Published : 02 Jul 2026, 06:46 PM
চাকরিতে পুনর্বহালের আশ্বাসে বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ৬৬ কর্মচারী তাদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে বুধবার চাকরি হারানোর আশঙ্কায় থাকা ৬৬ কর্মচারী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয়ের ফটকে তালা দিয়ে সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার আন্দোলনকারীদের কাছে এসে চাকরিতে পুনর্বহালের আশ্বাস দেন; তারপর আন্দোলনকারীরা কার্যালয়ের গেইটের তালা খুলে দেন। পরে সবাই কাজে ফিরে যান।
৬৬ কর্মচারী একসঙ্গে আন্দোলনের যোগ দেওয়ায় হাসপাতালের প্রশাসনিক ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। এসব কর্মচারী অভিযোগ করছিলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা উপেক্ষা করে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরানোদের বাদ দিয়ে নতুন করে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছিল।
আন্দোলনকারী কর্মচারী কার্জন শেখ বলেন, “হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক স্যার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, তিনি এখানে কোনো নতুন কর্মচারী নিয়োগ দেবেন না। এই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের চলমান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।
“যদি এর ব্যাত্যয় ঘটে তাহলে আগামীতে এর থেকে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে এবং এই কর্মচারীদের কোনো কিছু হলে তার দায়ভার তত্ত্বাবধায়ককে নিতে হবে। আজ থেকে আবার আমরা কাজে ফিরে যাচ্ছি।”
হাসপাতালের কনসালটেন্ট (অর্থপেডিক) মিরাজুল করিম বলেন, “আউটসোর্সিংয়ের কর্মচারীরা হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে রোগীদের সেবা দিয়ে আসছে। তাদের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের চলে না। তাদের বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার পরিবেশ বজায় রাখবে বলে আশা করছি।”
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমদ্দার বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের যোক্তিক দাবি যাতে মেনে নেয়, হাসপাতালের কাজের পরিবেশ যাতে ফিরে আসে সেটি বলেছি।”
কর্মচারীদের দাবি, ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মন্ত্রণালয় আউটসোর্সিং নীতিমালার গেজেট প্রকাশ করে। সেখানে তফসিল ‘খ’ এ বলা আছে, অভিজ্ঞ কর্মী বাদ দিয়ে নতুনদের নিয়োগ দেওয়া যাবে না। আর যদি বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ দিতে হয় তাহলে শুনানি করে মন্ত্রণালয়ের টেকনিক্যাল কমিটির মাধ্যমে দিতে হবে।