Published : 19 May 2026, 02:48 PM
২০ ও ২১ মে দিনভর গণশুনানির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন(বিইআরসি)। বিদ্যুতের দাম বাড়াবে বলে এই আয়োজনের কাব্যিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তন’। মূল্যহার পরিবর্তন মানে দাম ‘কমা’ বা ‘বাড়া’ দুটোই বোঝায়। কিন্তু কখনই বিইআরসি বিদ্যুতের দাম কমানোর শুনানি করেনি। একবার কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম. শামসুল আলম বিইআরসিকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বিদ্যুতের দাম কমানোর প্রস্তাব দেন। দাবি করেন প্রকাশ্য গণশুনানির। সংবাদমাধ্যমের সামনেই তিনি প্রস্তাব দেন বিশদভাবে বিদ্যুতের দাম কমানোর যুক্তি উপস্থাপনের। বিইআরসি জনচাপে সেটা গ্রহণ করলেও সেই যুক্তিসমূহ আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড করেনি। পরে অজুহাত দেয়, বিইআরসি আইন অনুসারে বিদ্যুৎ উৎপাদক ছাড়া কেউ এই প্রস্তাব দেওয়ার অধিকার রাখে না। পরে সেই আইন পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু বিইআরসি সেটা আর আমলে নেয়নি।
বিইআরসি আইনে বহু গণবিরোধী ধারা আছে যেগুলো সংস্কার দরকার। ইতোমধ্যে রাজনীতির জল বহুদূর গড়িয়েছে, রাষ্ট্র সংস্কারের ডাক এসেছে, দেশে বহু আইনের সংস্কার ঘটেছে, জনস্বার্থে বহু আইন পরিবর্তন-পরিবর্ধনের পথ পেরিয়েছে কিন্তু বিইআরসি আইন সেই অন্ধকারেই থেকেছে।
এই লেখাটা যখন লিখছি তখন খবর পেলাম বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম কলমের এক ঘষায় কোনো শুনানি ছাড়াই আবারো লিটারে ১৮ টাকা ৮৫ পয়সা বাড়িয়েছে বিইআরসি। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। প্রতি লিটারের ফার্নেস তেলের দাম ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা থেকে বেড়ে ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা হয়েছে। নতুন দাম ১৮ মে রাত ১২টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। এর আগে গত মাসে ফার্নেস অয়েলের দাম বেড়েছিল লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা।
ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ানোর পরেই ২০, ২১ মে বিইআরসি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য প্রহসনের গণশুনানির আয়োজন করেছে সাড়ম্বরেই।
আসলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত পড়েছে এক বিপদজনক খাদে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দায়মুক্তির আইনে করা সব অসম বিদ্যুৎ উৎপাদন চুক্তি পর্যালোচনার জন্য একটি পর্যালোচনা কমিটি করা হয়। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের এক কমিটি এই চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করে যে রিপোর্ট দেন, সেটা পড়লে বোঝা যায় বিদ্যুৎ খাত পুকুর চুরি নয়, সমুদ্র ডাকাতির কবলে পড়েছিল। ওই কমিটি এই রিপোর্টের যে নাম দিয়েছিল সেটা শুনলেই অন্তরআত্মা কেঁপে ওঠে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের দুর্দশার কথা ভেবে। ওই রিপোর্টের শিরোনাম ছিল, ‘ব্যয়বহুল চুক্তির ফাঁদে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন: শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা ও মুনাফা লুটের প্রক্রিয়া’।
ওই রিপোর্ট ফ্যাসিবাদী জমানায় বিদ্যুৎ খাতের লুণ্ঠন আর দুর্নীতির ফলাফল হিসেবে যা ঘটেছিল তার বয়ান দিতে যেয়ে যা বলেছিল তার সারসংক্ষেপ ছিল এরকম:
