Published : 06 Jan 2026, 02:37 PM
শীতের সময়ে শাড়ি পরতে গিয়ে একটি বিষয় প্রথমেই ভাবতে হয়; তা হল- শাড়ি পরব কীভাবে, যাতে ঠাণ্ডাও না লাগে আবার স্টাইলেও ঘাটতি না পড়ে?
শীতের সময় শাড়ির সৌন্দর্য অনেকটাই নির্ভর করে ব্লাউজের ওপর। সঠিক কাপড়, হাতার ডিজাইন আর গলার কাটিং বেছে নিতে পারলে শাড়ির ‘লুক’ হয়ে উঠতে পারে আরও ফ্যাশনাবল ও শীতে আরামদায়ক।
যে কাপড়ে উষ্ণতা বেশি
শীতের ব্লাউজের প্রথম শর্তই হল- উষ্ণতা। গরমকালে সুতি বা হালকা সিল্ক আরামদায়ক মনে হয়। তবে শীতে এই ধরনের কাপড় পর্যাপ্ত উষ্ণতা দিতে পারে না।
“শীতের দিনে ভেলভেট ব্লাউজ সবচেয়ে জনপ্রিয়, কারণ এটি রাজকীয় ভাব দেওয়ার পাশাপাশি শরীরের তাপ ধরে রাখে। হালকা উল মিশ্রিত কাপড়ের ব্লাউজ শাড়ির সঙ্গে বেশ মানানসই এবং দীর্ঘ সময় পরলেও অস্বস্তি হয় না। খুব বেশি ঠাণ্ডা না থাকলে ঘন বুননের খাদি বা হ্যান্ডলুম কটন ব্লাউজও ভালো বিকল্প হতে পারে” বলেন কে ক্রাফটের কর্ণধার খালিদ মাহমুদ খান।
এছাড়া সিল্ক ব্লাউজের ভেতরে যদি উষ্ণ লাইনিং দেওয়া থাকে, তবে সেটিও শীতকালে আরামদায়ক হয়ে ওঠে।
শীতে আরামদায়ক ও স্টাইলিশ হাতার ধরন
হাতা শীতের ব্লাউজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সঠিক হাতা যেমন ঠাণ্ডা আটকাতে সাহায্য করে, তেমনি পুরো ‘লুক’য়েও যোগ করে ফ্যাশনের ছোঁয়া।

‘ফুল স্লিভ’ ব্লাউজ শীতের ক্লাসিক পছন্দ, বিশেষ করে ভেলভেট, নরম কাতান বা সিল্কের ফুল হাতার ব্লাউজ শাড়ির সঙ্গে পরিপাটি ও আভিজাত্যপূর্ণ লুক দেয় বলে মনে করেন- এই ফ্যাশন বিশারদ।
যারা একটু ফ্যাশনেবল কাট পছন্দ করেন, তাদের জন্য ‘বেল স্লিভ’ বা ‘ফ্লেয়ার হাতা’ ভালো বিকল্প; হাতার নিচের দিকে চওড়া কাটিং শীতের বিকেলের অনুষ্ঠান বা নৈশভোজে বেশ মানানসই।
হাতার শেষে ‘কাফ’ থাকলে ভেতরের তাপ বাইরে যেতে পারে না এবং ব্লাউজে আসে স্মার্ট ও ফরমাল ভাব।
হালকা শীতের দিনে ‘লেয়ার্ড’ বা ‘ডাবল লেয়ার’ হাতার ব্লাউজও বেশ ট্রেন্ডি, যেখানে ভেতরের স্তর দেয় উষ্ণতা আর বাইরের স্তর যোগ করে স্টাইল।
শীতবান্ধব গলার কাট: আরাম ও ফ্যাশনের সমন্বয়
শীতকালে খুব বেশি খোলা গলার ব্লাউজ অনেক সময় অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। তাই গলার কাট বাছাইয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।
‘হাই নেক’ বা ‘কলার নেক’ ব্লাউজ শীতের জন্য আদর্শ। বিশেষ করে ভেলভেট, কাতান, সিল্ক ‘হাই নেক’ ব্লাউজ শাড়ির সঙ্গে দারুণ মানায়।
‘বোট নেক’ এমন এক ধরনের কাট, যা খুব বেশি খোলা নয় আবার পুরো বন্ধও নয়। এই ভারসাম্যের জন্য শীতের দিনে এটি বেশ আরামদায়ক।
হালকা ‘স্কয়ার নেক’, যদি খুব ‘ডিপ’ না হয়, তাহলে তা শাড়িতে আধুনিক ভাব দেয় এবং শীতেও অস্বস্তি হয় না।
অফিস বা দিনের বেলার অনুষ্ঠানের জন্য ‘কলার নেক’ বা শার্ট স্টাইল গলার ব্লাউজ খুব স্মার্ট দেখায় এবং ঠাণ্ডা থেকেও কিছুটা সুরক্ষা দেয়।

