Published : 30 Jun 2026, 07:36 PM
নানা আয়োজনে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১৭১তম সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উদযাপিত হয়েছে।
সাঁওতাল সমাজকল্যাণ পরিষদ জেলা কমিটির উদ্যোগে শহরের ভানুগাছ রোডের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে মঙ্গলবার দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এর মধ্যে ছিল শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শত শত সাঁওতাল নারী-পুরুষ আয়োজনে অংশ নেয়।
সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির শুরু হয়। পরে সেখানে সাঁওতাল বিদ্রোহের নেতা সিধু ও কানুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

উদ্বোধনের পর ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত সাঁওতাল নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে একটি শোভাযাত্রা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
পরে বালিশিরা ভ্যালির সাঁওতাল পরগানার প্রবীণ সুজিত সাঁওতালের সভাপতিত্বে এবং দুলাল সাঁওতাল ও স্বপন সাঁওতালের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয় বনিক, শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও একুশে টেলিভিশনের মৌলভীবাজার প্রতিনিধি বিকুল চক্রবর্তী, বাংলাদেশ চা শ্রমিক আদিবাসী ফ্রন্টের সভাপতি পরিমল সিং বারাইক, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি লুৎফুর রহমান, শ্রীমঙ্গল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি মশিউর রহমান রিপন, হাজী আব্দুল গফুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক প্রদীপ সাঁওতাল, সাঁওতাল সমাজের নেতা রাজচরণ সাঁওতাল, কল্লোল সাঁওতাল, শ্যামল সাঁওতাল, নিশেশ সাঁওতাল, বিষু সাওঁতাল, জয়মনি সাঁওতাল।

বক্তারা বলেন, ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আত্মমর্যাদা, অধিকার ও অস্তিত্ব রক্ষার এক ঐতিহাসিক সংগ্রাম। সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরব, ফুলমনি ও ঝানুর আত্মত্যাগ উপমহাদেশের মুক্তি-সংগ্রামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নতুন প্রজন্মের কাছে এ গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরা এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
সভা শেষে গুণীজন সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে সাঁওতাল ভাষায় সংগীত এবং সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশিত হয়।