Published : 08 Jun 2026, 11:51 AM
সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ সুস্থ বন্ধুত্বের মূল ভিত্তি। তবে সব সম্পর্কে সবসময়, সমান আদান-প্রদান নাও থাকতে পারে।
কখনও কখনও একজনই সম্পর্কের চাকা সচল রাখতে সব শ্রম দিয়ে যান, অন্যজন থাকেন উদাসীন। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘একতরফা বন্ধুত্ব’ বা 'ওয়ান-সাইডেড ফ্রেন্ডশিপ'।
দীর্ঘদিন এমন সম্পর্কে থাকলে মনের অজান্তেই ক্ষোভ ও হতাশা জমা হয়।
যাকে প্রিয় বন্ধু ভাবা হচ্ছে, আসলেই কি তিনি সত্যিকারের বন্ধু, নাকি নিজেই সম্পর্ক টেনে নিয়ে যাচ্ছেন? বোঝার জন্য রয়েছে ৫টি লক্ষণ।
যোগাযোগের শুরুটা সবসময় আপনার হাত ধরেই
মেসেজ বা কললিস্ট চেক করলে হয়ত দেখা যায়, যোগাযোগটা প্রতিবার আপনার পক্ষ থেকেই হয়েছে। না করলে ওপাশ থেকে দিনের পর দিন বা মাসের পর মাস কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না।
এই বিষয়ে সেল্ফডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার নিবন্ধিত ফ্যামিলি থেরাপিস্ট টিয়ানা লিডস বলেন, “একজন ভালো বন্ধু যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন, আন্তরিকতা থেকেই তিনি মাঝে মাঝে আপনার খোঁজ নেবেন। যিনি আপনার জীবনের খোঁজখবর রাখতে মোটেও আগ্রহী নন, তিনি আসলে আপনার সাথে মানসিকভাবে যুক্ত নন।"
শুধুই নিজের সমস্যার ঝুড়ি উজাড় করা
বন্ধুর কাছে নিজের দুঃখ বা সমস্যার কথা বলে মন হালকা করা স্বাভাবিক। তবে একতরফা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সামনের মানুষটি শুধু নিজের সমস্যা নিয়েই কথা বলে যান। আপনার কথা শোনার কোনো তাগিদ বা আগ্রহ তাদের থাকে না।
মার্কিন সমাজকর্মী ও 'হাউ টু মেইক ফ্রেন্ডস অ্যাজ অ্যান অ্যাডাল্ট' বইয়ের লেখক হোপ কেলাহার একই প্রতিবেদনে মন্তব্য করেন, "যখন কেউ শুধু নিজের সমস্যার কথা আপনার ওপর চাপিয়ে দেয়, তবে আপনার কথা শুনতে চায় না, তখন বুঝবেন তারা আপনাকে বন্ধু ভাবছে না। বরং আপনাকে একজন 'অন-কল থেরাপিস্ট' বা মনস্তাত্ত্বিক উপদেষ্টা হিসেবে ব্যবহার করছে।"
নিজের সুবিধামতো সময় ও স্থান নির্ধারণ
তারা সবসময় এমন জায়গায় দেখা করতে চান যা শুধু তাদের জন্য সুবিধাজনক। অন্য কোনো ভালো পরিকল্পনা বাতিল হয়ে গেলে, হুট করে তারা আপনাকে মনে করেন।
ফলে মনে হতে পারে যে, আপনি তাদের কাছে কোনো অগ্রাধিকার নন, বরং কেবলই একটি ‘বিকল্প’।
হোপ কেলাহের এই প্রসঙ্গে যোগ করেন, "একটি সুস্থ সম্পর্কের মূল শর্ত হল, পারস্পরিক আপস। যদি একজন মানুষ আপনার জন্য একটুও ছাড় দিতে বা অর্ধেক পথ এগিয়ে আসতে রাজি না হন, তবে তা অবশ্যই একটি ত্রুটিপূর্ণ সম্পর্ক।"
সবার জন্য সময় আছে, শুধু আপনার বেলায় ব্যস্ততা
বন্ধুটি আসলেই কাজের চাপে ব্যস্ত, নাকি আপনাকে এড়িয়ে চলছেন, সেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দেখলেই বোঝা যায়।
যিনি আপনার মেসেজের উত্তর দিতে দিনের পর দিন সময় নেন, অথচ ফেইসবুকে অন্যদের সঙ্গে আড্ডা বা ঘুরে বেড়ানোর ছবি নিয়মিত পোস্ট করেন, তবে বিষয়টি স্পষ্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের দ্বিমুখী আচরণ প্রমাণ করে যে, সেই ব্যক্তি সবার জন্য সময় বের করতে সক্ষম। শুধু আপনার বেলাতেই তার যত ব্যস্ততার অজুহাত।
গুরুত্বপূর্ণ বা কঠিন মুহূর্তে পাশে না থাকা
আপনার জীবনের বিশেষ কোনো অর্জন যেমন, বড় কোনো সাফল্য বা খুব কঠিন কোনো সময়ে যেমন, অসুস্থতা বা পারিবারিক সংকটে- যদি বন্ধুকে পাশে না পাওয়া যায়, তবে সেই বন্ধুত্বের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
একতরফা বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে, তারা বিশেষ দিনগুলো সহজেই ভুলে যায় কিংবা আপনার অর্জনকে হিংসা বা ছোট করে দেখে।
করণীয় কী?
বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিগুলো নিয়ে সরাসরি তবে বিনম্রভাবে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন।
বলা যেতে পারে, ‘আমি খেয়াল করেছি, ইদানীং আমাদের মধ্যে একটু দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সব ঠিক আছে তো?’ অথবা ‘বেশিরভাগ সময় আমিই আগে যোগাযোগের চেষ্টা করি। এতে আমার নিজেকে একটু মূল্যহীন মনে হয়।’
এভাবে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার পর, তাদের প্রতিক্রিয়া দেখেই বোঝা যাবে এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সে আগ্রহী কি না।
টিয়ানা লিডসের মতে, “বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে খাটনি বা শ্রমের প্রয়োজন হয়, তবে কখনই একজনের করার কথা নয়।”
তাই কেউ যদি আপনার সঠিক মূল্যায়ন করতে না পারে, তবে সেই সম্পর্ক থেকে সম্মানজনক দূরত্ব বজায় রাখাই শ্রেয়।
আরও পড়ুন