Published : 11 Jun 2026, 07:09 PM
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পান হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা সদরের ছোটশিমুলতলা পান হাটে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
তাদের ভাষ্য, এ সময় হাটের একাধিক টিনের চালা ভাঙচুর ও কয়েকটি গাছ কেটে ফেলা হয়, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং দেশীয় অস্ত্র হাতে বেশ কয়েকজন মহড়া দেন। এতে ওই এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সারোয়ার আলম খান বলছেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”
স্থানীয়রা বলছে, পলাশবাড়ীর ছোটশিমুলতলা পান হাটটি এলাকার অন্যতম বৃহৎ পান বাজার হলেও এটি সরকারি ইজারাভুক্ত নয়। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে ‘শিমুলতলা পান চাষি সমবায় সমিতি’ নামে একটি সংগঠন গত ৭-৮ বছর ধরে হাটটি পরিচালনা করে আসছে। হাটটি প্রতিদিন সকালে শুরু হয়ে বিকাল পর্যন্ত চলে।
ওসি সারোয়ার বলছেন, “২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর স্থানীয় জামায়াতপন্থি নেতাকর্মীরা হাটটির নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ‘পানচাষি কল্যাণ সমিতি’ নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে তারা হাট থেকে টোল আদায় শুরু করে। এরপর থেকেই দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল।
“এর ধারাবাহিকতায় গত ২০ মে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরে ‘শিমুলতলা পান চাষি সমবায় সমিতি’র পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এরপর প্রশাসন হাটের কার্যক্রম স্থগিত এবং টিনের শেড অপসারণের নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে জমির মালিকও নিজ জমিতে হাট না বসানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের অবগত করেন।”
তিনি বলেন, “প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে শেড অপসারণের কাজ শুরু করলে বর্তমান নিয়ন্ত্রণকারী পক্ষ বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।”
তবে এ বিষয়ে পলাশবাড়ী পৌর জামায়াতের আমীর খায়রুল ইসলাম চাঁন এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদের মোবাইল ফোনে সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।
ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওসি সারোয়ার বলেন, “ককটেল বিস্ফোরণ না পটকা ফোটানো হয়েছে তা পুলিশ তদন্ত করছে।”