Published : 03 Jul 2023, 01:15 PM
জমা পানিতে মশা ডিম পাড়ে। তাই তিন দিনের জমা পানি ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে বিভিন্ন কারণে মশা আকৃষ্ট হয়ে ঘরে ঢোকে, সেই ব্যাপারগুলো অনেকেরই অজানা।
জমে থাকা পানি সঠিকভাবে না সরানো
কয়েকদিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে। জায়গায় জায়গায় পানি জমে থাকছে। উঠানে বা বারান্দায় যদি কয়েকদিন ধরে পানি জমে থাকে তবে মশার উপদ্রোব বাড়বেই।
এই ব্যাপারে গৃহ-উন্নয়ন-বিষয়ক মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যাঞ্জি’স লিস্ট’য়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও গ্রাহক সেবা’র প্রধান অ্যাঞ্জি হিক্স বলেন, “জীবনচক্রের প্রথম তিন ধাপে বেঁচে থাকতে মশাদের পানি প্রয়োজন হয়। তাই জমে থাকা পানি হয় মশাদের ঘরবাড়ি, যেখানে তারা বেড়ে ওঠে।”
রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি আরও বলেন, “বারান্দার ড্রেনে ময়লা জমে থাকা, মাঠের পানি ঠিক মতো না সরা, কোনো ছোট গর্তে বা কৌটা বা টায়ারের মধ্যে পানি কয়েকদিন জমে থাকলেই সেখানে মশারা ডিম পাড়বেই।”
তাই ড্রেনের সমস্যা থাকলে সেটা সারাই করতে হবে। জমা পানি সরানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
ময়লা জমে থাকা
উঠান, বাসার আশপাশ বা বারান্দা যদি ঠিক মতো পরিষ্কার না থাকলে মশার সমস্যা দেখা দেবে। কারণ বাতাস ও ক্ষতিকর বিষয় থেকে রক্ষা পেতে মশারা বিভিন্ন জিনিসের ধ্বংসাবশেষের আড়ালে কোণায় আশ্রয় নেয়।
“বংশবৃদ্ধি ও নিজেদের রক্ষা করতে মশাদের ঘরবাড়ি হিসেবে এসব জায়গা নিরাপদ। তাই বাড়ির উঠান, বারান্দা, ছাদ, বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ভাঙাচোরা কোনো জিনিস রাখা যাবে না”, পরামর্শ দেন হিক্স।
ঘাস না কাটা
উঠানে বা বাড়ির সামনে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে বাগানের জায়গায় ঘাস বড় হয়ে গিয়েছে, ছেঁটে রাখা হয়নি অনেকদিন। তবে সেখানে মশার উপদ্রোব হবেই।
হিক্স বলেন, “জমে থাকা পানির সাথে ঘন ঘাস মশাদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য যথেষ্ট। সেখানে তারা নিরাপদে থাকতে পারে, বংশবৃদ্ধির জন্যেও সুবিধাজনক। তাই এসব জায়গায় ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি ঘাস ও জঙ্লা লতাপাতা কেটে পরিষ্কার রাখতে হবে।”
খাবারের উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকা
মশারা মিষ্টি গন্ধে আকৃষ্ট হয়। যেমন- ঘরের বাইরে বারবিকিউ করা হলে- বারবিকিউ সস বা পড়ে থাকা কেক, বিস্কুটের টুকরার গন্ধে মশা চলে আসবে।
তাই খাবার ঢেকে রাখার পরামর্শ দেন হিক্স।
আরও বলেন, “এছাড়া বারান্দা, উঠান ও ঘরের চারপাশে যেন খাবারের উচ্ছিষ্ট না থাকে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আর যত্রতত্র এঁটো খাবার ফেলার অভ্যাস থাকলে সেটা বন্ধ করতে হবে।”
অতিরিক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইড
মশারা বিভিন্ন উপাদান শনাক্ত করতে পারে, এর মধ্যে একটি হল কার্বন ডাইঅক্সাইড।
“তারমানে হল আমরা নিঃশ্বাসের সাথে যে কার্বন ডাইঅক্সাইড ছাড়ছি সেটাতেও মশা আকৃষ্ট হয়। এই সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে ‘মসকিউটো রিপেলেন্টস’ ব্যবহার করা যায়”, বলেন হিক্স।
মোমবাতি, বডি স্প্রে, লোশন ও ক্রিম আকারে বাজারে নানান ধরনের ‘মসকিউটো রিপেলেন্টস’ পাওয়া যায়। সেগুলোতে ‘লেমন ইউক্যালিপ্টাস অয়েল’, ‘ডিইইটি’ বা ‘পিকারিডিন’ এসব উপাদান থাকলে কার্যকর বেশি হবে।
এছাড়া ‘মসকিউটো-রিপেলিং প্ল্যান্টস’ বা মশা-তাড়াবার গাছও প্রাকৃতিকভাবে পোকা ও মশা দূর করতে পারে। এসব গাছের মধ্যে রয়েছে- লেমন বাম, ল্যাভেন্ডার, সিট্রোনেলা, ক্যাটনিপ, মারিগোল্ড, বেসিল, পেপারমেন্ট, রোজমেরি, পেনিরয়াল এবং সেইজ।
আরও পড়ুন