Published : 15 Jan 2024, 11:32 AM
যেসব খাবার হজম হতে বেশি সময় নেয় সেগুলো শরীর উষ্ণ রাখতে সহায়তা করে।
“এর কারণ হল, বিপাক প্রক্রিয়া বেশিক্ষণ ধরে চলে ফলে দেহে বাড়তি তাপ উৎপন্ন হয়”- হেল্থশটস ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মন্তব্য করেন ভারতের মা ও শিশু-বিষয়ক পুষ্টিবিদ ফলক হানিফ।
তাছাড়া দিনের আলো কম থাকার কারণেও ক্ষুধার ওপর প্রভাব পড়ে।
শরীর গরম রাখতে পারে এরকম কিছু খাবারের মধ্যে আছে-
সিরিয়াল
দিনের শুরুতে ওটমিল, গরম জাউভাত ও গোটা গমের তৈরি খাবার খাওয়া উপকারী।
এমনকি মাঝেমধ্যে পিৎজা, পাস্তা খাওয়া শরীরকে উষ্ণ রাখে। আর এই কার্বোহাইড্রেইটগুলো দ্রুত হজম হওয়ার কারণে দেহে উষ্ণতার অস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
গর্ভবতী অথবা নতুন মায়েরা ওটমিল বা জাউয়ের সাথে সবজি যোগ করে খেতে পারেন- পরামর্শ দেন ফলক।
শিশুরাও গমের স্যান্ডউইচ খাওয়া অথবা গরম দুধের সাথে কর্নফ্লেক্সের রোল অথবা সবজি বা ডিমের রোল খেতে পারে।
সুপ
সুপ তৈরিতে প্রচুর পরিমাণের সবজি ব্যবহার করা হয় এবং শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ রাখতে সহায়তা করে।
যারা ওজন কমাতে চান তাদের জন্য সুপের মধ্যে ডাল, লাউ, বার্লি ব্যবহার করা উপকারী। বিভিন্ন রকম মসলা যেমন- জিরা, দারুচিনি এবং আদা ইত্যাদি দিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করা যায়।
গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে জন্য এটা বেশ পুষ্টিকর। সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন মায়েরা মাঝরাতে নাস্তা অথবা বিকালে নাস্তা হিসেবে খেতে পারেন। শিশুরাও বিকালের নাস্তায় সুপ খেতে পারে। এতে তাদের পেট ভরা থাকে এবং শরীর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে।
ফল
মৌসুমী ফল বরাবরই উপকারী। কলা, স্ট্রবেরি, আপেল, পেঁপে, বেল, ডালিম ইত্যাদি দেহে ভালো প্রভাব ফেলে।
কলা ম্যাগনেসিয়ামের খুব ভালো উৎস এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
শিশুদের জন্য ঘরে তৈরি বাদামের মাখন ও সাথে কলা খাওয়ানো যেতে পারে। গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে পেঁপের বদলে টক ফল, ডালিম ও কলা খাওয়া উপকারী। স্তন্যদানকারী মায়েরা যে কোনো ফলই সারা দিনে খেতে পারেন।
শুকনা ফল ও বাদাম
কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, আখরোট ইত্যাদি খুব ভালো চর্বির উৎস। এগুলো শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ডুমুর, খেজুর, জলপাই ইত্যাদি সাধারণত শীতপ্রধান অঞ্চলের মানুষেরা খেতে পারেন। খেজুর লৌহের ভালো উৎস এবং গরম ভেষজ পানির সাথে খেজুর যোগ করে খাওয়া উপকারী।
গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েরা মুঠো ভরে শুকনা ফল খেতে পারেন। যেসব শিশু শুকনা ফল খেতে পছন্দ করেন তাদের মুঠো ভরে তা খেতে দেওয়া উচিত। শুকনা ফল গুঁড়া করে দুধ বা সিরিয়ালের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
মসলা
শরীরের তাপমাত্রা বাড়াতে মসলা বেশ উপকারী। এদেশীয় রান্নায় বিভিন্ন ধরনের মসলা ব্যবহার করা হয়, যেমন- আদা, রসুন, জিরা, মরিচ, তিল, দারুচিনি।
চা এমনকি তরকারিতে ব্যবহার করা হয় আদা। জিরা দীর্ঘক্ষণ শরীর উষ্ণ রাখতে পারে। জিরা, দারুচিনির গুঁড়া সালাদ, চকলেট অথবা দুধ কফির সাথে যোগ করে স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি বিপাক বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
গর্ভবতী মায়েরা খাবারে মসলা যোগ করতে চাইলে সুপ অথবা অন্যান্য খাবার তৈরির সময় ব্যবহার করতে পারেন।
শিশুদের খাবার কম মসলা যুক্ত হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে তাদের খাবার তৈরি করতে সুপ অথবা দুধের সাথে মসলা মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে।
স্তন্যদানকারী মায়েদের মসলাযুক্ত খাবার এড়ানো উচিত। তবে অবশ্যই জিরার পানি বা শুকনা আদা, তারা খেতে পারেন। দারুচিনি দুধের সাথে যোগ করেও গ্রহণ করা যেতে পারে।
তবে খুব বেশি মসলা খাওয়া স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
মাংস
আমিষ ভোজীদের জন্য শীতকালে দেহের তাপমাত্রা বাড়াতে মাংস খাওয়া উপকারী। এটা বিপাক বৃদ্ধির মাধ্যমে দেহের উষ্ণতা বাড়ায় এবং লৌহ ও প্রোটিন সরবরাহ করে।
গর্ভবতী মায়েরা খাবার তালিকায় মাংস যোগ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সন্তান জন্মদানের এক সপ্তাহ পর থেকে মায়েরা মাংস খেতে পারেন। এক্ষেত্রে শুরুতে সুপ ও হালকা তরকারি এবং ধীরে ধীরে শরীরে সাথে মানানসই-ভাবে মাংস ভাজা বা তরকারি ইত্যাদি যোগ করা যেতে পারে।
শিশুর বয়স এক বছর হওয়ার পর থেকে তার খাবারে সামান্য পরিমাণ মাংস যোগ করা যাবে।
মধু
পছন্দের খাবার অথবা সালাদে মধু যোগ করা যায়। এটা ঠাণ্ডা-কাশি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে।
গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের আগে ডায়াবেটিসের ইতিহাস না থাকলে মধু খেতে পারেন।
শিশুর বয়স এক বছর হওয়ার পর থেকে মধু খাওয়ানো যায়।
গরম পানীয়
শীতকালে শরীর উষ্ণ রাখতে গরম পানীয় উপকারী। এক্ষেত্রে কফি পান করা ভালো। তবে কোনোভাবে দিনে দুবারের বেশি নয়।
গরম চকলেট, চা অথবা গরম দুধ পান করা শীতকালে শরীর উষ্ণ রাখতে সহায়তা করে। গর্ভবতী মায়েদের ক্যাফিন ধরনের পানীয় থেকে দূরে থাকা উপকারী। এর পরিবর্তে দুধের সাথে সামান্য হলুদ মিশিয়ে ক্যাফিন মুক্ত পানীয়, সুপ ইত্যাদি পান করতে পারেন।
শিশুদের জন্য ক্যাফেইন বা চায়ের পরিবর্তে গরম চকলেট পান করা উপকারী।
ঘি
ঘি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে। শীতকালে সবজির সাথে মিশিয়ে ঘি খাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরিতে ঘি ব্যবহার করা হয়। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মা এবং শিশুর জন্য ঘি উপকারী।
আরও পড়ুন
যেসব ঠাণ্ডা খাবার শরীরের তাপমাত্রা বাড়ায়