ক) বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা পিডিবি গুরুতর আর্থিক সংকটে রয়েছে। ২০১৪–১৫ অর্থবছরে সংস্থাটির বার্ষিক লোকসান ছিল ৫,৪৬৮ কোটি টাকা, যা ২০২৪–২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০,৫৬৫ কোটি টাকায়। একই সময়ে ভর্তুকি বেড়ে হয়েছে ৫৯,৬০০ কোটি টাকা।
খ) বর্তমান পরিস্থিতিতে এই লোকসান ভরাট করতে গেলে পিডিবির প্রতি বছর অতিরিক্ত ৪–৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে, যা এই প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থাকে আর্থিকভাবে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
গ) দীর্ঘ দেড়দশক ধরে অতিরিক্ত দামে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা এবং দুর্বল তদারকি এই সংকটের মূল কারণ। এর ফলে অলস বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য বিপুল পরিমাণ ক্যাপাসিটি চার্জ বা পেমেন্ট দিতে হচ্ছে। এটা পুরো দেশের অর্থনীতির জন্য একটা বড় ফাঁদ হিসাবে দেখা দিয়েছে।
ঘ) ২০০৯ সালের পর থেকে স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা পাঁচ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেলেও ব্যবহার হার এখনো মাত্র ৪০–৫০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। ফলে ৭,৭০০–৯,৫০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা অলস পড়ে আছে।
ঙ) এই অলস ক্ষমতার বিদ্যুতের জন্যও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। বিদ্যুৎ নেই অথচ পুষতে হচ্ছে ক্যাপাসিটি চার্জ। তরল জ্বালানি ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় এই ক্যাপাসিটি চার্জ হচ্ছে প্রতি মাসে প্রতি কিলোওয়াটে প্রায় ১২ মার্কিন ডলার (১৪৭৬টাকা/কিলোওয়াট/মাস)। আর কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সমূহে ক্যাপাসিটি চার্জ হচ্ছে প্রতি মাসে প্রতি কিলোওয়াটে প্রায় ২৫ মার্কিন ডলার(৩০৭০টাকা/কিলোওয়াট/মাস প্রায়)।
শুধু ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বাবদই বছরে আনুমানিক ৯৯–১৬৫ বিলিয়ন টাকা ব্যয় হচ্ছে।
চ) এই দুরবস্থার কাফফারা হিসাবে পূর্ণ ব্যয় সমন্বয় করতে বিদ্যুতের দাম প্রায় ৮৬ শতাংশ বাড়াতে হতে পারে, যা বাংলাদেশের শিল্পখাতের বিদ্যুৎকে এই অঞ্চলের অন্যতম ব্যয়বহুল করে তুলবে। এবং শিল্পহ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করবে।
ছ) আদানি পাওয়ার লিমিটেড, এস এস পাওয়ার, সামিট গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্পে অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে অপ্রয়োজনীয় ও অতিমূল্যের চুক্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফা তৈরির জন্য ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং আমলাদের মধ্যে পদ্ধতিগত যোগসাজশ ছিল। এটা একটা সমন্বিত দুষ্টচক্রের রাজনৈতিক বন্দোবস্ত হিসেবে সক্রিয় থেকেছে।
বলা ভালো বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সংকট এখন আর বিদ্যুতের ঘাটতির বিষয় নয়; বরং এটি দুর্বল শাসনব্যবস্থা, অতিরিক্ত ব্যয় এবং আর্থিক অস্থিতিশীলতার সংকট হিসেবেই দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অস্বচ্ছ চুক্তি ও দুর্বল তদারকির কারণে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা, উচ্চ বিদ্যুৎ মূল্য এবং বাড়তে থাকা আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের সহায়তায় এই লুটতরাজ ঘটতে পেরেছে। সেক্ষেত্রে দায়মুক্তির আইন বানিয়ে এই লুণ্ঠনকে প্রণোদিত করা হয়েছে। তদারকি সংস্থা বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি সেখানে নিষ্ক্রিয় থেকেছে এবং এই লুন্ঠনে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা করেছে।
