Published : 02 Jul 2026, 06:50 PM
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য চিকিৎসা সেবা চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মন্ত্রী বলেন, “প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ইতোমধ্যে বিমানবন্দর এলাকায় চিকিৎসা সেবা চালু করা হয়েছে। ভিভিআইপি সেকশনের পাশে একটি বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন।”
“এছাড়া প্রবাস থেকে কোনো মরদেহ আসলে তা পরিবহনের জন্য একটি ফ্রিজার ভ্যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে একটি অ্যাম্বুলেন্সের অর্ডার দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত ডাক্তার বা ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা করা যায়।’’
বুধবার বিকালে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব আয়োজিত ফল উৎসবে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
যারা রেমিট্যান্স পাঠান, তাদের সম্মান জানাতে বিমানবন্দরে আলাদা লাউঞ্জ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
আগামী এক মাসের মধ্যেই এই লাউঞ্জের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী মন্ত্রী বলেন, “যেখানে বাচ্চাসহ প্রায় ৪০ জন বসতে পারবেন। এছাড়া একটি আধুনিক ওয়্যার হাউসের কাজও ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে।’’
শিগগিরই কয়েকটি নতুন দেশের শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, “এখন থেকে তরুণ-যুবকদের কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। যাতে প্রতিযোাগিতায় আমরা পিছিয়ে না পড়ি এবং বিদেশের শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করতে পারি।’’
নিজ নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “কোম্পানীগঞ্জ-সালুটিকর-গোয়াইনঘাট-হাদারপার এলাকায় যাতায়াতের জন্য পাঁচটি বড় ব্রিজের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যেই এগুলোর কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যাবে বলে আশা করছি। এছাড়াও সিলেটের গোয়াইনঘাট পর্যন্ত রেলযোগাযোগ চালু করা হবে।”
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে অতিরিক্ত ছয়জন সার্ভেয়ার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ফল উৎসবে দেশীয় ফলের ঐতিহ্য সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “দেশীয় মৌসুমি ফল শুধু পুষ্টির চাহিদা পূরণই করে না, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আগে শ্বশুরবাড়ি থেকে আম-কাঁঠাল পাঠানোর যে ঐতিহ্য ছিল, তা এখন অনেকটাই ভুলে যাওয়ার পথে।
“লন্ডন, আমেরিকা, কানাডা বা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফলের চেয়ে আমাদের দেশীয় ফলের স্বাদ ও মান অনেক ভালো। এই ঐতিহ্যবাহী ফলগুলোকে আমাদের রক্ষা করতে হবে এবং বেশি করে ফলের গাছ লাগাতে হবে। ফল উৎপাদন ও বিপণনের জন্য প্রফেশনাল ট্রেনিংয়েরও ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’’
ফল উৎসবে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘‘গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয় বরং সমাজ পরিবর্তন, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং উন্নয়নের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা রাষ্ট্র ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করে, আর বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।’’
তিনি বলেন, ‘‘স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে দেশীয় ফলের বিকল্প নেই।”
পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের পাশাপাশি দেশীয় ফলের প্রচার ও প্রসারে এ ধরনের আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানা, জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল আজাদ ও তাপস দাশ পুরকায়স্থ, ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মনির, সিনিয়র সদস্য লিয়াকত শাহ ফরিদী বক্তব্য রাখেন।