবেন—সেখানে থেমে নেই।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন আজই। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর ক্ষমতায় আসার এই মুহূর্তে তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে দাঁড় করানো।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের বেশিরভাগ সময় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ শতাংশের কাছাকাছি। খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বেশি। মাত্র তিন বছর আগে যে পরিবার মাসে একবার মাংস কিনতে পারত, এখন তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রই কষ্টে কিনছে। গত সপ্তাহে কাঁচাবাজারে এক মুদি দোকানদারের সঙ্গে কথা হলো। তিনি বলছিলেন, এখন মানুষ প্রতিটি পয়সা হিসাব করে খরচ করছে। আগে দিনে বারো হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হতো, এখন সাত হাজারও হয় না। ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা এতটাই কমেছে যে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এখন শুধু অত্যাবশ্যক খরচই করছে। সন্তানের পড়াশোনার খরচ থেকে শুরু করে চিকিৎসা সবকিছুতেই কাটছাঁট করতে হচ্ছে। তারেক রহমানের সরকারের প্রথম দায়িত্ব হবে এই সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফেরানো।
অর্থনীতির এই বিপর্যয় একদিনে তৈরি হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখন মোট ঋণের প্রায় ৯ থেকে ১০ শতাংশ। পুনঃতফসিল করা এবং আড়াল করা ঋণ যোগ করলে এই সংখ্যা আরও বেশি। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল তদারকি এবং ঋণ অনুমোদনে স্বজনপ্রীতি একটি ভঙ্গুর ভিত্তি তৈরি করেছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট তীব্র হয়েছে। উচ্চ সুদের হার ব্যবসায়ীদের নতুন বিনিয়োগ থেকে বিরত রাখছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যবসায়ীরা আস্থাহীনতায় ভুগেছেন। তারা অপেক্ষা করছিলেন একটি নির্বাচিত সরকারের জন্য।
আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এখন আর ছোটখাটো সমাধানে কাজ হবে না। গোটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকেই নতুন করে দাঁড় করাতে হবে। বিনিয়োগকারীদের মনে বিশ্বাস জাগাতে হবে যে তাদের বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকবে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশে তারা ব্যবসা করতে পারবেন। এজন্য প্রয়োজন একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো, খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি বন্ধ করা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন দেওয়া এগুলো অগ্রাধিকার পেতে হবে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও বাংলাদেশকে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বাড়ানো, মূলধন পর্যাপ্ততা জোরদার করা এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছে। পেশাদার ব্যাংকার এবং অর্থনীতিবিদদের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব দিতে পারলে মুদ্রানীতি কার্যকর হবে। ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরবে। ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততা বাড়ানো এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলে সাধারণ আমানতকারী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আবার ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর ভরসা করবেন।
তবে ব্যাংক সংস্কার করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক জ্বালানি এবং খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২১ সালে ছিল প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে যা খুব দরকার শুধু সেগুলোই আমদানি করতে হবে। অযথা খরচ কমাতে হবে। আর শুধু তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর ভরসা করলে চলবে না।
সবাই জানেন বাজারে সিন্ডিকেট ভাঙা প্রায় দুঃসাধ্য। তবে এটা না করলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে পণ্যের সরবরাহ বাড়বে এবং দাম সহনীয় পর্যায়ে নামবে। টিসিবির কার্যক্রম স্বচ্ছ করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। মাঝখানের দালাল কমিয়ে কৃষক যেন উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বাজারে বিক্রি করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। যদি সরকার শুরুতেই এই দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবে।
রপ্তানি খাতের দিকে তাকালে দেখা যায়, পোশাকশিল্প মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ জোগান দেয়। এই একক খাতের ওপর নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ। বৈশ্বিক চাহিদা কমলে বা বাণিজ্যনীতিতে পরিবর্তন এলে পুরো অর্থনীতি চাপে পড়ে। তাই আইটি, ফার্মাসিউটিক্যাল, চামড়া, হালকা প্রকৌশল এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যে প্রণোদনা বাড়ানো দরকার। দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভিয়েতনামের অভিজ্ঞতা দেখায়, বহুমুখীকরণ দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনে।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাতে হবে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পণ্যের মান উন্নয়ন, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। রপ্তানি উদ্যোক্তারা বলেন, ভারত-ইইউ চুক্তির বিপরীতে বাংলাদেশেরও কাউন্টার চুক্তির সুযোগ খোঁজা উচিত। তারা আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা চান সরকার তাদের কথা শুনুক এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান দিক।
