Published : 09 Oct 2025, 03:15 PM
ঘরে যত বেশি জিনিসপত্র জমে, ততই যেন বাড়ে মানসিক চাপ। পরিষ্কার রাখা কঠিন হয়, অগোছালো মনে হয়, এমনকি টাকাও বেশি খরচ হয়।
তবে ‘মিনিমালিস্ট’ বা সংযমী জীবনধারা অনুসরণ করলে এসব সমস্যা অনেকটাই কমানো যায়।
সংযমী জীবন মানে শুধু কম জিনিস রাখা নয়, বরং সচেতনভাবে বেছে নেওয়া— সত্যিই কোনটা প্রয়োজন, আর কোন জিনিস শুধুই জায়গা দখল করছে।
এই জীবনধারার ফলে ঘর গুছিয়ে রাখা সহজ হয়, সময় বাঁচে, আর খরচও কমে। ফলে সঞ্চয় বাড়ে, মানসিক শান্তিও ফিরে আসে।
গৃ্হসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন বলেন, “যদি অনেক জিনিস জমে যায়, সব একসঙ্গে ছাড়ার চেষ্টা করা ঠিক না। একবারে একটি জিনিস বেছে নিতে হবে, যা রাখতে চায় বা উপহার হিসেবে দিতে চান। পুরো স্তূপ একসঙ্গে দেখলে সেটি ভীতিকর লাগে এবং তখন মনে হয় সবই রাখি।”
বিশেষ ধরনের যন্ত্র বা টুল
আজকাল বাজারে নানা ধরনের ‘নতুন’ বা ‘অবশ্যই দরকারি’ যন্ত্র পাওয়া যায়— পাস্তা বানানোর মেশিন, এয়ার ফ্রায়ার ইত্যাদি।
তবে ‘মিনিমালিস্ট’রা ভাবেন— এগুলো কতটা প্রয়োজনীয়?
একাধিক কাজ করতে পারে এমন সাধারণ যন্ত্রই মিনিমালিস্ট বাড়িতে পাওয়া যাবে। কারণ যা দৈনন্দিন জীবনে বড় পরিবর্তন আনে না, তা ঘরে রাখা অপ্রয়োজনীয় বোঝা।
স্মারক বা সাজসজ্জার ছোট জিনিস
ভ্রমণে কেনা কাপ, শোপিস বা শেলফে রাখা ছোট ফুলদানিগুলো হয়তো মনে করিয়ে দেয় অতীত ভ্রমণের কথা। তবে এগুলো জমতে জমতে ঘরে অগোছালো-ভাব এনে দেয়।
মিনিমালিস্টরা এমন জিনিস রাখতে চান না যা কেবল ধুলো জমায়।
তারা বরং পছন্দ করেন ব্যবহারযোগ্য স্মারক, যেমন- ভ্রমণ থেকে আনা মসলা বা খাবার, যা ব্যবহার করেও স্মৃতি জিইয়ে রাখা যায়।
অপ্রয়োজনীয় বই
মিনিমালিস্টরা বই ভালোবাসেন না, এমন নয়। তবে তারা রাখেন শুধুই প্রিয় বা প্রয়োজনীয় বই। যেগুলো বারবার পড়ার সম্ভাবনা নেই, সেগুলো তারা লাইব্রেরিতে দেন বা উপহার করেন।
তারা প্রায়ই ই-রিডার ব্যবহার করেন বা বই শেষ হলে সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনে দিয়ে দেন, যাতে বই অন্যের কাজে লাগে।
একই ধরনের একাধিক জিনিস
একই ধরনের একাধিক জিনিস রাখা মিনিমালিস্টদের কাছে অপ্রয়োজনীয়। যেমন- পাঁচ জোড়া স্নিকার্স বা তিন সেট সস প্যানের দরকার নেই।
তাদের নিয়ম সহজ— এক বা দুইটি রাখুন, এবং পুরানোটি নষ্ট হলে তবেই নতুন কিনুন।
সাময়িক ফ্যাশন বা ট্রেন্ডি পোশাক
যে পোশাকের ফ্যাশন এক মুহূর্তেই চলে যায়— যাকে বলে ‘মাইক্রোট্রেন্ড’। মিনিমালিস্টরা সেটিতে আগ্রহী নন।
তারা বিনিয়োগ করেন এমন কিছু পোশাকে, যা বছরের পর বছর ব্যবহার করা যায়। দেখতে ক্লাসিক এবং সময়হীনভাবে আকর্ষণীয়।
এই কারণেই মিনিমালিস্টরা সাধারণত ক্যাপসুল ওয়ার্ডরোব পদ্ধতি অনুসরণ করেন। যেখানে প্রতিটি মৌসুমের জন্য কিছু নির্বাচিত পোশাক থাকে, যা একে অপরের সঙ্গে সহজে মেলানো যায়।
তবে এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়। আর তা হল- সংযমী জীবনধারা মানে খরচ না করা নয়, বরং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খরচ করা।
কারণ, সস্তা ট্রেন্ডি পোশাক দ্রুত নষ্ট হয়। আর মানসম্মত পোশাক দীর্ঘদিন টেকে। তাই একবারের বেশি খরচে তারা আসলে দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয় করেন।
অতিরিক্ত গয়না বা অনুষঙ্গ
মিনিমালিস্টরা অলঙ্কার বা সাজসজ্জার জিনিসে বাড়তি খরচ করেন না। তাদের কাছে কয়েকটি নির্ভরযোগ্য, চিরকালীন পছন্দই যথেষ্ট। যেমন- একটি প্রিয় হার, একটি ক্লাসিক ঘড়ি, এবং একটি ভালো মানের ব্যাগ।
এই কয়েকটি জিনিস দিয়েই তারা সহজ, তবে মার্জিতভাবে নিজেদের সাজিয়ে তোলেন। তাদের পোশাক ও গয়নার মধ্যে থাকে ভারসাম্য ও পরিমিত সৌন্দর্য।
একবার ব্যবহারযোগ্য জিনিস
একবার ব্যবহার করে ফেলে দিতে হয় এমন জিনিস, যেমন- প্লাস্টিকের পানির বোতল, কাগজের প্লেট, বা অন্যান্য ‘ডিসপোজেবল’ সামগ্রী মিনিমালিস্টদের ঘরে খুব একটা দেখা যায় না।
এই ধরনের জিনিস ঘরে জায়গা নেয়, আর ব্যবহারের পর জমে যায় আবর্জনার পাহাড়ে।
তাই মিনিমালিস্টরা বেছে নেন টেকসই বিকল্প। যেমন- পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল, সিরামিক প্লেট, বা কাচের গ্লাস। এতে শুধু ঘর গোছানো থাকে না, পরিবেশও সুরক্ষিত থাকে।
শুধু মূল্যহ্রাস চলছে বলে কেনাকাটা
অনেক সময় ‘সেল চলছে’ শুনেই কিনে ফেলি এমন কিছু, যার প্রয়োজনই নেই। পরে সেগুলো আলমারিতে পড়ে থাকে, ঘরে জায়গা নেয়, এবং শেষমেশ বাড়ায় অগোছালো ভাব।
তবে মিনিমালিস্টরা কেনাকাটা করেন কেবল তখনই, যখন সত্যিই কিছু প্রয়োজন হয়। সেটি ‘সেল’য়ে থাকুক বা না থাকুক।
আরও পড়ুন
‘মিনিমালিস্ট গিফ্ট’: অপচয় রোধে অর্থপূর্ণ উপহার