Published : 04 Jan 2026, 09:36 AM
কারাকাসের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেন নিকোলাস মাদুরো। তার বাবা ছিলেন বামপন্থী রাজনীতির একনিষ্ঠ কর্মী। বাবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি ছাত্রজীবন থেকেই সমাজ বদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং পরবর্তীকালে বেছে নেন সাধারণ শ্রমিকের জীবন। একজন বাসচালক হিসেবে নিজের কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তিনি। ১৯৯৯ সালে হুগো শাভেজ ক্ষমতায় এলে মাদুরো তার বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠজনে পরিণত হন। ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। হুগো শাভেজের প্রয়াণের পর ২০১৩ সালে তিনি প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন
হুগো শাভেজ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। সমাজতান্ত্রিক ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অনড় অবস্থানের কারণে শাভেজ যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান ও ইরাক আগ্রাসনের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং ইরানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাদুরো পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। এমনকি ওয়াশিংটন মাদুরোকে দেশটির বৈধ সরকারপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিতেও অস্বীকার করে।
যুক্তরাষ্ট্র অনেক দিন ধরেই প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে মাদক পাচার ও সংঘবদ্ধ মাদকচক্রের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করে আসছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, ভেনেজুয়েলা তাদের তেলের নৌযানের মাধ্যমে গোপনে মাদক পাচার করছে; যদিও এর সপক্ষে তারা কখনোই কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ হাজির করতে পারেনি।
ভেনেজুয়েলার এই কথিত মাদকচক্র দমন ও অবৈধ অভিবাসী ঠেকানোর অজুহাতে ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’ শুরু করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই অভিযানের নামে ভেনেজুয়েলার উপকূলে প্রতিদিন ছোট ছোট নৌযানে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষ হত্যা করা হচ্ছিল। জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক এই বর্বরোচিত আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বিড়ম্বনার বিষয় হলো, নির্বিচারে মানুষ হত্যা ও নৌযান ধ্বংস করলেও অভিযানে সামান্য মাদকও উদ্ধার করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। অথচ এর বিপরীতে ভেনেজুয়েলা সরকার নিজস্ব তৎপরতায় ৬৪ টন মাদক জব্দ করে তাদের মাদকবিরোধী অবস্থানের প্রমাণ দিয়েছে।
মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) ‘২০২৫ ন্যাশনাল ড্রাগ থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট’-এ ভেনেজুয়েলাকে কোকেন উৎপাদক দেশ হিসেবে দেখানো হয়নি। অথচ মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ‘কার্টেল দে লস সোলেস’ নামক একটি কাল্পনিক গোষ্ঠীকে ‘বৈদেশিক সন্ত্রাসী সংগঠন’ (এফটিও) হিসেবে অভিযুক্ত করে আসছে—যা নাকি প্রেসিডেন্ট মাদুরো পরিচালনা করছেন। কিন্তু বাস্তবে এই কথিত সংগঠনের সঙ্গে মাদুরোর কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি খোদ ডিইএ-এর নথিতেও এই সংগঠনের কোনো নাম নেই; কারণ বাস্তবে এমন কোনো সংগঠনের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি।
প্রকৃতপক্ষে বিশ্বের অবৈধ মাদকের সবচেয়ে বড় ভোক্তা এবং সংঘবদ্ধ মাদকচক্রের প্রধান কেন্দ্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ খোদ যুক্তরাষ্ট্র; অথচ তারাই এখন ভেনেজুয়েলাকে এ নিয়ে অভিযুক্ত করছে! জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড ড্রাগ রিপোর্ট ২০২৫’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় কোনো মাদক উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান নেই। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈশ্বিক মাদক উৎস মূল্যায়নেও ভেনেজুয়েলার নাম পাওয়া যায়নি।
কথিত মাদকচক্র দমনের নামে যুক্তরাষ্ট্র কারাকাস উপকূলের কাছে ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজসহ মোট ১০টি জাহাজ এবং ১৫ হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছিল। মূলত যেকোনো সময় দেশটিতে সরাসরি সামরিক হামলা চালানোর উদ্দেশ্যেই কয়েক মাস আগে থেকে এই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। যেকোনো মুহূর্তে আক্রমণের আশঙ্কায় ওই অঞ্চলের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার সতর্কতা জারির পাশাপাশি দেশটির গোয়েন্দা ও সামরিক বিভাগকে সেখানে গোপন অভিযানের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে রাখা হয়েছিল।
ন্যাশনাল লয়ার্স গিল্ডের ‘মিলিটারি ল’ টাস্ক ফোর্স’ এই ঘটনাকে গুরুতর ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, সামুদ্রিক ও সামরিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। এমনকি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’—যারা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বহিঃআক্রমণ বা নৃশংসতা নিয়ে খুব একটা সোচ্চার নয়—তারাও স্বীকার করেছে যে, মাদক নিয়ন্ত্রণ ছিল ওয়াশিংটনের জন্য একটি অজুহাত মাত্র; তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য অন্য কিছু।
এমন পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলায় একাধিক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী কারাকাস একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। হামলার কিছুক্ষণ পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে দেশের বাইরে নিয়ে গেছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র আগেই মাদুরোকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান মাদক পাচারকারী হিসেবে অভিযুক্ত করে তার মাথার দাম ৫ কোটি ডলার ঘোষণা করেছিল।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার প্রতিবাদে ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টি অব ভেনেজুয়েলা (পার্তিদো সোশালিস্তা উনিদো দে ভেনেজুয়েলা, যা সংক্ষেপে পিএসইউভি বলে পরিচিত) কারাকাসের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তা নিশ্চিত করেছে। হামলাগুলো মূলত সামরিক স্থাপনা—ফোর্ট টিউনা ঘাঁটি ও লা গুয়াইরা বন্দর—লক্ষ্য করে করা হয় এবং মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্য আক্রান্ত হয়। হামলার আগে এফএএ ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় মার্কিন বিমানের চলাচল নিষিদ্ধ করে।
