Published : 30 Jun 2025, 06:23 PM
ত্বকে একজিমা থাকলে অনেকেই মেইকআপ থেকে দূরে থাকেন। কারণ এ ধরনের ত্বকে লালচে, শুষ্ক ও ফেটে যাওয়া দাগ দেখা দেয়, যা মেইকআপে ঢাকতে গিয়ে আরও খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।
তবে সত্যি হল- সঠিক পদ্ধতি ও পণ্য ব্যবহার করলে একজিমা আক্রান্ত ত্বকেও নিরাপদে এবং সৌন্দর্য বজায় রেখে মেইকআপ করা সম্ভব।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এবং মেইকআপ শিল্পীদের মতে, একজিমা আক্রান্ত ত্বকে মেইকআপ করতে হলে কয়েকটি ধাপ ও নিয়ম অবশ্যই মেনে চলা উচিত।
তাদের মতে- যতটা সম্ভব মৃদু, সংবেদনশীল ত্বকের উপযোগী প্রসাধনী ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি ত্বকের সুরক্ষা নিশ্চিত করে ধীরে ধীরে মেইকআপ করতে হবে।
সংবেদনশীল ত্বকের জন্য তৈরি পণ্য বেছে নেওয়া
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মারিসা গার্শিক রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “যাদের একজিমা রয়েছে, তাদের এমন প্রসাধনী এড়িয়ে চলা উচিত যাতে ভারী সুগন্ধি বা শুষ্ক করে এমন অ্যালকোহল রয়েছে। এসব উপাদান ত্বকে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “এক্সফোলিয়েটিং অ্যাসিড, রেটিনয়েডস বা বেঞ্জয়েল পার অক্সাইড’য়ের মতো সক্রিয় উপাদান-সমৃদ্ধ প্রসাধনীর ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।“
মেইকআপের আগে ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজ ব্যবহার
একজিমা হলে ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে পড়ে। তাই মেইকআপ দেওয়ার আগে ত্বকে উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার জরুরি।
ডা. গার্শিকের মতে, “ত্বকের ভাঁজ বা ফেটে যাওয়া জায়গাগুলোয় যদি অতিরিক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা হয়, তাহলে মেইকআপ আরও সমানভাবে বসবে।”
তিনি হায়ালুরনিক অ্যাসিড বা গ্লিসারিনযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেন, কারণ এগুলো ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মেইকআপ শিল্পী টমি রিভেরো বলেন, “ত্বক প্রস্তুত করতে সময় দিতে হবে। ময়েশ্চারাইজার এবং সেরাম ধীরে ধীরে বসতে সময় দেওয়া প্রয়োজন। তাতে ত্বক একটি প্রাকৃতিক বাফার বা সুরক্ষা পাবে।”
প্রাইমার ব্যবহার
মার্কিন মেইকআপ শিল্পী ব্রায়ান ক্যান্টর বলেন, “ত্বকের যত্ন নেওয়ার পর প্রাইমার ব্যবহার করা উচিত। এটি ত্বক ও রঙিন প্রসাধনীর মাঝে একটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। কারণ অনেক সময় প্রসাধনীর রংও ত্বকে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।”
ডা. গার্শিক পরামর্শ দেন, “মুখের পাশাপাশি চোখের পাতাতেও প্রাইমার ব্যবহার করা জরুরি। কারণ চোখের পাতায় একজিমা দেখা দেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।“
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
একজিমা আক্রান্ত ত্বকে রোগজীবাণু সহজেই আক্রমণ করতে পারে।
মার্কিন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ টিনা মেডার বলেন, “একজিমা ত্বকের রক্ষাকবচ দুর্বল করে ফেলে। যে কারণে ত্বকে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া সহজে প্রবেশ করতে পারে। তাই যেসব ত্বকে একজিমা আছে, তাদের মেইকআপ ব্রাশ ও স্পঞ্জ নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করতে হবে।”
এছাড়া প্রসাধনীর মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখও খেয়াল রাখা জরুরি।
গুঁড়া নয়, ক্রিমজাত পণ্য ব্যবহার
ডা. গার্শিক বলেন, “ক্রিম-ধর্মী ফাউন্ডেশন ত্বককে আর্দ্র রাখে ও পুষ্টি দেয়। অন্যদিকে গুঁড়া পণ্য ত্বককে আরও শুষ্ক করে তোলে।”
তাই ফাউন্ডেশন, ব্লাশ, আইশ্যাডো সবক্ষেত্রেই গুঁড়ার বদলে ক্রিম ব্যবহার করাই শ্রেয়।
ভারী নয়, হালকা মেইকআপ
একজিমার দাগ ঢাকতে অনেকেই অতিরিক্ত মেইকআপ করেন। বরং এতে ত্বকে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়ে।
ডা. গার্শিক বলেন, “অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহারে ত্বক আরও শুষ্ক হয় এবং মেইকআপ তুলতে বেশি ঘষাঘষি করতে হয়, যা একজিমা আরও বাড়াতে পারে।”
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মেইকআপ শিল্পী ব্রায়ান ক্যান্টর’য়ের মতে, “হালকা রংয়ের একটানা একটি স্তর দিয়ে ত্বকের রং একসার বা সমান করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় স্থানে হালকা করে কনসিলার ব্যবহার করা যায়।”
আলতোভাবে মেইকআপ লাগানো
ডা. মেডার বলেন, “ত্বকে ঘষে ফাউন্ডেশন লাগানো যাবে না। এতে ত্বকে লালচে ভাব ও জ্বালাপোড়া বাড়ে।”
পরিষ্কার ব্রাশ বা স্পঞ্জ দিয়ে আলতোভাবে চেপে মেইকআপ ব্যবহার করা জরুরি। একই কৌশল অনুসরণ করে মেইকআপ তুলতে হবে।
ঝকঝকে পণ্য থেকে বিরত থাকা
রিভেরো বলেন, “চকচকে বা ঝিলমিল ধরনের বা ‘গ্লিটার’ যুক্ত প্রসাধনী একজিমার দাগ আরও দৃশ্যমান করে তোলে।”
তাই ‘মাইকা’, ‘গ্লিটার’ বা চকমকে গুঁড়াজাত উপাদান ব্যবহার না করাই ভালো। এর পরিবর্তে হালকা দীপ্তিময় ‘ফিনিশ’ দিতে চটচটে বা তরলধর্মী প্রসাধনী ব্যবহার করা প্রয়োজন।
দীর্ঘস্থায়ী পণ্য এড়িয়ে চলা
বাজারে অনেক পণ্য পাওয়া যায় যেগুলো দীর্ঘসময় ধরে টিকে থাকে বা পানি প্রতিরোধী।
ক্যান্টর বলেন, “দীর্ঘস্থায়ী মেইকআপ পণ্য তুলতে যে রাসায়নিক ব্যবহার করতে হয়, সেগুলো ত্বকে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এসব পণ্যে অবশিষ্টাংশ থেকে গেলে তা একজিমার জন্য ক্ষতিকর।”
নতুন পণ্য ব্যবহারের আগে পরীক্ষা
মেইকআপে বা ত্বকের যত্নে নতুন কিছু ব্যবহারের আগে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি।
ক্যান্টর বলেন, “নতুন পণ্য প্রথমে কানের নিচে বা চোয়ালের নিচে লাগিয়ে এক সপ্তাহ ধরে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ত্বকে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তা ব্যবহার না করাই ভালো।”
আরও পড়ুন