Published : 23 Jul 2023, 11:59 AM
লোম ওঠানোর নানান উপায়ের মধ্যে শেইভ করা সহজ উপায়। তবে রেইজর ব্যবহারের পরে অনেক সময় দেখা দেয় ছোট ছোট ‘বাম্প’ বা ফুসকুড়ি।
সাধারণত ভুলভাবে রেইজর ব্যবহারের কারণে এরকম সমস্যা দেখা দেয়।
এই বিষয়ে ফেমিনা ডটইন’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতের ত্বক বিশেষজ্ঞ মেঘনা গুপ্তা বলেন, “রেইজর বাম্পস সাধারণত চুলকানি ও পানিযুক্ত ফোস্কা যা শেইভ করার পরে দেখা দেয়। সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে এই সমস্যা স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।”
লক্ষণ
শেইভ করার পরে যদি ত্বকে প্রদাহযুক্ত ‘বাম্পস’ বা ছোট ছোট ফোলাভাব বা ফুসকুড়ি দেখা দেয় তাহলে সেটা ‘রেইজর বাম্পস’ হিসেবে ধরে নিতে হবে। চুলকানিযুক্ত ত্বক ও ব্যথা এর অন্যতম লক্ষণ।
রেইজর বাম্পস হওয়ার কারণ
‘দিল্লি স্কিন সেন্টার’য়ের এই চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠাতা বলেন, “রেইজর বাম্পস’ হল ছোট ফোস্কা যা শেইভ করার পরে দেখা দেয় এবং চিকিৎসাশাস্ত্র অনুযায়ী একে ‘ফলিকিউলাইটিস’ বা ফলিকলের প্রদাহ বলা হয়। এটা লোম তোলার যে কোনো উপায়ের মাধ্যমেই দেখা দিতে পারে। তবে রেইজরের কারণে দেখা দিলে একে রেইজর বাম্পস বলে।”
রেইজর বাম্পস কমানোর ঘরোয়া উপায়
টি ট্রি তেল: প্রদাহ ও ব্যাক্টেরিয়া রোধী এবং অ্যান্টিসেপ্টিক উপাদান সমৃদ্ধ টি ট্রি তেল এই বাম্পস কমাতে সহায়তা করে।
কয়েকফোঁটা তেল এক বাটি গরম পানিতে নিয়ে তাতে একটা পাতলা কাপড় ভিজিয়ে নিতে হবে। আক্রান্ত স্থানে কাপড়টি হালকা চাপ দিয়ে ধরতে হবে। এতে ত্বকের প্রদাহ কমবে।
অ্যালো ভেরা: এর আরামদায়ক, আর্দ্রতা বর্ধক ও প্রদাহরোধী উপাদান ত্বকের জন্য উপকারী। অ্যালো ভেরার খাঁটি জেল প্রতিদিন আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করতে হবে।
নারিকেল তেল: টি ট্রি তেল ও অ্যালো ভেরার মতো এই তেলেও রয়েছে ব্যাক্টেরিয়া রোধী ও আরামদায়ক উপাদান। আক্রান্ত স্থানে ব্যবহারে ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে।
বেইকিং সোডার মিশ্রণ: আক্রান্ত স্থানে পানির সাথে বেইকিং সোডার মিশ্রণ মেখে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে ত্বকে বোধ হবে ঠাণ্ডা অনুভূতি।
ওটমিলের ব্যবহার: একজিমা ও সরায়েসিস’য়ের মতো ত্বকের সমস্যা কমাতে পারে। ওটমিল মিহি গুঁড়া করা গোসলের পানিতে দিয়ে আক্রান্ত স্থান ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
রেইজর বাম্পস’ প্রতিরোধের পন্থা
শেইভ করার আগে কুসুম গরম পানিতে ত্বক ভিজিয়ে নিতে হবে। গরম পানি ফলিকল কোমল করে যা মসৃণ শেইভ করার জন্য জরুরি।
সঠিক শেইভিং যন্ত্র বাছাই করতে হবে। মেয়েদের শেইভ করার রেইজর পুরুষের তুলনায় আলাদা। কারণ পুরুষের লোম নারীদের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ও মোটা হয়ে থাকে।
তাই শেইভ করার জন্য নারীদের জন্য তৈরি রেইজর ব্যবহার করা উচিত।
চুলের বৃদ্ধির দিকে শেইভ করতে হবে। এতে মসৃণ ও কোমলভাবে শেইভ করা যায়।
ধারালো ব্লেড ব্যবহার করতে হবে। সেজন্য ঘন ঘন রেইজরের ব্লেড পরিবর্তন করা উচিত। একাধিকবার ব্যবহৃত রেইজর ব্লেড ‘ইনগ্রোউন হেয়ার’ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।
সাবান বা কেবল পানি দিয়ে শেইভ করা ঠিক নয়। ঘন ফোম সৃষ্টি করে এমন জেল ব্যবহারে ত্বকের ভেতর লোম গজানো সম্ভাবনা কমায়।
শেইভ করার পরে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করত হবে। এটা ত্বকের রুক্ষতা ও জ্বলুনি কমাবে।
আরও পড়ুন