পিএসইউভি এই হামলাকে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে গুরুতর সামরিক আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলার উদ্দেশ্য তেলসহ ভেনেজুয়েলার কৌশলগত সম্পদ দখল এবং তথাকথিত ‘রেজিম পরিবর্তন’ চাপিয়ে দেওয়া, যা কখনোই সফল হবে না।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার জনগণকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছে এবং ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা’ কার্যকর করেছে। ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষ জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার ঘোষণা দিয়েছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
পিএসইউভি বলছে, মার্কিন এই হামলা জাতিসংঘ সনদের—বিশেষ করে ১ ও ২ নম্বর অনুচ্ছেদের—সরাসরি লঙ্ঘন, যেখানে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, আইনি সমতা এবং বলপ্রয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই আগ্রাসন আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে, বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলকে গুরুতর হুমকির মুখে ফেলছে এবং লাখ লাখ মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছে। জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলা তার জনগণ, ভূখণ্ড ও স্বাধীনতা রক্ষায় ‘বৈধ আত্মরক্ষার অধিকার’ সংরক্ষণ করে।
এই হামলার উদ্দেশ্য একটাই—ভেনেজুয়েলার কৌশলগত সম্পদ, বিশেষ করে তেল ও খনিজ সম্পদ দখল করে দেশটির স্বাধীনতা খর্ব করা। মার্কিন জ্বালানিবিষয়ক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইআইএ-এর হিসাবমতে, ভেনেজুয়েলায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। এই পরিমাণ ইরাকের তেলের মজুতের চেয়েও বেশি এবং বিশ্বের মোট মজুতকৃত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। উল্লেখ্য, এক সময় যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা তেলের দশম বৃহত্তম উৎস ছিল এই ভেনেজুয়েলা।
২০০৫ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। তখন থেকেই ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি বন্ধ থাকলেও দেশটির তেলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের বড় কারণ হলো—এই তেলের সহজলভ্যতা এবং পরিবহন খরচ কম হওয়া। মার্কিন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাইস ফিউচারস গ্রুপের বাজার বিশ্লেষক ফিল ফ্লিন বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় আমাদের অনুকূলে একটি বৈধ সরকার থাকলে তাদের মাধ্যমে বিশ্বে তেলের সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্য ও সংকটের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হতো।’ এছাড়া ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও প্রভাব বিস্তার করা সহজ হতো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য।
ভেনেজুয়েলার তেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলে রাশিয়ার তেল ক্রেতাদের ভেনেজুয়েলামুখী করে রুশ অর্থনীতিকে দুর্বল ও চাপে রাখা সম্ভব হবে। কেননা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পরও চীন ও ভারতের মতো দেশগুলোর রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মোটেও স্বস্তিকর নয়। মূলত ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতেই এই সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, মাদুরোকে আটকের পর ভেনেজুয়েলায় আর বড় কোনো সামরিক অভিযানের প্রয়োজনীয়তা নেই। তবে বিতর্কিত বিরোধী নেত্রী ও নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো দেশটিতে অভ্যুত্থান ঘটানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, রুবিও লাতিন আমেরিকায় বামপন্থী বা কমিউনিস্ট ভাবাদর্শের একজন কট্টর বিরোধী হিসেবে পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, রুবিওর মূল পরিকল্পনা হলো ভেনেজুয়েলায় মাদুরো সরকারকে পতনের মাধ্যমে কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকেও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া। এর ফলে পুরো অঞ্চলে মার্কিনবিরোধী শক্তিগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে এবং ওয়াশিংটনের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা করবে’ যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলাকে কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় পরিচালনা করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে লোক মনোনীত করছি।’ এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মূলত তারাই দেশটিকে শাসন করবে; অর্থাৎ তার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা কর্মকর্তারাই শাসনকার্য পরিচালনা করবেন বলে তিনি বুঝিয়ে দেন। ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, ভেনেজুয়েলার তেল কোম্পানিগুলোকে বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
লাতিন আমেরিকার সরকারগুলো ও জনগণ ঐতিহাসিকভাবে মার্কিন আগ্রাসনবিরোধী। যে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ এই অঞ্চলজুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রকে আঞ্চলিকভাবে কোণঠাসা করে ফেলতে পারে। এর ফলে ভেনেজুয়েলায় গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি বাড়বে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে শরণার্থী স্রোত ও ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে।
ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একে ‘স্বাধীনতার লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেছেন, মাদুরো আটক হলেও ভেনেজুয়েলার সরকার, সামরিক বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো এখনো অটুট আছে। লাতিন আমেরিকা বিশেষজ্ঞ ডগলাস ফারাহ মনে করেন, ‘ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হামলার ফলে এক দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, যার কোনো স্পষ্ট সমাধান এই মুহূর্তে নেই।’
ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সর্বাধিনায়ক হুগো শাভেজ বলেছিলেন, ‘যে কোনো নতুন সংকটে—তার মাত্রা যাই হোক না কেন—সব দেশপ্রেমিকের জবাব একটাই: ঐক্য, সংগ্রাম, লড়াই এবং বিজয়’ মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলার দেশপ্রেমিক জনগণের জবাব কী হবে, তা এখন কেবল সময়ই বলে দেবে।