সেই বিইআরসি এখন নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে গণশুনানির নাম করে। অতীতে কখনই যে বিদ্যুতের দাম কমানোর কোনো প্রস্তাবই গ্রহণ করেনি। আইনের দোহাই দিয়ে ইতোপূর্বে বিদ্যুতের মূল্য কমানোর প্রস্তাব বিইআরসি অগ্রাহ্য করেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ১৩ নং আইন)-এর ৩৪(৪)(৬) ধারায় বলা আছে, ‘লাইসেন্সী ট্যারিফ পরিবর্তনের প্রস্তাব বিস্তারিত বিবরণসহ, কমিশনের নিকট উপস্থাপন করিতে পারিবে এবং কমিশন, আগ্রহী পক্ষগণকে শুনানী দেওয়ার পর, ট্যারিফ পরিবর্তনের প্রস্তাবসহ সকল তথ্যাদি প্রাপ্তির ৬০(ষাট) দিনের মধ্যে উহার সিদ্ধান্ত সম্বলিত বিজ্ঞপ্তি জারী করিবে’৷–এই আইনের দোহাই দিয়ে বিদ্যুতের মূল্য কমানোর প্রস্তাব প্রহসনে পরিণত করেছে। অথচ ভোক্তাদের জনবান্ধব প্রস্তাব গ্রহণের জন্য এই আইন পরিবর্তনের কোনো প্রস্তাব বিইআরসি গ্রহন না করে জ্বালানি সুবিচার বঞ্চিত করে ভোক্তার জ্বালানি অধিকার খর্ব করেছে।
বিইআরসি আইনের ২২(ঝ) ধারায় বলা আছে, বিদ্যুৎ উত্পাদন এবং এনার্জি সঞ্চালন, বিপণন, মজুতকরণ, বিতরণ ও সরবরাহ বিষয়ে, প্রয়োজনবোধে, সরকারকে সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করবে তারা। অথচ ৫ অগাস্ট ২০২৪ রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরেও এ বিষয়ে সরকারকে কোন সুপরামর্শ না দিয়ে গণবিরোধী লুণ্ঠনমূলক আচরন বজায় রেখেছে বিইআরসি।
ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে বহু জনবিরোধী আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিইআরসি তার আইনের গণবিরোধী লুণ্ঠনমূলক ধারাসমূহ সংশোধনের কোনো উদ্যোগ নিজে নেয়নি। এমনকি ভোক্তাদের পক্ষে বিইআরসি আইনের সংশোধনের প্রস্তাবও আমলে নেওয়ার প্রয়োজনটুকু বিইআরসি অনুধাবন করেনি। জনগণের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা থেকে বের হয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ানোর যে রাজনৈতিক প্রবণতা, রাষ্ট্রনৈতিক উদ্যম গ্রহণের ধারা তৈরি হয়েছে তা উপেক্ষা করে জনস্বার্থে ভোক্তাদের প্রস্তাব আমলে নেওয়ার জন্য আইন পরিবর্তনে সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার প্রয়োজনটুকুও অনুভব করেনি বিইআরসি।
অথচ বিইআরসি আইনের ৩৪(৩) ধারা অনুযায়ী, ‘কমিশন ট্যারিফ নির্ধারণের লক্ষ্যে প্রবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে পদ্ধতি (methodology) নির্ধারণ করিবে।’ সেটা না করে বিইআরসি গণবিরোধী প্রবিধানমালা বজায় রেখে ব্যবসায়ীদের মুনাফা থেকে করপোরেট ট্যাক্স না নিয়ে ভোক্তাদের কাছ থেকে নিচ্ছে। এই গণবিরোধী প্রবিধানমালা পরিবর্তনের বদলে তা চালু রেখে ভোক্তার স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে লুণ্ঠনকেই সুরক্ষা দিচ্ছে। বিইআরসির গণবিরোধী চরিত্র বজায় থাকায় জনগণ তাই জ্বালানি সুবিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