জ্যাকেট কাটিং ব্লাউজ: শীতের স্টাইল স্টেটমেন্ট
জ্যাকেট কাটিং ব্লাউজ শীতের শাড়ি ফ্যাশনের অন্যতম বড় ট্রেন্ড। এই ধরনের ব্লাউজ সাধারণত সামনে বোতাম বা লেয়ার্ড ডিজাইনে তৈরি হয়, যা দেখতে যেমন স্টাইলিশ, তেমনি শীতের জন্য কার্যকর।
“ভেলভেট বা উলের জ্যাকেট কাটিং ব্লাউজ শীতকালে সবচেয়ে বেশি আরাম দেয়। এসব ব্লাউজে সাধারণত ফুল হাতা বা থ্রি-কোয়ার্টার হাতাই রাখা হয়”- বলেন, খালিদ মাহমুদ খান।
জামদানি, কাতান কিংবা সাদামাটা শাড়ির সঙ্গে এই ধরনের ব্লাউজ দারুণ মানিয়ে যায়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এই ব্লাউজ আলাদা করে সোয়েটার বা শাল ছাড়াও পরা যায়।
কেপ স্টাইল ও শ্রাগ ব্লাউজ
শাড়ির সঙ্গে একটু আলাদা ও স্টেটমেন্ট লুক পছন্দ করলে ‘কেপ স্টাইল’ ব্লাউজ দারুণ বিকল্প। এক্ষেত্রে ব্লাউজের ওপরেই ‘কেপ’ যুক্ত থাকে, যা গলা ও কাঁধ ঢেকে রাখে এবং শীতের সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে যা পড়িপাটি ও রাজসিক লুক দেয়।
এ ছাড়া শ্রাগ-স্টাইল ব্লাউজও এখন বেশ জনপ্রিয়, যেখানে ব্লাউজের সঙ্গে ছোট জ্যাকেট বা শ্রাগ যুক্ত থাকে। এই ডিজাইন শীতের জন্য যেমন আরামদায়ক, তেমনি শাড়ির লুকে যোগ করে আধুনিকতা।
লেয়ারিং ব্লাউজ: শীতে ফ্যাশনের বুদ্ধিমান কৌশল
শীতের শাড়ি ফ্যাশনে লেয়ারিং একটি বুদ্ধিমান ও কার্যকর কৌশল। ইনার হিসেবে স্লিম হাই নেক ব্লাউজ পরে তার ওপর স্লিভলেস বা হাফ স্লিভ ব্লাউজ পরা যেতে পারে।
আবার চাইলে ব্লাউজের ওপর হালকা কেপ বা জ্যাকেটও যোগ করা যায়।
এই লেয়ারিং স্টাইল ঠাণ্ডা আটকানোর পাশাপাশি শাড়ির লুককে করে আধুনিক ও স্টাইলিশ।

রং ও অলংকরণ: শীতের ব্লাউজে যা মানানসই
শীতকালে গাঢ় রংয়ের ব্লাউজ বেশি মানায় এবং এসব রং দেখতেও উষ্ণতার অনুভূতি দেয়। মেরুন, বারগান্ডি, নেভি ব্লু, এমেরাল্ড গ্রিন, মাস্টার্ড ও ডিপ পার্পল বা গাঢ় বেগুনি- এই রংগুলো শীতের শাড়ির সঙ্গে বিশেষভাবে মানানসই।
অলংকরণের ক্ষেত্রে মাঝারি ধরনের ভারী এমব্রয়ডারি, জরি, লেইস বা বোতামের কাজ ব্লাউজকে ফ্যাশনেবল করে তোলে।
অতিরিক্ত ভারী কাজ শীতে ব্লাউজকে অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে, তাই সংযত অলংকরণে ফ্যাশন ও আরাম দুটোই মিলবে।
আরও পড়ুন