২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

কে হবেন উত্তরসূরি? স্টোকসের শতভাগ আস্থায় ব্রুক

বেন স্টোকসের আচমকা অবসরের পর নতুন সঙ্কটে ইংলিশ ক্রিকেট।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jun 2026, 01:17 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:32 PM

বেন স্টোকসের অধ্যায় তো শেষ। এরপর ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে কে? স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয়ভাবেই দায়িত্বটি পাওয়ার কথা হ্যারি ব্রুকের। তিনিই তো সহা-অধিনায়ক। তবে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজেই একটি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন জো রুট। সংশয় তাই জাগছে। স্টোকস অবশ্য বিদায়ের আগে ব্রুকের ওপরই সবটুকু ভরসার কথা জানিয়ে গেলের। 

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে গেলেন স্টোকস। সিরিজের শেষ টেস্টের শেষের আগের দিন আচমকা এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে চমকে দেন তিনি গোটা ক্রিকেট বিশ্বকেই। 

ইংলিশ ক্রিকেট আপাতত ধাতস্থ হওয়ার চেষ্টা করছে। স্টোকসের চুক্তি ছিল আগামী বছর পর্যন্ত। তাই নতুন অধিনায়ক নিয়ে কোনো ভাবনা তাদের ছিল না। এখন নতুন অধিনায়ক ঠিক করতে হবে কর্তাদের। 

সহ-অধিনায়ক হিসেবে ব্রুকেরই দায়িত্ব পাওয়ার কথা। তবে ব্যাপারটি এতটা সহজও নয়। এই সিরিজেই দ্বিতীয় টেস্টে যখন নাইটক্লাব বিতর্কে অনুপস্থিত ছিলেন স্টোকস, তখন ব্রুককে নয়, অধিনায়ক করা হয়েছিল জো রুটকে। 

সাদা বলের ক্রিকেটের দুই সংস্করণে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ব্রুক। সংবাদমাধ্যমের খবর, তিন সংস্করণে একজনের ওপরই অধিনায়ত্বের ভার চাপাতে চায় না ইংল্যান্ডের ম্যানেজমেন্ট।

ব্রুককে টেস্ট অধিনায়ক করা হলে সাদা বলের একটি সংস্করণে স্যাম কারান কিংবা জেকব বেথেলকে অধিনায়ক করা হতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত যেটাই হোক, স্টোকস তার ভাবনা জানিয়ে রাখলে। ব্রুককেই উপযুক্ত উত্তরসূরি মনে করেন তিনি। 

“তাকে এই দলের সহ-অধিনায়ক হতে বলার পেছনে তো কারণ আছে। আমি জানি যে, গত কয়েক সপ্তাহের যাবতীয় বিতর্কের কারণে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল (রুটকে নেতৃত্ব দেওয়া)। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার প্রক্রিয়ায় আমি ছিলাম না।”

“তবে নির্দিষ্ট কিছু কারণেই কাউকে দলের সহ-অধিনায়ক হতে বলা হয়। আমি জো (রুট)-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন সহ-অধিনায়ক ছিলাম এবং এটি একটি স্বাভাবিক অগ্রগতি। যদি অধিনায়ক অনুপস্থিত থাকেন, তবে সহ-অধিনায়ককেই দায়িত্ব নিতে হয়। সুতরাং, হ্যারির এই দায়িত্ব না নেওয়ার কোনো কারণই নেই।”

ব্রুক এই দলের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন। নেতৃত্ব তার জন্য বাড়তি ভাড় হবে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। তবে স্টোকসের মনে এমন কোনো প্রশ্ন বা সংশয় নেই।

“নিঃসন্দেহে সে অসাধারণ এক ক্রিকেটার, এই দলের সিনিয়র ক্রিকেটাদের একজন, কিন্তু আমরা সবাই জানি যে, ব্যাটসম্যান হিসেবে তার দক্ষতা অসাধারণ। এই দলকে নিয়ে তার কাঁধে যদি আরেকটু বেশি দায়িত্ব আসে, আমরা জানি না, তার বিদ্যমান দক্ষতার আর কোনো উন্নতি হবে কি না। সেটা সময়ই বলবে। তবে এমন কাউকে নিশ্চয়ই সহ-অধিনায়ক করা হয় না, প্রয়োজনের সময় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো দক্ষতা ও সামর্থ্য যার নেই।”

