Published : 30 Jun 2026, 08:25 PM
টেস্টের প্রথম দিনে ১৪০ রানে গুটিয়ে যাওয়া মানে ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকে পড়া। তবে তিন দিনও টিকবে না টেস্ট, এটা কজনই বা ভাবতে পেরেছিলেন! বাংলাদেশের ব্যাটিং মুখ থুবড়ে পড়েছে দ্বিতীয় ইনিংসেও। বিব্রতকর পরাজয়ের পর ব্যাটিং ব্যর্থতার কথাই বললেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
হারারে টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছে ইনিংস ও ৮৫ রানে। জিম্বাবুয়ের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় এটি। তাদের কাছে বাংলাদেশ ইনিংস ব্যবধানে হারল ২৫ বছর পর।
প্রথম ইনিংসে ১৪০ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ করতে পারে স্রেফ ১৮৫ রান। দুই ইনিংস মিলিয়েও ১০০ ওভার ব্যাট করতে পারেনি শান্তর দল। প্রথম ইনিংসে তবু ৬০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মুমিনুল হক। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫ ছুঁতে পারেননি কেউ।
তবে শান্তর মতে, প্রথম ইনিংসেই সর্বনাশ হয়ে গেছে।
“প্রথম ইনিংসে আমরা ভালো ব্যাট করতে পারিনি। এটির খেসারতই দিতে হয়েছে। পুরো ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগই ভালো করতে পারেনি, বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে। সম্প্রতি আমরা ভালো ক্রিকেট খেলছিলাম। তবে এখানে কন্ডিশন ছিল ভিন্ন। আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কিন্তু পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারিনি।”
ম্যাচের প্রথম দিনে এক পর্যায়ে বাংলাদেশের রান ছিল ২ উইকেটে ১১৩। সেখান থেকে ২৭ রানেই পতন হয় পরের ৮ উইকেটের।
বাংলাদেশের কোচ ফিল সিমন্স বললেন, ম্যাচটা ওখানেই বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। জিম্বাবুয়েকেও কৃতিত্ব দিলেন তিনি।
“অনেক কিছুই অন্যভাবে করা যেত। আমার মনে হয়, প্রথম দুই ঘণ্টা আমরা খেলায় ছিলাম। কিন্তু প্রথম দিনের লাঞ্চ ও চায়ের বিরতির মধ্যে আমরা যেভাবে ব্যাটিং করেছি, তাতেই ম্যাচটা হেরেছি। ওই সময়ে ব্যাটিংয়ে আরেকটু মনোযোগ দিলে আমরা এই ম্যাচে আরও ভালো ফল করতে পারতাম, কিন্তু আমরা ব্যাট হাতে ভালো করিনি।”
“তারা (জিম্বাবুয়ে) আমাদের চেয়ে ভালো ব্যাট করেছে। উইকেট বুঝে ঠিকঠাক খেলেছে। ঘরের মাঠে খেললে এমনটাই হয়; কন্ডিশন সম্পর্কে জানা থাকে। চেনা কন্ডিশনে ব্যাটিং ও বোলিং ভালো করারই কথা। সামগ্রিকভাবে, ব্যাট ও বল হাতে তারা আমাদের চেয়ে ভালো করেছে।”
প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতার পর লড়াই করার সুযোগ ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে। সেক্ষেত্রে অন্তত ইনিংস পরাজয় এড়ানোর সুযোগ থাকত। বাংলাদেশ চরমভাবে ব্যর্থ সেখানেও।
সেই ব্যর্থতা মেনে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় জানালেন কোচ। দলের আত্মশ্বিাস অটুট আছে বলেও দাবি তার।
“এসব আমাদেরই ভুল। ওরা ভালো খেলেছে, কিন্তু আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি। এটা মেনে নেওয়া কঠিন, কিন্তু আমাদের এটা মেনে নিতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে, এই অবস্থা থেকে যে বেরিয়ে আসতে পারি।”
“ম্যাচটা হেরে গেলেও আমাদের আত্মবিশ্বাস এখনও অনেক বেশি। আমরা টানা প্রায় পাঁচটি (চারটি) টেস্ট ম্যাচ জিতেছি, তাই আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি। আমরা ব্যাটিং খুব ভালো করে আসছি। তাই একটি টেস্ট ম্যাচের পারফরম্যান্স আমাদের আত্মবিশ্বাসে কোনো পরিবর্তন আনছে না। আমরা যে সঠিক কাজগুলো করতে পারিনি বলেই টেস্ট ম্যাচটা হেরেছি, এই সত্যটা আমরা মেনে নিয়েছি এবং সেখান থেকেই আমরা এগিয়ে যাব। হার থেকে কিছু আমরা শিখি।”
টেস্ট শেষে দু্ই এখন মুখোমুখি হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে। হারারেতেই সিরিজটি শুরু সোমবার।