চুলের ধরন ও ময়লা হওয়ার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে অনেক কিছু।
Published : 03 Apr 2025, 05:02 PM
অনেকেই বিশ্বাস করেন প্রতিদিন চুল ধোয়া মানেই ক্ষতিকর। বিশেষ করে বাংলাদেশের আবহাওয়ায়, যেখানে গরম ও আর্দ্রতা বেশি, চুল ধোয়ার বিষয়ে নানান ভুল ধারণা প্রচলিত আছে।
তবে কেশ-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন চুল ধুলেও কোনো ক্ষতি নেই, বরং এটি চুলের সুস্থতার জন্য ভালো হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেশ পরিচর্যার প্রসধানীর ব্র্যান্ড ‘কালিস্টা’র প্রতিষ্ঠাতা ও কেশ-পরিচর্যাবিদ মারিয়া ম্যাককুল এই বিষয়ে নতুন ধারণা দিচ্ছেন।
ওয়েলঅ্যান্ডগুড ডটকম’য়ে এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি বলেন, “চুলের যত্নের পণ্য এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত, ফলে প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহার করলেও চুলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।”
পুরানো ধারণার পেছনের কারণ
আগে প্রচলিত শ্যাম্পুগুলোর বেশিরভাগই ছিল সালফেট-সমৃদ্ধ, যা চুলের প্রাকৃতিক তেল শুষে নিত। ফলে চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে যেত।
এই কারণে বিশেষজ্ঞরা কম শ্যাম্পু ব্যবহারের পরামর্শ দিতেন। তবে বর্তমান সময়ে ‘হেয়ার কেয়ার ইন্ডাস্ট্রি’ অনেক উন্নত হয়েছে।
“নতুন প্রজন্মের শ্যাম্পুগুলো সালফেটমুক্ত এবং এতে থাকে চুলের জন্য উপকারী উপাদান, যেমন ‘স’প্যালমেটো’, ‘রেড ক্লোভার’ এবং ‘উইলো হার্ব”- বলেন মারিয়া ম্যাককুল।
প্রতিদিন চুল ধোয়ার উপকারিতা
এই বিশেষজ্ঞের মতে, “নিয়মিত চুল ধোয়ার ফলে মাথার ত্বকের মৃত কোষ, ধুলাবালি এবং ঘাম দূর হয়, যা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক।”
তিনি আরও বলেন, “ত্বকের যত্নের মতো, চুলের যত্নও গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যেমন প্রতিদিন মুখ পরিষ্কার করেন, ঠিক তেমনি চুলও নিয়মিত পরিষ্কার করা দরকার। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা বাইরে কাজ করেন, তাদের প্রতিদিন চুল ধোয়া উচিত।”
বাংলাদেশে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে মাথার ত্বকে ধুলো, ঘাম ও তেল জমে সহজেই চুলকানি বা খুশকির সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে নিয়মিত চুল ধোয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চুল পড়া ও স্বাস্থ্যকর চুলের সম্পর্ক
একটি ভুল ধারণা হল, বেশি শ্যাম্পু করলে চুল পড়ার হার বেড়ে যায়। তবে বাস্তবে, অপরিষ্কার মাথার ত্বকে ডিএইচটি (ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন) হরমোন জমে যায়, যা চুলের ফলিকল বা গোড়া বন্ধ করে দিতে পারে এবং চুল পড়ার কারণ হতে পারে।
বিশেষ করে পুরুষদের জন্য এটি বেশি ক্ষতিকর। যদি নিয়মিত চুল ধোয়া না হয়, তাহলে ধুলাবালি ও তেল চুলের ফলিকলে জমে চুলের বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে।
এছাড়া চুলের গোড়া পরিষ্কার না রাখলে খুশকি, চুলকানি ও ফাঙ্গাসের সংক্রমণের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা চুল পড়ার অন্যতম কারণ।
য়েভাবে সঠিকভাবে চুল ধোয়া উচিত
সালফেটমুক্ত ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। চুলে খুব বেশি গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এটি মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করতে পারে।
শ্যাম্পুর পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত, বিশেষ করে যদি চুল শুষ্ক হয়। পাশাপাশি শ্যাম্পু করার সময় মাথার ত্বককে হালকা ম্যাসাজ করতে হবে, যাতে রক্তসঞ্চালন ভালো হয় এবং চুলের বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।
আবার প্রতিদিন চুল ধুলে অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত পণ্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।
চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পুর ব্যবহার
তেলতেলে চুল: প্রতিদিন ‘মাইল্ড’ বা হালকা শ্যাম্পু ব্যবহার করা যায়।
শুষ্ক চুল: দুতিন দিন পরপর শ্যাম্পু করা ভালো এবং কন্ডিশনার অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে।
কার্লি বা কোঁকড়ানো চুল: ‘হাইড্রেইটিং’ বা আর্দ্রতা বর্ধক শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করা উপকারী।
সংবেদনশীল মাথার ত্বক: সালফেট-মুক্ত, প্রাকৃতিক উপাদানসমৃদ্ধ শ্যাম্পু ব্যবহার যথাযথ।
বাজারে কিছু ভালো মানের সালফেটমুক্ত শ্যাম্পুর মধ্যে জনপ্রিয় ট্রেসেমে কেরাটিন স্মুথ, ডাভ, অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু, লোরিয়াল প্যারিস হাইড্রা কেয়ার, প্যান্টিন প্রো-ভি হেয়ার ফল কন্ট্রোল হার্বাল এসেন্সেস বায়ো রিনিউ।
আরও পড়ুন