Published : 14 May 2026, 02:58 PM
প্রতিদিনের অনিশ্চয়তায় মানুষ এখন বেশি খোঁজে ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্ত। কেউ গান শোনেন, কেউ বই পড়েন, কেউ আবার নিজের জন্য সময় বের করেন।
তবে আত্মযত্নের এক ভিন্ন অভ্যাস অনেকের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়। আর তা হল নিজের জন্য ফুল কেনা।
বিষয়টি হয়ত প্রথমে বিলাসিতা মনে হতে পারে। তবে একটি তাজা ফুলের তোড়া ঘরের কোণে রং যোগ করার পাশাপাশি মনেও তৈরি করে প্রশান্তি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক লেখক ওয়েন্ডি রোজ গোল্ড রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “মাসে মাসে ফুলের তোড়া কেনা অপ্রয়োজনীয় খরচ মনে হলেও পরে বোঝা যায় এই ছোট অভ্যাস-ই নিয়মিত আনন্দ দেয়, আসে মানসিক স্বস্তি।”
ফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনুভূতিরও অংশ
ফুলের আবেদন জীবনের সঙ্গে বহুদিন ধরেই জড়িয়ে আছে। জন্মদিন, বিয়ে, শুভেচ্ছা কিংবা সমবেদনা— সবক্ষেত্রেই ফুল এক ধরনের আবেগের ভাষা হয়ে ওঠে। তবে নিজের জন্য ফুল কেনার অভ্যাসটি ভিন্ন অর্থ বহন করে।
এটি অন্যের জন্য নয়, নিজের ভালো লাগার জন্য কিছু করা।
ওয়েন্ডি রোজ গোউল্ড বলেন, “ঋতু বদলের সঙ্গে ঘরে বিভিন্ন ধরনের ফুল রাখা বিশেষ আনন্দের বিষয়। কখনও বসন্তের কোমল রংয়ের ফুল, কখনও লাল গোলাপ, আবার কখনও ফুলের নরম সৌন্দর্য- সবই মন ভালো করে দিতে পারে।”
তিনি মনে করেন- ঘরের ভেতরে ফুলের উপস্থিতি শুধু সাজসজ্জা নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনে ইতিবাচক অনুভূতিও তৈরি করে।
মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব
ফুলের সঙ্গে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘হার্ভার্ড পিলগ্রাম হেল্থ কেয়ার ইন্সটিটিউট অ্যান্ড হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল’য়ের ২০২১ সালে করা গবেষণায় দেখা যায়, ঘরের ভেতরে প্রকৃতির উপস্থিতি মানুষের মানসিক চাপ ও ক্লান্তি কমাতে সহায়তা করে।
অর্থাৎ বাইরে প্রকৃতির যে প্রশান্তি মানুষ অনুভব করে, ঘরের ভেতরে ফুল রাখলেও তার কিছুটা প্রভাব পাওয়া যায়।
চীনের ‘টোনজি ইউনিভার্সিটি’র ‘কলেজ অফ আর্কিটেকচার অ্যান্ড আর্বান প্ল্যানিং’য়ের করা সাম্প্রতিক গবেষণায়, বিভিন্ন রংয়ের ফুল মানুষের অনুভূতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা বিশ্লেষণ করা হয়।
সেখানে দেখা যায়- লাল, সাদা ও হলুদ ফুল মানুষের মনে ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে হলুদ ফুল সবচেয়ে বেশি আনন্দদায়ক অনুভূতি সৃষ্টি করে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অনেক মনোবিজ্ঞানীও মনে করেন, প্রতিদিনের জীবনে ছোট ছোট সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দেওয়া মানসিক সুস্থতার জন্য জরুরি।
একটি ফুলের তোড়া হয়ত বড় কোনো সমস্যার সমাধান নয়, তবে এটি মনকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও হালকা করতে পারে।
নিজের প্রতি যত্নের সহজ উপায়
আত্মযত্ন মানেই সবসময় ব্যয়বহুল ভ্রমণ বা বড় আয়োজন নয়। কখনও কখনও একটি ছোট কাজও নিজের প্রতি যত্নশীল হতে শেখায়। এই অভ্যাস নিজের ভালো লাগাকেও গুরুত্ব দিতে শেখায়।
সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা কাজ শেষে বাড়ি ফিরে ফুলের দিকে তাকানোও এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি তৈরি করতে পারে।
সম্পর্কের উষ্ণতাও বাড়ায় ফুল
ফুল শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি সহমর্মিতা ও ভালোবাসার প্রকাশও হতে পারে।
রোজ গোউল্ড বলেন, “মানুষ সাধারণত সেই মানুষদের দীর্ঘদিন মনে রাখে, যারা কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ায় কিংবা ছোট ছোট যত্নের প্রকাশ ঘটায়। ফুল সেই প্রকাশের অন্যতম সহজ মাধ্যম। তাই নিয়মিত ফুল পাঠানো বা উপহার দেওয়া সম্পর্কের উষ্ণতা ধরে রাখার একটি উপায় হয়ে উঠতে পারে।”
বিলাসিতা নয়, ব্যক্তিগত আনন্দ
অনেকের কাছে নিয়মিত ফুল কেনা অপ্রয়োজনীয় খরচ মনে হতে পারে। কারণ ফুল দীর্ঘসময় টিকে থাকে না। তবে এটি আসলে ব্যক্তিগত আনন্দে বিনিয়োগ করার মতো বিষয়।
আরও পড়ুন
ফুলের সজীবতা ধরে রাখবেন যেভাবে