“তাই আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় যে, আমার মতে কার এই দায়িত্ব পালন করা উচিত, হ্যারি ব্রুকের প্রতি আমার শতভাগ সমর্থন জানাচ্ছি।”

ব্রেন্ডন ম্যাককালামের কাছেও স্কাই স্পোর্টস জানতে চেয়েছিল পরবর্তী অধিনায়ক নিয়ে। এখনই তাড়ার কিছু দেখেন না ইংল্যান্ডের কোচ। স্টোকসের বিদায়ে ধাক্কা খেলেও সামলে নেওয়ার কথাও বললেন তিনি।

“এই আলোচনাগুলো যথাসময়ে করতে হবে আমাদের। পরের টেস্ট সিরিজের আগে আমাদের হাতে কয়েক সপ্তাহ বেশি সময় আছে, এবং তখন আমরা একসঙ্গে বসে এর রূপরেখা কেমন হবে, তা ঠিক করার জন্য একটি ভালো সুযোগ পাব। ভালো দিকটা হলো, আমাদের দলে কজন ভালো নেতা আছে এবং কাজে লাগানোর মতো কিছু বিকল্পও আমাদের হাতে রয়েছে।”

“তারা অবশ্যই বেন স্টোকস হবেন না, কারণ বেন স্টোকস ছিলেন সম্পূর্ণ নিজস্ব ধরনের একজন নেতা, যাকে আমরা সবাই খুব পছন্দ করতাম, এবং এক্ষেত্রে কিছুটা পরিশ্রম করতে হবে, কিন্তু এটাই স্বাভাবিক। কেউই চিরকাল খেলতে পারে না, কেউই চিরকাল অধিনায়কত্ব করতে পারে না, আমরা অধিনায়ক হিসেবে স্টোকসের সময়, তার ক্যারিয়ারকে উদযাপন করতে চাই, এবং তারপর যথাসময়ে আমরা সেই সিদ্ধান্তগুলো (নতুন অধিনায়ক) নিয়ে ভাবতে শুরু করব।”

স্টোকস যার কাছ থেকে নেতৃত্ব পেয়েছিলেন, সেই রুট আবার নেতৃত্বের আলোচনা উঠে আসছেন আগের টেস্টে তাকে অধিনায়ক করায়। তাকেও জিজ্ঞেস করা হলো, আগ্রহ আছে কি না। তিনি সেই প্রসঙ্গকে পাত্তাই দিলেন না।

“আগামী কয়েকদিন বেন ও তার প্রিয়জনদের সঙ্গে তার ক্যারিয়ার উদযাপন উপভোগ করব এবং পুরোপুরি সেদিকেই মনোযোগ দেব। আমার মনে হয়, আজকের দিনটা পুরোপুরি তাকে এবং ইংলিশ ক্রিকেটের জন্য তার অর্জন ও অবদানকে কেন্দ্র করেই হওয়া উচিত।”

এমন যদি হয়, ভবিষ্যতে আবার স্টোকসকেই দেখা যায় নেতৃত্বে? এর আগে ওয়ানডেতে অববসরে গেলেও পরে ফিরে এসে ২০২৩ বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনি। এবার তেমন কোনো সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন ৩৫ বছর বয়সী অলরাউন্ডার।

“এই মুহূর্তে সবকিছু নিয়েই আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এই সিদ্ধান্ত আমি চট করে নিইনি। অনেক সময় লেগেছে। আমার কাজ শেষ। আমি খুব খুশি।”

তার পরও জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি নিশ্চিত কি না। তার জবাব, “অবশ্যই।”

পরে সংবাদমাধ্যমেও তিনি বলেন, “এখন আমি হসপিটালিটিতে (বক্সে) বসে খেলা দেখব।”