Published : 04 Sep 2022, 07:50 PM
শুধু পিঠ ব্যথা নয়, শিরদাঁড়ায় সমস্যা হলে মলত্যাগেও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
মেরুদণ্ডের হাড়গুলো শরীরের ‘স্পাইনাল কর্ড’ সুরক্ষিত রাখে। এই ‘স্পাইনাল কর্ড’ মস্তিষ্ক ও শরীরের প্রতিটি অংশের স্নায়ুতে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠায়। তাই এখানে সমস্যা হলে তার শরীরের যে কোনো স্থানকেই প্রভাবিত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘হসপিটাল ফর স্পেশাল সার্জারি (এইচএসএস)’য়ের ‘বোর্ড সার্টিফায়েড ফিজিয়াট্রিস্ট’ ডা. অ্যাঞ্জেলি ম্যাসকারিনাস বলেন, “মেরুদণ্ডের কিছু অংশের সমস্যার জন্য নিতম্ব কিংবা পায়ে ব্যথা হতে পারে, ঝিনঝিন করতে পারে, সুঁচ ফুটানোর মতো অনুভুতি হতে পারে। ‘লার্জ লাম্বার ডিস্ক হার্নিয়েশন্স’য়ের কারণে মেরুদণ্ড যদি সরু হয়ে যায় তবে মলত্যাগ কিংবা মুত্রত্যাগে সমস্যা হতে পারে।”
পা কিংবা পায়ের পাতায় দুর্বলতা বা অসাড়তা
ডা. ম্যাসকারিনাস ইটদিস নটদ্যাট ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “লাম্বার স্পাইন’ বা কোমরের হাড়ের ওপর লম্বা সময় চাপ পড়ে থাকলে পা কিংবা পায়ের পাতায় দুর্বলতা বা অসাড়তা তৈরি হয়। পায়ে ঝিনঝিনি ধরে যাওয়া হিসেবে এটি সবার পরিচিত।”
পায়ের পাতার জোরে শরীর ওপরে তুলতে না পারা, গোড়ালির ভরে হাঁটতে না পারা ইত্যাদির মাধ্যমে এই সমস্যার তীব্রতা বোঝা যায়।
পিঠ কিংবা পায়ে ব্যথা চার থেকে ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হলে
ডা. ম্যাসকারিনাস বলেন, “ডিস্ক হার্নিয়েশন্স’য়ের কারণে দেখা দেওয়া পা ব্যথা কিংবা পিঠ ব্যথা চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে অনেকটা ভালো হয়ে যায়। কারও যদি এই সময়টা পার হওয়ার পরও ব্যথা না কমে তবে দ্রুত কোনো মেরুদণ্ড বিশেষজ্ঞকে দেখানো উচিত। তার পরামর্শ অনুযায়ী শারীরিক, এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষা করে দেখতে হবে। প্রয়োজন হতে পারে ওষুধ, ‘ফিজিকাল থেরাপি’, এমনকি ‘ইঞ্জেকশন’ও লাগতে পারে।”
পায়ে বেসামাল মনে হওয়া
হাঁটার সময় পায়ে জোর না পাওয়া, বেসামাল হয়ে প্রায়ই পড়ে যাওয়াও হতে পারে ‘স্পাইনাল কর্ড’য়ে চাপ পড়ে থাকার লক্ষণ। এক্ষেত্রেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অল্প দূরত্ব হেটেঁই পায়ে ব্যথা
“সামান্য কিছু দূর হাঁটলেই যদি পায়ে ব্যথা অনুভূত হয় তবে সমস্যা হয়ত অত্যন্ত গুরুতর”, বলেন ডা. ম্যাসকারিনাস।
‘লাম্বার স্পাইনাল স্টেনোসিস’ বা পিঠের নিচের অংশে এসে ‘স্পাইনাল ক্যানাল’ সরু হয়ে যাওয়ার লক্ষণ এটি।
সামান্য আঘাত থেকে দীর্ঘদিন পিঠ ব্যথা
খুব সাধারণ আঘাত পাওয়া থেকে পিঠ ব্যথা যদি দীর্ঘদিন ভালো না হয়, ক্রমাগত হতেই থাকে, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতেই হবে।
এক্স-রে ও ‘এমআরআই’ করানোর প্রয়োজন হতে পারে সমস্যা চিহ্নিত করতে। যাদের ‘অস্টিওপেনিয়া’ বা ‘অস্টিপোরোসিস’ আছে, তাদের হাড় তুলনামুলক বেশি ভঙ্গুর।
তাই সামান্য আঘাতের তাদের ‘লাম্বার ফ্র্যাকচার’ বা কোমড়ের হাড়ে ফাটল হওয়া সম্ভব।
মলত্যাগ ও মূত্রত্যাগে সমস্যা
“এমনটা হওয়া দুর্লভ। তবে উপসর্গ জেনে রাখা জরুরি”, একই প্রতিবেদনে বলেন ‘স্পাইন সার্জন’ ড. সারিয়াহ খোরমায়ি।
‘গ্রোয়িন’ বা কটিসন্ধি অর্থাৎ কুঁচকির অংশে বিনা কারণে অসাড়তা বা শিরশিরে-ভাব হয় এবং স্বাভাবিকভাবে মল কিংবা মুত্রত্যাগে সমস্যা দেখা দেয় তবে সেটা হতে পারে ‘কডা ইকুইনা সিন্ড্রোম’য়ের উপসর্গ।
‘স্পাইনাল কলাম’ বা শিড়দাঁড়ার শেষ অংশে যদি স্নায়ূগুলোতে চাপ পড়ে তবে এই সমস্যা হয়।
আরও পড়ুন