০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

চুলের রুক্ষতা পরিমাপে পানি পদ্ধতি

মাত্র একটি চুল পানিতে ভাসিয়ে বুঝে নেওয়া যাবে রুক্ষতার পরিমাণ।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Aug 2025, 05:42 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:33 PM

চুল নিয়ে সমস্যার যেন শেষ নেই। সূর্যের তাপে চুলের আগা ফেটে যায়, আর্দ্রতায় চুল ফুলে ওঠে, আবার অতিবেগুনি রশ্মির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চুলের গঠন।

বর্ষাকালে চুলে থাকে আঠালো ভাব ও চুল ঝরেও বেশি। শীতকালে বাড়ে শুষ্কতা।

তবে সমাধান খুঁজতে হলে আগে বুঝতে হবে সমস্যাটা আসলে কোথায়। অনেকেই হয়ত বুঝে উঠতে পারেন না চুলের খারাপ অবস্থার পেছনে রুক্ষতা দায়ী, নাকি অন্য কিছু।

এ বিষয়ে ‘হারমনি স্পা’র আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা বলেন, “একটি খুবই সহজ তবে কার্যকর পরীক্ষা পদ্ধতি রয়েছে, যেটা যে কেউ ঘরেই করে নিতে পারেন।”

এই পরীক্ষার নাম পানিতে চুল ভাসানোর পরীক্ষা। এর মাধ্যমে চুলের যে বৈশিষ্ট্য বেরিয়ে আসে, তা হল- চুলের আর্দ্রতা শোষণ ও ধরে রাখার ক্ষমতা। যাকে বলে চুলের ‘পোরোসিটি’র মাত্রা। এর থেকে বোঝা যায় চুল কতটা আর্দ্রতা চায়।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, “উচ্চ আর্দ্রতা শোষণ ও ধরে রাখার ক্ষমতা মানে চুল বেশি রুক্ষ। তাই চুলের জন্য বেশি আর্দ্রতা প্রয়োজন হয়। আর কম হলে চুল খুব বেশি আর্দ্রতা নিতে পারে না।”

চুলের আর্দ্রতা শোষণ ও ধরে রাখার ক্ষমতা পরিমাপের সহজ উপায়

এজন্য কোনো প্রযুক্তি বা বিশেষ যন্ত্রপাতির দরকার নেই। দরকার শুধু একটা পরিষ্কার বাটি, একটু পানি আর একগুচ্ছ ধুয়ে শুকনো চুল।

প্রথমে চুলে থাকা সব রকম প্রসাধন সামগ্রী ধুয়ে ফেলতে হবে। তারপর ভালোভাবে শুকিয়ে মাথা থেকে একটা চুল উঠিয়ে পানিভর্তি বাটিতে ফেলে দুই থেকে চার মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।

যদি চুল পানির ওপরে ভেসে থাকে, তবে বুঝে নিতে হবে চুলের আর্দ্রতা শোষণ ও ধরে রাখার ক্ষমতা কম।

যদি চুল মাঝখানে ভেসে থাকে, তবে মাঝারি।

আর যদি চুল পানির নিচে ডুবে যায়, তবে আর্দ্রতা শোষণ ও ধরে রাখার ক্ষমতা বেশি।

আর্দ্রতা শোষণ ও ধরে রাখার ক্ষমতা কম: চুলে আর্দ্রতা প্রবেশ করতে চায় না

যাদের চুলে আর্দ্রতা শোষণ ও ধরে রাখার ক্ষমতা কম রয়েছে, তাদের চুলের বাইরের স্তর বা ‘কিউটিকল’ খুব আঁটসাঁটভাবে বসে থাকে। ফলে আর্দ্রতা চুলে প্রবেশ করতে পারে না।

এতে করে চুল অনেক সময় শুষ্ক, শক্ত ও খড়ের মতো মনে হয়। পাশাপাশি গভীর কন্ডিশনার ব্যবহারে চুল অতিরিক্ত ভারী হয়ে যায়, তৈলাক্ততা দেখা দেয়।

এই ধরনের চুলের জন্য হালকা, তরল ধরনের পণ্য ব্যবহার করা ভালো। যেমন- ‘হেয়ার মিল্ক’ ধর্মী পণ্য, যেগুলো সহজে চুলে মিশে যায় এবং ভারী লাগে না।

মাঝারি আর্দ্রতা শোষণ ও ধরে রাখার ক্ষমতা: ভারসাম্যপূর্ণ আর্দ্রতা ধরে রাখতে সক্ষম

চুলের ‘কিউটিকল’ স্তর কিছুটা খোলা থাকে, ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণে আর্দ্রতা চুলে ঢোকে এবং ধরে রাখতেও সক্ষম হয়।

এই ধরনের চুল সহজে স্টাইল করা যায়, রং করলে ভালো ধরে রাখে। তবে অতিরিক্ত রং বা ‘পার্ম’ করলে সময়ের সঙ্গে আর্দ্রতা শোষণ ও ধরে রাখার ক্ষমতা বেড়ে যেতে পারে।

এই ধরণের চুলের যত্নে মাঝে মাঝে প্রোটিনযুক্ত গভীর কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত। এছাড়াও চাল-পানির তৈরি পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে, যেগুলো চুলের গঠন মজবুত করে।

উচ্চ আর্দ্রতা শোষণ ও ধরে রাখার ক্ষমতা: আর্দ্রতা দ্রুত হারায়

যাদের চুল আর্দ্রতা শোষণ ও ধরে রাখার ক্ষমতা বেশি, তাদের কিউটিকল স্তরে অনেক ফাঁক থাকে। ফলে আর্দ্রতা খুব সহজে চুলে প্রবেশ করলেও ধরে রাখা কঠিন হয়।

ফলে চুল হয়ে যায় রুক্ষ, জটলানো এবং ঘন ঘন ভেঙে যায়।

এই ধরনের চুলের ক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হবে, যে আর্দ্রতা দেওয়া হচ্ছে, তা যেন চুল ধরে রাখতে পারে। এজন্য প্রয়োজন স্তরে স্তরে পুষ্টিকর উপাদান প্রয়োগ।

এমন চুলে ‘লিভ-ইন কন্ডিশনার’, তেল এবং ‘হেয়ার বাটার’ ব্যবহার করা যেতে পারে।

সব ধরনের চুলের জন্য প্রযোজ্য এই পরীক্ষা

রাহিমা বলেন, “অনেক সময় ধরন দেখে চুলের প্রকৃতি বোঝা কঠিন। কারণ চুলের ধরন ও গঠন ভিন্ন হয় এবং নানান বৈচিত্র্য দেখা যায়। তাই কারও চুল দেখতে খুব রুক্ষ বা নরম হলেও তা থেকে চুলের প্রকৃতি বোঝা ভুল হতে পারে।”

তবে এই পানিতে চুল ভাসানোর পরীক্ষা সব ধরনের চুলেই সমানভাবে কার্যকর। ফলে এটা একেবারেই নিরাপদ এবং সর্বজনীন একটি উপায়।

আরও পড়ুন

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে কেশ পরিচর্যার সরল কৌশল

কেশ যেন না ফাটে

দিঘল কেশ যত্নে রাখতে 

কেশ সমস্যায় প্রাকৃতিক সমাধান