এবার আসা যাক কর-জিডিপি অনুপাতে নতুন সরকার কী ভূমিকা নিতে পারে সে প্রসঙ্গে। বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বলছে, এই অনুপাত ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে আছে, যেখানে উন্নয়নশীল দেশের গড় ১৫ শতাংশের বেশি। রাজস্ব আহরণে কাঠামোগত দুর্বলতা স্পষ্ট। করের হার না বাড়িয়ে বরং করের আওতা বাড়ানো, ডিজিটাল ট্র্যাকিং জোরদার করা এবং স্বচ্ছতা বাড়ানো কার্যকর হতে পারে। স্বচ্ছভাবে কর দিলে ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা এলে কর আদায় বাড়বে। যদি সরকার একটি ব্যবসাবান্ধব কর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে এবং করদাতাদের হয়রানি বন্ধ করতে পারে, তাহলে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
মেগাপ্রজেক্টে অপচয় এবং দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এগুলো কঠোর তদারকির আওতায় এনে ব্যয় সংকোচননীতি গ্রহণ করা হলে বাজেট ঘাটতি কমানো সম্ভব। অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকটের মূল কারণ হলো অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা এবং দেশীয় সম্পদ অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিকৃত এলএনজি এবং কয়লার ওপর নির্ভরশীল। ডলারের দাম বাড়লে বা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে উৎপাদন খরচে। ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা ব্যয়বহুল হয়ে যায় এবং প্রতিযোগিতার ক্ষমতা কমে যায়। বিএনপি সরকার এই সংকট মোকাবেলায় কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে পারে। দেশের অনশোর এবং অফশোর গ্যাস ব্লকগুলোতে নতুন করে অনুসন্ধান বাড়াতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বঙ্গোপসাগরে এখনো বিপুল পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে উৎপাদন ভাগাভাগি চুক্তি করে দ্রুত অনুসন্ধান কাজ শুরু করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতেও জোর দিতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ এবং জলবিদ্যুতে বিশেষ প্রণোদনা দিলে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে দক্ষতা বাড়ানোও জরুরি। পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আধুনিকীকরণ করতে হবে। সঞ্চালন লাইনে অপচয় কমাতে হবে। সবচেয়ে জরুরি হলো শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। জ্বালানি সংকট সমাধান না হলে শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে যাবে। তারা যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন, তাহলে তা অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তি আনবে।
ব্যবসায়ীরা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অনানুষ্ঠানিক ব্যয় এবং নীতির ঘনঘন পরিবর্তনের অভিযোগ করেন। সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ায় ব্যবসা শুরু করা অনেক সহজ। দ্রুত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তা করা যায়। বাংলাদেশে এখনও নানা ধাপ পেরোতে হয়। পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন এবং পেপারলেস ব্যবস্থাপনা চালু করলে সময় এবং ব্যয় কমবে। ছোট উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন।
অন্তর্বর্তী সরকার শেষ সময়ে কিছু সংবেদনশীল চুক্তি করেছে। বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়গুলো নতুন সরকারের পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত। এসব চুক্তি জাতীয় স্বার্থে কতটা ইতিবাচক, নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি কিনা এবং ব্যবসার জন্য অনুকূল কিনা সেটা যাচাই করতে হবে।
কর্মসংস্থান এখন সবচেয়ে বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ। প্রতিবছর লাখো তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার হিসাব বলছে, যুব বেকারত্বের হার উদ্বেগজনক। দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজ ঋণ নিশ্চিত করা জরুরি। স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করলে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মানুষের প্রত্যাশা যতই বাড়ুক, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কিন্তু রাতারাতি ঘটে না। এই বাস্তবতা মেনে নিয়েও বলতে হয়, নতুন সরকারকে একটি শক্তিশালী ১০০ দিনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিতে হবে। প্রথম তিন মাসেই কিছু জরুরি পদক্ষেপ নিলে মানুষ বুঝবে যে সরকার তাদের কষ্ট অনুভব করছে এবং কাজ করছে। ১৯৯০-এর দশকে পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি দেশ কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছিল। শুধু কথা বললে হবে না। কাজ করার মতো শক্ত ও সৎ প্রতিষ্ঠান না থাকলে পরিবর্তন আসবে না।
আগামী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো বিশাল। তবে সম্ভাবনাও কম নয়। তার তারুণ্যনির্ভর নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা কাজে লাগাতে পারলে পরিবর্তন সম্ভব। এমন একটি অর্থনীতি গড়তে হবে, যেখানে পরিচয় নয়, যোগ্যতা মূল্য পাবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ এবং তাদের সমস্যার দ্রুত সমাধান দিতে পারলে আস্থাহীনতার মেঘ কাটবে। প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত হবেন।
বিশ্ববাজারও এখন স্থির নয়। কোথাও যুদ্ধ, কোথাও বাণিজ্য দ্বন্দ্ব, এর প্রভাব আমাদের ওপরও পড়ছে। বাণিজ্য যুদ্ধ, জ্বালানি দামের ওঠানামা এবং ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এসব মোকাবেলায় সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করে এগোতে হবে।
শুরুতেই মানুষকে পরিষ্কারভাবে বলতে হবে কী পরিকল্পনা, কী অগ্রাধিকার, আর কবে নাগাদ ফল পাওয়া যাবে। সরকার সফল কিনা, তা বোঝা যাবে সাধারণ মানুষের জীবন কতটা সহজ হলো তা দেখে। কাঁচাবাজারের সেই মুদি দোকানদার যদি আবার দিনে বারো হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করতে পারেন, মিরপুরের কারখানার শ্রমিকরা যদি নিশ্চিন্তে কাজে যেতে পারেন, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা যদি আবার স্বপ্ন দেখতে পারে তাহলেই বোঝা যাবে অর্থনীতি সত্যিই ঘুরে দাঁড়িয়েছে।