Published : 26 Aug 2025, 06:10 PM
অনেকেরই ধারণা দাঁতের সবচেয়ে বড় শত্রু হল চিনি। মিষ্টি খাবার খেলে দাঁতে গর্ত হয়, ক্ষয় হয়।
এ কথা ছোটবেলা থেকেই শোনা হলেও দাঁতের যত্ন নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন- শুধু চিনি নয়, আরও বেশ কিছু দৈনন্দিন খাবার দাঁতের ক্ষতির জন্য সমানভাবে দায়ী।
নিউ ইয়র্ক’য়ের দন্ত-চিকিৎসক ডা. সন্দীপ সাচার রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “খাবার দাঁতের স্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা রাখে, যা অনেক সময় মানুষ উপলব্ধি করে না।”
জেনেটিক বা বংগগতির কারণে দাঁতের এনামেল বা ওপরের আস্তরণ কিছুটা শক্ত বা দুর্বল হতে পারে, লালা উৎপাদন কম বা বেশি হতে পারে।
“তবে প্রতিদিন কী খাচ্ছি, সেটাই দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগ, এনামেল ক্ষয় এবং মুখগহ্বরের জীবাণুর ভারসাম্যের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে”- বলেন ডা. সন্দীপ।
অর্থাৎ, দাঁতের সুরক্ষায় খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সবচেয়ে বড় নিয়ামক। এমন অনেক খাবার আছে, যা চিনির মতোই দাঁতের ক্ষতি করে।
শুকনো ফল
শুকনো আম, খেজুর, কিশমিশ এসব খাবারকে স্বাস্থ্যকর মনে করে খাওয়া হয়। তবে এগুলো দাঁতের জন্য বেশ ক্ষতিকর হতে পারে।
ডা. সন্দীপ বলেন, “শুকনো ফলে প্রাকৃতিক চিনি অনেক বেশি ঘন আকারে থাকে। এগুলো আবার আঠালো প্রকৃতির হওয়ায় দাঁতে দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। ফলে দাঁতে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া খাবারের টুকরা থেকে অ্যাসিড তৈরি করে, যা এনামেল ক্ষয়ের প্রধান কারণ।“
তবে শুকনো ফল একেবারে না খাওয়ার পরামর্শ দেন না এই বিশেষজ্ঞ।
তিনি বলেন, “খাবারের সঙ্গে শুকনো ফল খেলে লালা উৎপাদন বেড়ে দাঁতের ওপর জমে থাকা চিনি ও টুকরো সহজে ধুয়ে যায়।”
বিস্কুট ও চিপস
চলতি পথে হালকা ক্ষুধা লাগলেই বিস্কুট, ক্র্যাকার বা চিপস খাওয়া হয়। তবে এগুলো দাঁতের জন্য নিরাপদ নয়।
ডা. সন্দীপ ব্যাখ্যা করেন, “এসব খাবারের মধ্যে থাকা স্টার্চ দাঁতে গিয়ে সহজে ভেঙে সাধারণ চিনিতে পরিণত হয়। চিবানোর সময় এগুলো আঠার মতো পেস্ট হয়ে দাঁতের ফাঁকে আটকে যায়। ফলে ঠিক একইভাবে দাঁতে গর্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যেভাবে মিষ্টি খেলে হয়।“
সিট্রাস বা টক ফল বেশি খাওয়া
লেবু, কমলা ধর্মী ফল ভিটামিন সি-তে ভরপুর এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে অতিরিক্ত খেলে দাঁতের ক্ষতি হতে পারে।
ডা. সন্দীপ বলেন, “এসব ফলে প্রচুর প্রাকৃতিক অ্যাসিড থাকে। নিয়মিত বেশি খেলে সেই অ্যাসিড দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে দেয়। বিশেষ করে যদি লেবু বা কমলা মুখে রেখে খাওয়া হয় বা বারবার খাওয়া হয়, তাহলে ক্ষয়ের মাত্রা বেড়ে যায়।”
তিনি পরামর্শ দেন- সিট্রাস বা টক ফল খাওয়ার অন্তত আধা ঘণ্টা পরে দাঁত ব্রাশ করতে। এতে এনামেল নরম হওয়ার সময়টায় ঘষাঘষি থেকে দাঁত রক্ষা পায়।
স্বাদযুক্ত দই
দই ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস এবং দাঁতের জন্য উপকারী। তবে বাজারে পাওয়া নানান স্বাদের দই দাঁতের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ডা. সন্দীপ বলেন, “এসব দইয়ে অতিরিক্ত চিনি মেশানো থাকে, যা দাঁতের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। যদিও দই দাঁতের জন্য ভালো, তবে যদি তাতে প্রচুর চিনি মেশানো হয়, তাহলে সেই উপকার ম্লান হয়ে যায়।
তাই কেনার আগে প্যাকেটের লেবেল দেখে নিতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সম্ভব হলে সাধারণ দই খাওয়াই ভালো।
গ্রানোলা এবং এনার্জি বার
অনেকে স্বাস্থ্যকর খাবার ভেবে গ্রানোলা বার ও এনার্জি বার খান। তবে এগুলোও দাঁতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ডা. সন্দীপ বলেন, “গ্রানোলা বা এনার্জি বারের গঠন সাধারণত আঠালো হয় এবং তাতে মধু বা শুকনা ফল মেশানো থাকে। এতে চিনি বেশি থাকার পাশাপাশি দাঁতে আটকে থাকার প্রবণতাও বেশি। ফলে দাঁতে ব্যাক্টেরিয়া জমে এনামেল ক্ষয় শুরু হয়।”
তিনি পরামর্শ দেন, যদি এসব খাবার খেতেই হয় তবে কম উপকরণ বা কম চিনি মেশানো বার বেছে নেওয়া উচিত।
দাঁত রক্ষা করার পন্থা
ডা. সন্দীপ বলেন, “এসব খাবার একেবারে বাদ দেওয়ার দরকার নেই। তবে কীভাবে এবং কখন খাচ্ছেন, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের সঙ্গে খেলে লালা উৎপাদন বেড়ে দাঁত সহজে পরিষ্কার হয়। তবে আলাদা করে নিয়মিত খেলে ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।”
তিনি আরও বলেন, “সময়মতো দাঁত ব্রাশ করা, দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করা এবং খাবারের পর মুখ ধুয়ে ফেলার অভ্যাস দাঁতের জন্য সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা।”
আরও পড়ুন
যেসব খাবার দাঁত ও মাড়ি রাখে সুস্থ
দাঁত ব্রাশের কৌশল পরিবর্তনে মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য থাকবে ভালো