শুধু তাই নয় বিইআরসি আইনের ২২(ট) ধারায় বলা আছে, ভোক্তা বিরোধ, অসাধু ব্যবসা বা সীমাবদ্ধ (monopoly) ব্যবসা সম্পর্কিত বিরোধের উপযুক্ত প্রতিকার নিশ্চিত করা বিইআরসির কাজ। অথচ ক্যাবের তরফ থেকে ভোক্তাদের অভিযোগ নিষ্পত্তির যত আবেদন দেওয়া হয়েছে তার কোনটাই যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করেনি বিইআরসি। তাদের এই নিষ্ক্রিয়তা জনস্বার্থকে ভুলুণ্ঠিত করে ভোক্তার জ্বালানি সুবিচার পাওয়ার অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করেছে। এটা বিইআরসিকে ভোক্তাবান্ধব হওয়ার বদলে ভোক্তাবিরোধী করেছে।
বিইআরসি আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী, ‘যদি কোন ব্যক্তি এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের বিধান লঙ্ঘন করেন, তিনি অনধিক ৩ (তিন) বছরের কারাদণ্ড বা অন্যূন ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকার অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং অপরাধ অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে প্রতি দিনের জন্য অনধিক ৩,০০০ (তিন হাজার) টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন৷’ অর্থাৎ বিইআরসি আইন না মানা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শুনানি ছাড়া জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করে, ঘরে বসে জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি করে, প্রহসনের শুনানি করে বিইআরসি সেই অপরাধ করেছে। আগের বিইআরসি করেছে, এখনকার বিইআরসিও সেটা করছে। ভোক্তাদের অভিযোগ যথাযথভাবে নিষ্পত্তি না করে, শুনানি ছাড়া জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করে, আদালতের আদেশ-নির্দেশ অমান্য করে বিইআরসি নিজেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে। এখন তার শাস্তি কেন হবে না? বিচারপতির বিচার এখন কে করবে?
ভোক্তাদের পক্ষে বিইআরসির বর্তমান কমিশনকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে তাদের অপসারণ দাবি করে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করা হয়েছে। সেই আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণের এখতিয়ার কিভাবে বিইআরসি রাখছে? এটা নৈতিক তো নয়ই ন্যায়ানুগও নয়। এ বিষয়ে বিইআরসি ভোক্তাদের কখনো কোনো ব্যখ্যাও দেয়নি। এভাবে ধাপে ধাপে ভোক্তাঅধিকার ভূলুণ্ঠিত করে জনগণের জ্বালানি অধিকার নস্যাৎ করে জ্বালানি অবিচারের ভুরি ভুরি প্রমাণ রেখে আবারে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর অভিপ্রায় নিয়ে জনগণের সামনে এসেছে বিইআরসি।
বলা হচ্ছে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় যা আর বিক্রি করে যে টাকা আসে তাতে ঘাটতি থাকে। ফলে সেই ঘাটতি মেটাতে সরকার দেয় ভর্তুকি। এখন সেই ভর্তুকিতেও কুলাচ্ছে না। তাই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর দরকার। বলা ভালো বিইআরসি কখনই জানতে চাইছে না, বিপুল ভর্তুকির টাকা যাচ্ছে কোথায়। এটা যে ক্যাপাসাটি চার্জের মত সাদা হাতির খোরাক জোগাতেই চলে যাচ্ছে সেটা নিয়ে তাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। ক্যাপাসিটি চার্জের মত বহু লুণ্ঠনমূলক ব্যয় আর লুণ্ঠনমূলক মুনাফার ভারে জর্জরিত আমাদের বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়। এই লুণ্ঠনের দায় চাপছে জনগণের ওপর।
এখন পিডিবি প্রস্তাব নিয়ে এসেছে তার পাইকারি বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ১.২০ টাকা থেকে ১.৫০ টাকা বাড়ানো হোক।
বিইআরসি সেই আবেদন বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সকল আয়োজন সুসম্পন্ন করেছে। জনগণের গাঁটের পয়সা খরচ করে প্রহসনের গণশুনানির নাটকটাই কেবল বাকি।