Published : 02 May 2026, 01:09 PM
রাজধানীর বনানীতে শান্ত একটি গ্যালারি। ভেতরে হালকা আলো। দেয়ালে ঝুলছে মানুষের ভেতরের গল্প। এই দলীয় চিত্রকলা প্রদর্শনীর নাম ‘আনভেইলিং অব সেলফ’।
বনানীর ২৫ নম্বর সড়কে ‘সাতোরি অ্যাকাডেমি অব আর্টস’য়ের উদ্যোগে প্রদর্শনী উদ্বোধন হয় পহেলা মে। চলবে ৮ মে, প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
‘আনভেইলিং’ মানে আড়াল সরানো; ‘সেলফ’ মানে নিজের ভেতরের সত্তা। সোজা করে বললে, এটি নিজের ভেতরের সত্যকে প্রকাশ করার প্রক্রিয়া। মানুষের ভেতরে অনেক স্তর থাকে। কিছু প্রকাশিত; কিছু লুকান।
ভয়, স্মৃতি, আঘাত, স্বপ্ন। এই সব মিলেই ভেতরের একজন মানুষ। এই প্রদর্শনী সেই লুকানো স্তর সামনে আনে।
শিল্প দৃশ্যই শুধু নয়, এটি একটি অভিজ্ঞতা, প্রশ্ন তোলে। আপনি কে, আপনার ভেতরে কী আছে। প্রদর্শনীর ছবিগুলো সেই প্রশ্নকে-ই যেন সামনে আনে।
অনেক কাজেই দেখা যায় শরীর ও মনের দ্বন্দ্ব। কিছু কাজে ভাঙন। কিছুতে পুনর্গঠন।

প্রদর্শনীর মূল ভাবনা
সাতোরি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা রুসাসভাদ বলেন “ছবি আঁকা ও মেডিটেইশন একসঙ্গে হয়। খাবার যেমন খেতে আনন্দ পাই তেমনি ছবি আঁকাতে আনন্দ অর্থাৎ কোনও কিছু দেখলে মনের মধ্যে একটা ছবি আঁকা হয়ে যায়। এই আয়োজন আত্ম-অনুসন্ধানকে কেন্দ্রে রাখে। শিল্পীরা তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।”
“কোথাও ভাঙন। কোথাও পুনর্গঠন। কোথাও নীরবতা। অনেক কাজে শরীরকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। হাত, মুখ, ছিন্ন গঠন। কিছু কাজে গাছের শিকড়ের মতো বিস্তার। এই ভিজ্যুয়ালগুলো সরাসরি কথা বলে না। আপনাকে ভাবতে বাধ্য করে”- বলেন তিনি।

অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা
প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন দশজন শিল্পী। ফাহিমা জুনাইদ, ইপ্সিতা জাহিন, লিরা বড়ুয়া, মুনিজে মানজুর, নাদিয়া রশিদ, নওশিন, রাকিবা সুলতানা, সানজিদা শারমিন, তানিয়া মনিরা, জাহীন ফারিয়া রাইসা।
তাদের মাধ্যম ভিন্ন। কেউ রেখাচিত্রে কাজ করেন। কেউ মিশ্র মাধ্যমে।
এই বৈচিত্র্য প্রদর্শনীকে গতিশীল করেছে।

কিউরেশন
প্রদর্শনীটি কিউরেট করেছেন শক্তি নোমান।
একটি দলীয় প্রদর্শনীতে বিভিন্ন কাজকে এক ভাবনায় আনা কঠিন। এখানে সেই প্রচেষ্টা দেখা যায়। সব কাজ আত্মউন্মোচনের ধারণায় যুক্ত।

উদ্বোধন
মে মাসের প্রথম দিনে বিকাল সাড়ে ৪টায়, অতিথি ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রশিদ আমিন। সঙ্গে ছিলেন সাতোরি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা রুসাসভাদ।
সাতোডরি একাডেমি অব আর্টসের পরিচালক নীশিত দে বলেন “আমাদের এখানে বিভিন্ন মেয়াদে চারুকলা বিভাগের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যারা মূলত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন, তাদের কাজ নিয়েই আজকের এই প্রদর্শনী।”

এই প্রদর্শনী দ্রুত দেখে শেষ করা যায় না
সময় নিতে হবে। একটি কাজের সামনে দাঁড়াতে হবে। নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল খুঁজতে হবে। সব কাজ বুঝতে নাও পারেন। সেটি স্বাভাবিক। শিল্পের কাজ অনুভব তৈরি করা। কিছু কাজ রেখাচিত্র। কিছুতে মিশ্র মাধ্যম।