Published : 30 Jun 2026, 08:24 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে ভোটে জিতলেও ‘ঋণ খেলাপি হওয়ায়’ প্রার্থিতা বাতিল করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী।
মঙ্গলবার আপিল বিভাগের রায়ের পর সংবাদমাধ্যমে পাঠানো ভিডিও বার্তায় সীতাকুণ্ড ও পাহাড়তলী আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া আসলাম চৌধুরী এমন প্রতিক্রিয়া দেন।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করে। আপিল বিভাগের এ রায়ের ফলে আসলাম চৌধুরী আর চট্টগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচিত এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।
এখন ওই আসনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, নাকি সেখানে নতুন করে নির্বাচন হবে, আদালতের সংক্ষিপ্ত রায়ে তা স্পষ্ট হয়নি।
রায় ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এ দিন বিকেল থেকে সীতাকুণ্ড উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ করে আসলামের অনুসারীরা। ফলে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যার পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেয়।
এরমধ্যে তার মিডিয়া সেল থেকে সংবাদমাধ্যমে আসলাম চৌধুরীর ভিডিও বার্তা পাঠানো হয়।
এতে তিনি বলেন, “আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় আসেনি। পূর্ণাঙ্গ রায়ের পরে আইনি কোনো বিষয় থাকলে সবকিছু মিলে আমাদের রিভিউ করার সুযোগ থাকবে। রিভিউর মাধ্যমে আমার বিশ্বাস যে, জনগণের রায়ের প্রতিফলন হবে এবং সবকিছু মিলে আমরা বিজয়ী হব, ইনশাআল্লাহ।”
তবে এ রায়ের মাধ্যমে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ পরিচালনা করছে বলেও মনে করেন আসলাম চৌধুরী।
সীতাকুণ্ডবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন। নির্বাচনের যখন মনোনয়নপত্র দাখিল করি, রিটার্নিং অফিসার আমাদের মনোনয়নপত্র বৈধ করেছে। পরবর্তী পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন আমাদের মনোনয়ন পত্র বৈধ করেছে।
“তারা পরবর্তীতে হাই কোর্টে রিট করেছে, রিটও তাদের খারিজ করে দিয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে, আপিলের পরও আমাকে নির্বাচন করতে দিয়েছে এবং জনগণ বিপুল ভোটে আমাকে নির্বাচিত করেছে। ইতিমধ্যে আপনারা জানেন যে, আমাদের ঋণ খেলাপির যেই সংজ্ঞা ছিল, সেই সংজ্ঞা অনুসারে আমরা ওই যে প্রতিটি পর্যায়ে বৈধ হয়েছি।
“এখন যদি আপিল বিভাগ নতুন কোনো সংজ্ঞা দেয়, অবশ্যই আপিল বিভাগের রায়ের বিষয়ে আমাদের মন্তব্য করার কোনো সুযোগ থাকে না। তবে এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার যে প্রতিফলন হয় নাই, জনগণের মতামতের যে প্রতিফলন হয় নাই সেটাই হলো বিবেচ্য বিষয়।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ৩ জানুয়ারি আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক।
শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ওই আপিল খারিজ করে দিলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে তখন হাই কোর্টে আলাদা রিট আবেদন করে অভিযোগকারী দুই পক্ষ।
গত ২৭ জানুয়ারি হাই কোর্ট শুনানি শেষে রিট আবেদন দুটিও খারিজ করে দেয়; ফলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে।
হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার। গত ৩ ফেব্রুয়ারি তার আপিলের আবেদন মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ।
আদেশে বলা হয়, আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করা হলেও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী অংশ নিতে পারবেন। তবে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।
এরপর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিককে ৫৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেন বিএনপির আসলাম চৌধুরী। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ওই আসনের ফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখে। ফলে আসলামের শপথ নেওয়া আটকে থাকে।
তখন ফলাফল প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন আসলাম। অন্যদিকে আনোয়ার সিদ্দিক গত ৩১ মার্চ আপিল আবেদন করেন। ব্যাংক এশিয়া ও যমুনা ব্যাংকও আলাদা আবেদন করে। এর ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগে এ বিষয়ে শুনানি শুরু হয়।
আসলামের প্রার্থিতা বাতিল: প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ
প্রার্থিতা বাতিল, 'ঋণখেলাপি' আসলাম চৌধুরীর সংসদে যাওয়া হচ্ছে না